ইতিকবাল ই কিবলা (কিবলামুখী হওয়া)

 

ইতিকবাল কিবলা (কিবলামুখী হওয়া)



কা'বা শরীফের দিকে ফিরে নামাজ আদায় করা ফরজ। মক্কাই মুকাররমা শহরে অবস্থিত কা'বা শরীফের দিককে কিবলা বলা হয়। এর আগেকুদুস্কিবলা ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় হিজরতের সতের মাস পরে শাবান মাসের মাঝের মঙ্গলবারে কা'বা শরীফের দিকে মুখ ফিরানোর আদেশ দেয়া হয়েছে।

কিবলা,মূলত কাবার দেয়াল নয় বরং স্থান। অর্থাৎ কাবার জমিন থেকে আরশ পর্যন্ত সবটুকুই কিবলার অন্তর্ভুক্ত। একারণেই সাগর কিংবা কুয়ার তলদেশ থেকে সুউচ্চ পর্বতমালা থেকে এবং বিমান থেকে কা'বার দিক বরাবর ফিরে নামাজ আদায় করা হয়। চোখের দৃষ্টিসীমার কৌণিক প্রান্তদ্বয়ের মধ্যবর্তী স্থানে কা'বা অবস্থিত হলে নামাজ সহীহ হয় তবে,

. অসুস্থতার কারণে

মালসম্পদ চুরি যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে,

হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের আশঙ্কা থাকলে,

শত্রুর আক্রমণের আশঙ্কা থাকলে,

.পশুর উপর থেকে নামলে অন্যের সাহায্য ছাড়া পুনরায় আরোহণে অপারগ হলে এবং দুই ওয়াক্তের নামাজকে জাম' অর্থাৎ যোহর আছর ওয়াক্তকে অথবা মাগরিব এশার ওয়াক্তকে, মালিকী কিংবা শাফিঈ মাজহাবের তাকলিদ করে একত্রে আদায় করা সম্ভব না হলে উপরোক্ত অবস্থাগুলিতে যেদিকে ফিরে নামাজ আদায় করা সম্ভব হয় সেদিকে ফিরেই আদায় করবে। জাহাজে,ট্রেনে বিমানে কিবলার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করা শর্ত।

নামাজের ওয়াক্তসমূহ

শ্রেষ্ঠনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদিস শরীফে বলেছেন যেহযরত জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম পবিত্র কা'বা শরীফের দরজার পাশে দুইদিন আমার ইমাম হয়ে নামাজ পড়িয়েছেন। আমরা দুজন প্রথম দিনে সুবহে সাদিকের সময় ফজরের নামাজ,সূর্যের ঠিক মাথা বরাবর থেকে সামান্য পশ্চিমে হেলে যাওয়ার পরে যোহরের নামাজ,বস্তুর ছায়া নিজ উচ্চতার সমান হওয়ার পরে আছরের নামাজ, সূর্যাস্থের পরপরি মাগরিবের নামাজ এবং পশ্চিম আকাশে আভা মিলিয়ে যাওয়ার পরে এশার নামাজ আদায় করলাম। দ্বিতীয় দিনে চারিদিক পরিষ্কার হওয়ার পরে ফজরের নামাজ,বস্তুর ছায়া নিজ উচ্চতার দ্বিগুণ হওয়ার সময়ে যোহরের নামাজ,এর পরপরি আছরের নামাজ,ইফতারের সময় মাগরিবের নামাজ আর রাতের একতৃতীয়াংশ পার হওয়ার সময়ে এশার নামাজ আদায় করলাম। এরপর হযরত জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম বলল,এই মুহাম্মদ গুলিই আপনার এবং আপনার পূর্ববর্তী পয়গম্বরদের নামাজের সময়সূচী। আপনার উম্মতও যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতিটিই এই দুদিনের সময়ের মাঝেই আদায় করে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ হওয়ার বিষয়টি হাদিস থেকেও প্রমাণিত হয়।

