ঈমানের শর্তসমূহ

 

ঈমানের শর্তসমূহ



ঈমানের শর্ত ছয়টি এগুলোঈমানে মুফাস্সালতথাআমান্তু বিল্লাহি নামক কালিমার দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে ঈমান যে এই নির্দিষ্ট ছয়টি বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সংশ্লিষ্ট তা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন একারণেই প্রত্যেক মুসলমান মাতাপিতার কর্তব্য হলাে নিজ সন্তানদেরকে প্রথমেই ঈমানেমুফাস্সাল' মুখস্ত করানো, একইসাথে এর অর্থ ব্যাখ্যা ভালভাবে শিখানো

ঈমানে মুফাস্সাল আমানতু বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি ওয়া বিল কাদরি খাইরিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহি তা'আলা ওয়াল বাছু বা'দাল মাউতি হাক্কুন,আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু

প্ৰথম শর্ত

আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করা

আমানতু বিল্লাহিএর অর্থ হলো আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্বকে এবং একত্ববাদকে বিশ্বাস করলাম,ঈমান আনলাম,ক্বালবের দ্বারা সত্যায়ন করলাম মুখে স্বীকার করলাম মহান আল্লাহ তা'আলার অস্তিত্ব বর্তমান এবং তিনি একক অভিধানে এক শব্দের দুই ধরণের অর্থ রয়েছে প্রথমটি হলো সংখ্যা বুঝায়,যা দুইয়ের অর্ধেক প্রথম সংখ্যা অপরটি হলো,অংশীদার সমকক্ষ কেউ না থাকার দৃষ্টিকোণ থেকে এক হওয়া মহান আল্লাহ তা'আলা এক অদ্বিতীয় এবং তার সমকক্ষ কেউ নাই তার কোন শরীক নাই অর্থাৎ,মহান আল্লাহ তায়ালার জাত সিফাত এর ক্ষেত্রে কোনভাবেই তার কোন শরীক নাই সমস্ত সৃষ্টির ব্যক্তিসত্ত্বা মৌলিক বৈশিষ্টসমূহ যেমনিভাবে তাদেরকে সৃষ্টিকারী মহান আল্লাহ্ জাত সিফাতের অনুরূপ হয় না,ঠিক তেমনিভাবে মহান স্রষ্টার জাতিসত্ত্বা সিফাতসমূহও তার সৃষ্ট কোনকিছুর জাত সিফাতের অনুরূপ হতে পারে না

সমগ্র সৃষ্টির প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রত্যেকটি কোষের স্রষ্টা তাদেরকে শূন্য থেকে অস্তিত্ব প্রদানকারী হলেন শুধুমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালামহান আল্লাহ তায়ালা জাতের হাকিকাত সম্পর্কে কারো পক্ষেই জ্ঞাত হওয়া সম্ভব নয় তার জাত সম্পর্কে মানুষের আকল কল্পনায় যা কিছুই আসে না কেন তার থেকে তিনি পবিত্র কেননা তার জাতের ধরণ সম্পর্কে ধারণা করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব একারণেই তার জাতকে কল্পনা করা বা ধারণা করা জায়েজ নয়৷ শুধুমাত্র পবিত্র কুরআনে তার যে সমস্ত ইসম্ সিফাতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেগুলিকে রপ্ত করে সে অনুযায়ী মহান আল্লাহ্ উলুহিয়্যাতকে সত্যায়ন স্বীকার করা উচিত আল্লাহ্ তায়ালা সমস্ত ইসিম সিফাতই চিরন্তন চিরস্থায়ী আর তাঁর জাত স্থান কাল পাত্রের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া থেকে যেমনিভাবে পবিত্র, ঠিক একইভাবে জ্ঞাত যেকোন দিকের সাথেও সম্পৃক্ত নয় অর্থাৎ সামনে পিছনে, ডানে-বামে, উপরে নিচে ইত্যাদি দিকের দ্বারা তাঁর অবস্থানের ব্যাখ্যা দেয়া অসম্ভব শুধুমাত্র একারণেই বলা যায় যে,তিনি সর্বত্রই হাজির নাজির রয়েছেন

মহান আল্লাহ্ তায়ালার চৌদ্দটি বিশেষ সিফাত রয়েছে এগুলো ছয়টিকে সিফাতই জাতিয়্যা আর বাকী আটটিকে সিফাতই সুবুতিয়্যা বলা হয় এগুলো কে মুখস্ত করা অর্থ সম্পর্কে সম্যক ধারনা রাখা অতীব গুরুত্বপূর্ণ সিফাত-ইজাতিয়্যা

.উজুদ আল্লাহ্ তা'আলা অস্তিত্ববান তাঁর অস্তিত্ব চিরন্তন চিরস্থায়ী তিনিওয়াজিবুল উজুদঅর্থাৎ,তাঁর অস্তিত্ব আবশ্যক