ফজর নামাজের ওয়াক্ত সুবহে সাদিক অর্থাৎ পূর্বাকাশ যখন আলোকিত হতে শুরু করে তখন ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সূর্যোদয়ের আগ মুহূর্তে শেষ হয়৷

যোহরের নামাজের ওয়াক্ত সূর্য যখন মধ্য আকাশ থেকে পশ্চিমে হেলতে শুরু করে অর্থাৎ যখন ছায়া দিবসের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম হয়ে পুনরায় প্রলম্বিত হতে থাকে তখন জোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। জোহরের ওয়াক্তের শেষ সময়ের ব্যাপারে দুইটি মত রয়েছে। ইমাম আবু ইউছুফ ইমাম মুহাম্মদের ()মতে ছায়া যখন বস্তুর দৈর্ঘ্যের সমান হয় তখন যোহরের ওয়াক্ত শেষ হয় আর ইমাম আবু হানিফার (.)এর মতে ছায়া বস্তুর দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ পরিমান পর্যন্ত অতিক্রম করলে ওয়াক্ত শেষ হয়।

আছরের নামাজের ওয়াক্ত যোহরের নামাজের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সাথে সাথে আছরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়।

ইমাম আবু ইউছুফ ইমাম মুহাম্মদ ()এর মতে কোন বস্তুর ছায়া যখন নিজ দৈর্ঘ্যের চেয়ে বেশী প্রলম্বিত হয় তখন আছরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

ইমাম আজম আবু হানিফা (.) এর মতে বস্তুর ছায়া যখন নিজ দৈর্ঘের দ্বিগুনের চেয়ে বেশী প্রলম্বিত হয় তখন আছরের ওয়াক্ত শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের সময় শেষ হয়

তবে সূর্য যখন রক্তিম হয়ে যায় তখন নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমী। কারণেআছরের নামাজকে মুহূর্ত পর্যন্ত বিলম্বিত করাও মাকরুহে তাহরিমী। কিন্তু কোন কারণেযদি দিনের আছরের নামাজ আদায় না করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে সূর্যের পুরোপুরি অস্তমিত হওয়া আগেই তা আদায় করা নেয়া আবশ্যক।

মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত সূর্যের পুরোপুরি অস্তমিত হওয়ার পরে শুরু হয় এবং পশ্চিম আকাশে আভা মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত স্থায়ী হয়৷ পশ্চিম আকাশের রক্তিম আভাকে শাফাক বলা হয়।

এশার নামাজের ওয়াক্ত মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয় সুবহে সাদিক পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ইমাম আবু হানিফার মতে পশ্চিম আকাশের আভা মিলিয়ে যাওয়ার পরে এশার ওয়াক্ত শুরু হয় কিন্তু ইমাম আবু ইউছুফ ইমাম মুহাম্মদের মতে পশ্চিম আকাশের রক্তিম আভা মিলিয়ে গেলেই মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হয় এশার ওয়াক্ত শুরু হয়।

এজন্য ক্ষেত্রে রক্তিম আভা মিলিয়ে যাওয়ার পরে আরো কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলে আকাশের শেষ আভাটুকুও বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রত্যেক ইমামের মতকেই অনুসরণ করা সম্ভব। বিনা কারণেইচ্ছাকৃতভাবে এশার নামাজকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করা মাকরুহ।

যে কোন নামাজই তার নির্ধারিত সময়ের পূর্বে অথবা পরে আদায় করা হারাম। এটি একটি কবিরা গুনাহ। তুর্কি সংবাদ পত্রের প্রকাশিত নামাজ এবং ইমসাক সময় সীমা পরিপূর্ণ ভাবে বর্ণীত হয়েছে।