কিদাম আল্লাহ্ তা'আলার অস্তিত্বের পূর্ব বা শুরু বলতে কিছু নাই তিনি অনাদি

.বাকাআল্লাহ্ তায়ালায় অস্তিত্বের শেষ বলতেও কিছু নাই তিনি চিরন্তন - চিরস্থায়ী সর্বদা বিরাজমান তাঁর শরীক বা অংশীদার থাকা যেমনিভাবে অসম্ভব ঠিক একইভাবে তাঁর জাত সিফাতের জন্য বিলুপ্তিও অসম্ভব

. ওয়াহদানিয়্যাত, মহান আল্লাহ্ তায়ালার জাত, সিফাত কর্মের সাথে কোন কিছুরই কোন ধরণের অংশীদারিত্ব,সমকক্ষতা বা সাদৃশ্যতা নাই

. মুখালাফাতুন লিল হাওয়াদিস্ মহান আল্লাহ্ তায়ালার জাত সিফাতসমূহের সাথে কোন মাখলূকের জাত বা সিফাতের কোন ধরণের সাদৃশ্যতা নাই৷

. কিয়াম বিনাফসিহি আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর আপন জাতের উপর অধিষ্ঠিত তাঁর অস্তিত্ব কোন স্থান,কাল বা পাত্রের সাথে সম্পর্কিত নয় বস্তুজগত স্থানের সৃষ্টির পূর্বেও তিনি বিদ্যমান ছিলেন একইভাবে তিনি কোন বিষয়েই কারো প্রতি মুখাপেক্ষী নন এই সৃষ্টিজগতকে শূন্য থেকে অস্তিত্ব দানের পুর্বে তাঁর জাত বা সত্ত্বা যেমন ছিল, তেমনিভাবে অনন্তকাল বিদ্যমান থাকবে

সিফাত- সুবুতিয়্যা

.হায়াত আল্লাহ্ তা'আলা হায়াতের অধিকারী মাখলূক বা সৃষ্টির হায়াতের সাথে তাঁর হায়াতের কোন সাদৃশ্যতা নেই তাঁর হায়াত তাঁর সত্ত্বার জন্য বিশেষায়িত উপযুক্ত এবং তা চিরন্তন চিরস্থায়ী

. ইলম আল্লাহ্ তা'আলা সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত তাঁর কোন কিছু সম্পর্কিত জ্ঞান মাখলুকের জ্ঞানের মত নয় তিনি অন্ধকার রাতে কোন কালো পাথরের উপর দিয়ে কোন কালো পিঁপড়ার চলাফেরাও দেখতে পান সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন আবার মানুষের মনের গোপন চিন্তাভাবনা নিয়্যাত সম্পর্কেও পূর্ণ জ্ঞান রাখেন তাঁর জ্ঞানের কোন পরিবর্তন নাই তা চিরন্তন চিরস্থায়ী

.সামমহান আল্লাহ্ তা'আলা হলেন সর্বশ্রোতা তিনি কোন ধরণের মাধ্যম বা যন্ত্র ছাড়াই সরাসরি শ্রবণ করেন বান্দার শ্রবণ করার সাথে তাঁর শ্রবণের কোন সামাঞ্জষ্য নেই এই সিফাতটিও অন্যান্য সিফাতের মত চিরন্তন চিরস্থায়ী

. বাস্ত্র মহান আল্লাহ্ তা'আলা সর্বদ্রষ্টা তাঁর দেখাও শ্রবণের মতই কোন ধরণের মাধ্যম বা যন্ত্র ছাড়াই সম্পন্ন হয় তিনি কোন চোখের দ্বারা দেখেন না

.ইরাদা মহান আল্লাহ্ তা'আলার ইরাদা বা ইচ্ছাশক্তি বিদ্যমান তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই সৃষ্টি করেন সবকিছুই তাঁর ইচ্ছার দ্বারাই অস্তিত্ব অর্জন করে তাঁর ইরাদার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাঁধা প্রদান করতে পারে এমন কোন কুদরত বা শক্তি নাই

. কুদরত, মহান আল্লাহ্ তায়ালা সর্বক্ষমতাময় সর্বশক্তিমান তাঁর সাধ্যাতীত বলতে কিছুই নাই তাঁর পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব

. কালাম আল্লাহ্ তায়ালা তাঁর মত প্রকাশ করেন তবে তাঁর কথা বলা কোন মাধ্যম,হরফ,আওয়াজ কিংবা ভাষার মাধ্যমে নয়

.তাকভীন্আল্লাহ্ তায়ালা হলেন সর্বশ্রষ্টা তিনি ব্যতীত আর কোন স্রষ্টা নাই সবকিছুই তিনি সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতীত আর কাউকেই স্রষ্টা বলা যায় না৷