তিন সময়ে নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমী ' এই সময়গুলোতে ফরজ নামাজ পড়তে শুরু করলেতাসহীহ হয়না। এগুলো হলো সূর্যোদয়ের সময় সূর্যাস্তের সময় এবং দিনের বেলায় সূর্য যখন ঠিক মধ্য আকাশে থাকে সেই সময়' এই তিন ওয়াক্তে আগে থেকেই প্রস্তুত হওয়া জানাজার নামাজ,তিলাওয়াত. সিজদা,সাহু সিজদা ইত্যাদি আদায় করাও জায়েজ নয়। সূর্যাস্তের সময় কেবলমাত্র দিনের আছরের নামাজ আদায় করা যার

শুধুমাত্র নফল নামাজ আদায় করা মাকরুহ এমন দুইটি ওয়াক্ত রয়েছে যার একটি হলো,ফজরের ওয়াক্তে ফরজ নামাজ আদায়ের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অপরটি হলো,আছরের ফরজ নামাজ আদায়ের পর থেকে মাগরিবের ফরজের আগ পর্যন্ত। এসময়ে নফল নামাজ আদায় করা মাকরুহ।

মেরু অঞ্চলে নামাজ রোজা:

প্রত্যেক অঞ্চলের নামাজের ওয়াক্ত বিষুবরেখা থেকে অঞ্চলের দূরত্ব ঋতুর পরিবর্তন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। উত্তর মেরুর নিকটবর্তী ঠাণ্ডা অঞ্চলসমূহে যখন সূর্যের ঝুঁক বেশী থাকে তখন সন্ধ্যা না নামতেই ভোর হয়ে যায়। একারণে বাল্টিক সাগরের উত্তরাংশে গ্রীষ্মকালে রাত না হওয়ায় এশার ফজরের নামাজের ওয়াক্ত হয় না

হানাফী মাজহাব অনুযায়ী ওয়াক্ত নামাজের শর্ত নয় বরং সবর্। একারণে ঐসব অঞ্চলে সবর্ সংঘটিত না হওয়ায়, নামাজও ফরজ হয় না। এমতাবস্থায়, ঐসব অঞ্চলে বসবাসকারী মুসলমানদের উপর গ্রীষ্মকালে এই দুই ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হবে না। দক্ষিণ মেরুতে মানুষের বসবাসযোগ্য অঞ্চল না থাকায় এরূপ সমস্যাও নাই।

শাবান মাসের শেষ রাত্রিতে কোন শহরে রমজানের চাঁদ দেখা গেলে সমস্ত দুনিয়ায় রোজা রাখা জরুরী হয়। চাঁদ দেখার সময় যেসব স্থানে দিন থাকে তারা পরবর্তী দিন থেকে রোজা শুরু করবে। মেরু কিংবা চাঁদে গমনকারী মুসলমান যদি মুসাফির না হয় তবে তার উপরও রমজান মাসের দিনগুলিতে রোজা রাখা ফরজ হয়। যেখানে দিন চব্বিশ ঘন্টার চেয়েও দীর্ঘ হয়, সেখানে ঘড়ির সময় দেখে রোজা শুরু করবে ইফতার করবে। চব্বিশ ঘন্টার চেয়ে কম সময়ে দিন হয় এমন নিকটবর্তী কোন শহরের সময়কে অনুসরণ করবে। যদি এমতাবস্থায় রোজা না রাখে তবে যখন সে দীর্ঘ দিনের স্থান থেকে বের হয় স্বাভাবিক অঞ্চলে আসবে তখন ক্বাজা আদায় করবে।)

Bengali Darpan

We are the Teacher Group. We help students to build their career and future life . We teach subjects with insper for building a future career .We are a team Group Teacher .our team is strong to guide Bengali Hon. With all Pass & Compulsory paper & Library Science with Dissertation paper BLIS & MLIS .WBSSC, UGC NET & SET, KVS ,WBPSC

Post a Comment

Previous Post Next Post

Copyright (c) 2024 Ramadan Delights India All Rights Reserved