আল্লাহ্ তায়ালার এইসব সিফাতের প্রকৃত হাকিকাত বুঝতে পারাও অসম্ভব কেউই কিংবা কোন কিছুই মহান আলাহ তায়ালার সিফাতসমূহের ক্ষেত্রে অংশীদার বা সাদৃশ্য হতে পারে না

দ্বিতীয় শর্ত

ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস করা

ওয়া মালাইকাতিহি, মহান আল্লাহ্ তায়ালার ফেরেশতাদের উপর ঈমান আনলাম বলে সাক্ষ্য দেয়া তারা আল্লাহ্ তায়ালার এক ধরণের সৃষ্টি তাদের প্রত্যেকেই সর্বাবস্থায় আল্লাহ্ তায়ালার আদেশের আনুগত্য করে থাকেন তাদের দ্বারা কোন ধরণের গুনাহ সম্পাদিত হয় না তারা পুরুষ বা নারী নন একারণে তাদের মাঝে বিবাহ বলেও কিছু নাই তাদের হায়াত আছে তারা পানাহার করেন না, ঘুমান না তারা নূরানী দেহের অধিকারী আকেল তথা বিবেকবান তাদের মাঝে চারজন শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা রয়েছেন

.হযরত জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম তাঁর দ্বায়িত্ব হলো নবী রাসূলদের প্রতি আল্লাহ্ তায়ালার ওহী বহন করে নিয়া আসা তাঁদেরকে আল্লাহ্ তায়ালার আদেশ নিষেধ সম্পর্কে অবহিত করা

. হযরত ইসরাফিল আলাইহিস্ সালামসূরবা শৃঙ্ঘায় ফুঁৎকারের জন্য দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা তাঁর প্রথম ফুঁৎকারের আওয়াজ যারা শুনতে পাবে, আল্লাহ্ ব্যতীত জীবন্ত যা কিছু আছে তাদের সবাই মৃত্যুবরণ করবে দ্বিতীয় ফুঁৎকারের আওয়াজ শুনে সমস্ত জীবের পুনর্জাগরণ হবে

. হযরত মিকাঈল আলাইহিস্ সালাম রিজিক সরবরাহ করা, প্রাচুর্য কিংবা দূর্ভিক্ষের ব্যবস্থা করা, প্রতিটি বস্তুর মাঝে গতির সঞ্চার করা ইত্যাদি তাঁর দ্বায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত

. হযরত আজরাঈল আলাইহিস্ সালাম মানুষের জান কবজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা

উনাদের পরে আরো চার শ্রেণীর ফেরেশতা রয়েছেনহামালা- আরশবা আরশ বহনকারী চারজন ফেরেশতা রয়েছেন হুজুর ইলাহী বা আল্লাহ্ তা'আলার সান্নিধ্যে অবস্থানকারী ফেরেশতাদেরকেমুকাররাবুন' বলা হয় আজাব প্রদানকারী ফেরেশতাদের বড়দেরকেকারুবিয়ানআর রহমতের ফেরেশতাদেররুহানিয়ান' বলা হয় জান্নাতে দ্বায়িত্ব পালনকারী ফেরেশতাদের সর্দারের নাম রিদওয়ান আর জাহান্নামের দ্বায়িত্ব পালনকারী ফেরেশতাদের প্রধানের নাম মালিক জাহান্নামের ফেরেশতাদেরকেজাবানী' বলা হয় বিভিন্ন শ্রেণীর মাখলুকের মাঝে ফেরেশতাদের সংখ্যা সর্বাধিক আসমানে এমন কোন শূন্য স্থান নেই যেখানে ফেরেশতাদের দ্বারা আল্লাহ্ তায়ালার ইবাদত করা হয়নি

তৃতীয় শর্ত

আসমানী কিতাবসমূহের উপর বিশ্বাস

ওয়া কুতুবিহি মহান আল্লাহ্ তায়ালার নাযিলকৃত কিতাবসমূহের উপর বিশ্বাস স্থাপন করলাম বলে সাক্ষ্য দেয়া মহান আল্লাহ্ তায়ালা এই কিতাবসমূহকে কতিপয় পয়গম্বরের প্রতি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম মারফত ওহী হিসেবে প্রেরণ করেছেন অর্থাৎ পাঠ করিয়েছেন, কোন পয়গম্বরের প্রতিলাওহাবা ফলকে লিপিবদ্ধ করে পাঠিয়েছেন আর কোন পয়গম্বরের প্রতি ফেরেশতাদের মাধ্যমে না পাঠিয়ে সরাসরি গায়েবী আওয়াজের মাধ্যমে শুনিয়ে নাজিল করেছেন এগুলোর সবই আল্লাহ্ তায়ালার কালামের অন্তর্ভুক্ত এই বিবেচনায় তা চিরন্তন চিরস্থায়ী এবং মাখলূকের অন্তর্ভুক্ত নয় এগুলোর সবই হক্ব আসমানী কিতাবসমূহের মধ্য থেকে আমাদেরকে একশ চারটির ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে এগুলোর মধ্য থেকে দশটি সুহুফ হযরত আদম আলাইহিস্ সালামকে পঞ্চাশটি সুহুফ হযরত শিশ আলাইহিস্ সালামকে, ত্রিশটি সুহুফ হযরত ইদ্রিস আলাইহিস্ সালামকে বাকী দশটি সুহুফ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস্ সালামকে প্রদান করা হয়েছে এছাড়া হযরত মূসা আলাইহিস্সালামের প্রতিতাওরাত', হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালামের প্রতিযাবুর”, হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামের প্রতিইনজিল সর্বশেষ পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ মুস্তফাসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কুরআন করীমকে নাযিল করা হয়েছে

মানুষ যেন এই দুনিয়াতে শান্তির মাঝে বসবাস করতে পারে এবং আখেরাতেও যেন চিরস্থায়ী সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে সেজন্য মহান আল্লাহ্ তায়ালা,প্রথম মানুষ প্রথম পয়গম্বর হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম থেকে শুরু করে শেষ পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত বহু পয়গম্বরের মাধ্যমে আসমানী কিতাবসমূহ প্রেরণ করেছেন এইসব কিতাবের মধ্যে ঈমান ইবাদতের মৌলিক বিষয়ের আলোচনা করা হয়েছে এগুলোর দ্বারা মানুষের প্রয়োজনীয় যাবতীয় বিষয়ের জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে

সর্বশেষ ইলাহী কিতাব হলো কুরআন করীম কুরআন করীমকে প্রেরণ করার পরে পূর্বের সমস্ত ইলাহী কিতাবের হুকুম রহিত হয়ে গেছে এই কুরআন করীমকে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সুদীর্ঘ তেইশ বছরে নিয়ে এসেছেন কুরআন করীমের ১১৪টি সূরা ৬২৩৬টি আয়াত রয়েছে কিছু কিছু কিতাবে আয়াতের সংখ্যার ব্যাপারে ভিন্নতা পোষণ করা হয়েছে এর কারণ হলো,কোন কোন দীর্ঘ আয়াতকে একাধিক আয়াত হিসেবে গণনা করা হয়েছে পবিত্র কুরআন করীমে, নাযিল হওয়ার সময় থেকে এখন পর্যন্ত কোন ধরণের পরিবর্তন সাধিত হয়নি, পরবর্তীতেও কোন ধরণের পরিবর্তনের সুযোগ নাই কুরআন করীম মহান আল্লাহ্ তায়ালার কালাম এরূপ একটি কিতাব মানুষের পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয় এই কিতাবের একটি আয়াতের অনুরূপ পর্যন্ত রচনা করা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি

আমাদের পয়গম্বর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পরে, প্রথম খলীফা হযরত আবুবকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু কুরআন করীমের আয়াতসমূহকে একত্রিত করার ব্যবস্থা করেছেন এভাবেই তা একটি মুসহাফে পরিণত হলো আসহাবে কেরামের প্রত্যেকেই এই মুসহাফকে আল্লাহ্ তায়ালার কালাম হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমতের সাথে ঘোষণা দিয়েছেন তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এই মুসহাফের আরো ছয়টি অনুলিপি করিয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রদেশে প্রেরণ করেছেন

পবিত্র কুরআনের আসল রূপ তথা আরবী ভাষা থেকেই তিলাওয়াত করা উচিত অন্য ভাষার বর্ণের দ্বারা লিখিত হলে তাকে কুরআন করীম বলা হয় না কুরআন করীমের ব্যাপারে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি খেয়াল রাখা উচিত

.কুরআন করীম স্পর্শ করার পূর্বে অজু করে নিতে হবে কিবলামুখী হয়ে বসে মনোযোগের সাথে তিলাওয়াত করতে হয়

.ধীরে সুস্থে খুশুএর সাথে তিলাওয়াত করতে হয়

. মুসহাফ দেখে দেখে প্রতিটি আয়াতের হক্বকে যথাযথভাবে পালন করে তিলাওয়াত করা উচিত

.তাজভীদের কায়দাসমূহ মেনে তিলাওয়াত করা উচিত

. তিলাওয়াত করার সময়ে কুরআন করীমকে মহান আল্লাহ্ তা তায়ালার কালাম হিসেবে উপলব্ধি করা উচিত

. কুরআন করীমে আমাদের জন্য যে আদেশ নিষেধ রয়েছে তা জীবনে বাস্তবায়নের জন্য সচেষ্ট হতে হবে

চতুর্থ শর্ত

পয়গম্বরদের প্রতি ঈমান

ওয়া রাসূলিহি আল্লাহ্ তা'আলার মনোনীত সকল পয়গম্বরের উপর ঈমান আনলাম বলে সাক্ষ্য দেয়া পয়গম্বরগণ, মহান আল্লাহ্ তা'আলার পছন্দনীয় পথের সন্ধান দেয়ার জন্য,সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন সমস্ত পয়গম্বরগণ একই ঈমানের কথা বলে গিয়েছেন পয়গম্বর আলাইহিমুস্ সালামদের সাতটি বিশেষ সিফাত রয়েছে এগুলো কে বিশ্বাস করা জরুরী

.ইসমত যার দ্বারা কোন ধরণের গুনাহের কাজ সম্পাদিত হয় না অর্থাৎ নিষ্পাপ পয়গম্বরগণ যে কোন শরীয়ত অনুযায়ী হারাম হয়েছে বা হবে এমন কোন ছোট বা বড় গুনাহের কাজ করেননি

. আমানত পয়গম্বরগণ সকল দিক দিয়েই বিশ্বস্ত ছিলেন কোনভাবেই তাদেরকে প্রদত্ত আমানতের খেয়ানত করেননি

. সিদক পয়গম্বরগণ তাদের কথাবার্তায়, কাজেকর্মে সকল ধরণের আচার আচরণের ক্ষেত্রে সর্বদাই সৎ সঠিক ছিলেন কখনোই মিথ্যার আশ্রয় নেননি৷

. ফাতানাত পয়গম্বরগণ খুবই মেধাবী বুঝমান ছিলেন অন্ধ, বোবা এরূপ শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী কেউ পয়গম্বর হননি মহিলাদের থেকেও কোন পয়গম্বর প্রেরিত হননি

. তাবলীগ পয়গম্বরগণ মানুষের মাঝে যা কিছু প্রচার করেছেন তার সবই নিজেরা মহান আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে আসা ওহীর মাধ্যমে রপ্ত করেছেন তাদের প্রচারিত আদেশ নিষেধের কোনটিই তাদের মনগড়া নয় এগুলো প্রত্যেকটিই মহান আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে

. আদালত পয়গম্বরগণ কখনো জুলুম বা অন্যায় করেননি কোন ধরণের আবেগের বশবর্তী হয়ে কখনোই আদালত থেকে নূন্যতম ছাড় দেননি

. আমনুল আযল্ পয়গম্বরগণ কখনোই তাদের নবুয়্যত থেকে বহিষ্কৃত হননি দুনিয়া আখেরাত,সর্ববস্থায় তাদের নবুয়্যত বহাল থাকবে

যে সকল পয়গম্বর নতুন শরীয়ত বা আহকাম নিয়ে এসেছেন তাদেরকে রাসূল বলা হয় নতুন কোন শরীয়ত না এনে পূর্ববর্তী শরীয়তের প্রচারকারী পয়গম্বরদের নবী বলা হয় পয়গম্বরদের উপর ঈমান আনা বলতে, তাদের পরস্পরের মাঝে কোন ধরণের ভেদাভেদ না করে প্রত্যেককেই মহান আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে নির্বাচিত সাদিক বা সত্যবাদী হিসেবে বিশ্বাস করাকে বুঝায় কেউ যদি তাদের মধ্য থেকে কোন একজনকেও নবী হিসেবে অস্বীকার করে তবে তা সকল পয়গম্বরকেই অস্বীকার করার শামিল হবে

কঠোর সাধনা করে,অনেক বেশি ইবাদত করে ক্ষুধার কষ্ট অন্যান্য যন্ত্রণা ভোগ করে নব্যুয়ত অর্জন করা সম্ভব নয় কেবলমাত্র মহান আল্লাহ্ তা'আলা বিশেষ ইহসান বা কৃপার দ্বারা যাকে মনোনীত করবেন তিনিই পয়গম্বর হতে পারেন তাদের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয় তবে এক লক্ষ চব্বিশ হাজারের চেয়ে বেশি হওয়ার ব্যাপারটি মশহুর হয়েছে তাঁদের মাঝ থেকে তিনশত তের কিংবা তিনশত পনের জন একইসাথে রাসূলও ছিলেন তাঁদের মাঝ থেকে ছয়জন ছিলেন অধিক মর্যাদাবান তাঁদেরকেউলুল্ আযমপয়গম্বর বলা হয় তাঁরা হলেন হযরত আদম,হযরত নূহ,হযরত ইবরাহীম,হযরত মূসা,হযরত ঈসা আলাইহিমুস্ সালাম হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পয়গম্বরদের মাঝ থেকে ত্রিশ জনের নাম মশহুর হয়েছে তাঁরা হলেন হযরত আদম,হযরত ইদ্রিস,হযরত শিত হযরত নূহ,হযরত হুদ,হযরত সালিহ,হযরত ইবরাহীম, হযরত লূত হযরত ইসমাঈল, হযরত ইসহাক, হযরত ইয়াকুব, হযরত ইউসুফ,হযরত আইয়ুব,হযরত শুয়াইব,হযরত মূসা,হযরত হারুন,হযরত খিজির,হযরত ইউশা বিন নূন,হযরত ইলিয়াস,হযরত এলিয়াসা,হযরত যুল, কিফিল,হযরত শামুন,হযরত ইশমইল, হযরত ইউনুস বিন মাত্তা,হযরত দাউদ, হযরত সুলায়মান, হযরত লোকমান, হযরত যাকারিয়্যা, হযরত ইয়াহিয়া,হযরত উযাইর হযরত ঈসা ইবনে মরিয়ম,হযরত যুল-কারনাইন আলাইহিমুস্ সালাম হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপরোক্ত পয়গম্বরদের মধ্য থেকে আটাশ জনের নাম কুরআন করীমে উল্লেখ করা হয়েছে হযরত যুল-কারনাইন,হযরত লোকমান,হযরত উযাইর হযরত খিজির আলাইহিমুস্ সালাম পয়গম্বর ছিলেন কিনা, ব্যাপারে ইখতিলাফ রয়েছে উরওয়াতুল উসকা হযরত মোহাম্মদ মাসুম কুদ্দিসা সিররুহুএর মাকতুবাতের দ্বিতীয় খণ্ডের ছত্রিশতম মাকতুবে, হযরত খিজির আলাইহিস্ সালামের পয়গম্বর হওয়ার ব্যাপারে শক্তিশালী খবর রয়েছে বলে উল্লেখ আছে একশ বিরাশিতম মাকতুবে,হযরত খিজির আলাইহিস্ সালামের মানুষ রূপে দৃশ্যমান হওয়া কিছুকিছু কাজকর্ম সম্পাদন করা প্রমাণ করে না যে তিনি এখনো দুনিয়ার হায়াত ধারণকারী তিনি এবং তাঁর মত একাধিক পয়গম্বর আওলিয়াদের রূহসমূহকে আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে মানুষের রূপ ধারণ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে তাই তাঁদের দৃশ্যমান হওয়া তাঁদের হায়াতের বিদ্যমান থাকার ব্যাপারে দলিল হবে না আমাদের পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ্ তা'আলার রাসূল হাবীব তিনি সর্বশেষ পয়গম্বর সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ পাঁচশ একাত্তর |৫৭১ খৃস্টাব্দের এপ্রিল মাসের বিশ তারিখে, বারই রবিউল আউয়াল রোজ সোমবার ফজরের সময়ে পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্ম গ্রহণ করেছেন তাঁর পিতা তাঁর জন্মের পূর্বেই ইনতিকাল করেছিলেন তাঁর ছয় বছর বয়সের সময় মা আমিনা এবং আট বছর বয়সের সময় তাঁর দাদা আব্দুল মোত্তালিব মৃত্যু বরণ করেন এরপর তিনি চাচা আবুতালিবের নিকট লালিত-পালিত হন পঁচিশ বছর বয়সের সময় আম্মাজান হযরত খাদিজাতুল কুবরা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তাঁর থেকে চার কন্যা দুই পুত্র জন্মগ্রহণ করে প্রথম পুত্রের নাম কাসিম ছিল একারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেআবুল কাসিমনামেও ডাকা হত চল্লিশ বছর বয়সের সময় তাঁকে, সমস্ত মানুষ জ্বিনের পয়গম্বর হওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হয় এর তিন বছর পরে তিনি সকলকে প্রকাশ্যে ঈমানের দাওয়াত দিতে আরম্ভ করলেন তাঁর বায়ান্ন বছর বয়সের সময়, এক রাতে তাঁকে মক্কা মুকাররমা থেকে কুদুস তথা বাইতুল মুকাদ্দাসে এবং সেখান থেকে উর্দ্ধাকাশে ভ্রমণ করিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল এই ভ্রমণকেমিরাজবলা হয় মিরাজে যেয়ে তিনি জান্নাত, জাহান্নাম অবলোকন করেছিলেন এবং আল্লাহ্র দিদার লাভ করেছিলেন এই রাত্রিতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়েছিল ইতিহাসবেত্তাদের মতে ছয়শ বাইশ খৃস্টাব্দে মহান আল্লাহ্ তা'আলার আদেশে মক্কা থেকে মদিনায় গমন করেছিলেন এই গমনকে ইসলামের ইতিহাসেহিজরত' বলা হয় রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ রোজ সোমবার তিনি মদিনা নগরীর কুবা নামক গ্রামে উপস্থিত হন যা খৃস্ট বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসের বিশ তারিখ ছিল এই দিনকেই মুসলমানদের হিজরী শামসী সনের পয়লা দিন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে আর বছরের মুহাররম মাসের পয়লা তারিখ থেকে হিজরী কামারী বর্ষের গণনা শুরু করা হয় দুনিয়ার চতুর্পাশে চন্দ্রের বার বার আবর্তনের মাধ্যমে এক চন্দ্রবর্ষ পূর্ণ হয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাদশ হিজরীতে ৬২২ খৃস্টাব্দে রবিউল আউয়াল মাসের বার তারিখ রোজ সোমবার দুপুরের পূর্বে ইনতিকাল করেছেন বুধবার রাতে তিনি ঠিক যেখানে মৃত্যুবরণ করেছিলেন সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয় মৃত্যুর সময় চন্দ্রবর্ষ অনুযায়ী তাঁর তেষট্টি আর সৌরবর্ষ অনুযায়ী একষট্টি বছর বয়স হয়েছিল

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফর্সা ছিলেন মানুষের মাঝে এমনকি সৃষ্টির সর্বাধিক সুন্দর ছিলেন তিনি তাঁর সৌন্দর্যকে সবার সামনে প্রকাশ করতেন না তাঁর সৌন্দর্যকে যাদের সরাসরি একবার অবলোকন করার সৌভাগ্য হয়েছে এমনকি তা স্বপ্নে হলেও তাদের জীবন আনন্দ প্রশান্তিতে ভরে গেছে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তের যে কারো চেয়ে এবং দুনিয়াতে এখন পর্যন্ত যারা এসেছেন আর কিয়ামত অবধি যারা আসবেন তাদের সবার চেয়ে সর্বদিক দিয়েই তিনি শ্রেষ্ঠত্বের দাবীদার তাঁর মেধা,চিন্তাচেতনা,উত্তম চরিত্র শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেকোন মানুষের চেয়ে অধিক শক্তিশালী ছিল

শৈশবকালে দুইবার ব্যবসায়ীদের সাথে শাম তথা বর্তমান সিরিয়ার দিকে সফরের জন্য বের হয়েছিলেন কিন্তু বুসরা নামক স্থান থেকে ফিরে এসেছিলেন এর বাইরে তিনি আর কখনো কোন স্থানে গমন করেননি উম্মী তথা দুনিয়াতে তাঁর কোনো শিক্ষক ছিল না অর্থাৎ, কোন মকতবে যাননি দুনিয়ার কারো থেকে শিক্ষা অর্জন করেননি তথাপি সবকিছুই তাঁর জানা ছিল কেননা, তিনি যে বিষয়েই চিন্তা করতেন,জানার আগ্রহ প্রকাশ করতেন মহান আল্লাহ্ তা'আলা স্বয়ং তাঁকে তা অবহিত করতেন প্রধান ফেরেশতাদের অন্যতম, হযরত জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম এসে তাঁর সকল জিজ্ঞাসার জবাব দিতেন তাঁর মুবারক ক্বালব সূর্যের ন্যায় আলো ছড়াতো তাঁর ছড়ানো ইলম্ মারিফাতের নূরসমূহ বেতার তরঙ্গের মত আসমান জমিনের সর্বত্র ছড়িয়ে যেত বর্তমানে তাঁর রওজা থেকেও সেই নূরের প্রতিফলন হচ্ছে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গ গ্রহণের জন্য যেমন রিসিভারের প্রয়োজন হয়,তেমনি তাঁর ছড়ানো নূর গ্রহণের জন্যও তাঁর উপর পূর্ণ ঈমান এনে তাঁকে মনে প্রাণে ভালোবেসে,তাঁর প্রদর্শিত পথের অনুসরণ করে ক্বালবকে পরিষ্কার করা দরকার এরূপ পরিষ্কার ক্বালবের অধিকারী ব্যক্তিগণ নূর গ্রহণ করতে পারেন এবং তা নিজের চারিপাশের মানুষদের মাঝে ছড়াতে পারেন এরূপ মহান ব্যক্তিদের ওলী বলা হয় এই ধরণের আল্লাহ্ অলীদেরকে যারা চিনে,বিশ্বাস করে ভালবাসে তারা তাদের সান্নিধ্যে আদবের সাথে উপস্থিত থাকে অথবা দূর থেকে আদব, ভক্তি ভালোবাসার সাথে তাঁদের স্মরণ করে এরূপ যারা করে তাদের ক্বালবও নূর,ফাইজ বরকত দ্বারা পূর্ণ হতে শুরু করে পরিষ্কার পরিপক্ক হয়

মহান আল্লাহ্ তা'আলা আমাদের দেহ জগতকে প্রতিপালনের জন্য সৌরশক্তিকে প্রধানতম মাধ্যম করেছেন একইভাবে আমাদের রূহ ক্বালবের পরিচর্যা পরিপক্কতার জন্য,মানবতার বিকাশের জন্য হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্বালবকে ওখান থেকে উদ্ভাসিত হওয়া নূরকে সবব তথা মাধ্যম করেছেন মানুষের জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পরিবেশ শক্তির সবই সৌরশক্তি থেকে অর্জিত হয় ঠিক একইভাবে ক্বালব রূহের খোরাক তথা আওলিয়ার সোহবত বক্তব্য লেখাসমূহের সবই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুবারক ক্বালব থেকে উৎসারিত নূরের দ্বারাই অর্জিত হয়

মহান আল্লাহ্ তা'আলা হযরত জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম নামক ফেরেশতার দ্বারা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কুরআন করীমকে প্রেরণ করেছেন মানুষকে তার দুনিয়া আখেরাতের জন্য প্রয়োজনীয় উপকারী বিষয়সমূহ পালনের আদেশ দিয়েছেন তার জন্য যা ক্ষতিকর তা করতে নিষেধ করেছেন এই আদেশ নিষেধকেই একত্রে দ্বীন ইসলাম অথবা ইসলামিয়্যাত বা আহকাম ইলাহিয়া বলা হয়

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিটি কথাই সঠিক মূল্যবান এবং মানুষের জন্য উপকারী এরূপ যারা বিশ্বাস করে তাদেরকে মুমিন বা মুসলমান বলা হয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন কথাকে অবিশ্বাস করলে বা অপছন্দ করলে তাকে কাফির বলা হয় মহান আল্লাহ্ তা'আলা তার মুমিন বান্দাদের ভালোবাসেন তাদেরকে তিনি জাহান্নামের আগুনে চিরকাল শাস্তি দিবেন না হয় তাদেরকে একটুর জন্যও জাহান্নামে ফেলবেন না অথবা তাদের দ্বারা কৃত পাপের শাস্তি হিসেবে জাহান্নামে প্রবেশ করালেও পরবর্তীতে অবশ্যই জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন কাফির ব্যক্তি কখনোই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না সে সরাসরি জাহান্নাম নিক্ষিপ্ত হবে আর চিরকাল সেখানেই অবস্থান করবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ঈমান আনা,তাঁকে মনে প্রাণে ভালোবাসা হলো সমস্ত সৌভাগ্য, প্রশান্তি কল্যাণের মূল তার নব্যুয়তের উপর ঈমান না আনলে তা সমস্ত বিপর্যয়,বিপদআপদ অমঙ্গলের মূল কারণ হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইলম, ইরফান,বুঝ,বিশ্বাস,বিবেক,মেধা,দানশীলতা,বিনয়,অভিজ্ঞতা,মমতা,ধৈর্য,প্রচেষ্টা,রক্ষণ,বিশ্বস্ততা,আমানতদারী, বীরত্ব, সাহসিকতা, বালাগাত, ফাসাহাত, আকর্ষন, সৌন্দর্য, লাজুকতা, পবিত্রতা, দয়া, বদান্যতা ন্যায় পরায়ণতা,হায়া, একনিষ্ঠতা, খোদাভীরুতা ইত্যাদির মত সর্বক্ষেত্রেই বাকী সমস্ত পয়গম্বরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন দোস্ত হোক,দুশমন হোক যারা তাঁর অনিষ্ট করেছে তাদের সবাইকেই তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন কারো থেকেই তিনি এর বদলা নেননি এমনকি উহুদের যুদ্ধে যখন কাফিররা তাঁর গালকে রক্তাক্ত করেছিল তাঁর দন্ত মুবারককে শহীদ করেছিল তখনো তিনি তাদের জন্য এই বলে দোয়া করলেন যে,“হে আমার রব,এদেরকে ক্ষমা করে দাও! তাদের অজ্ঞতাকে দূর করে দাও?”

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝে উত্তম আখলাকের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সেগুলি শিখে সে অনুযায়ী নিজেদেরকে আখলাক গড়ে তোলা আর এভাবেই দুনিয়া আখেরাতের বিপর্যয় বিপদআপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং দোজাহানের সর্দারের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাফায়াত অর্জন করার সৌভাগ্য হবে কেননা হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যে,“তোমরা আল্লাহ্ তা'আলার আখলাকের দ্বারা নিজেদের চরিত্রকে গড়ে তোল” '

 

 

আসহাবে কিরাম

যে মুসলমানগণ,হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুবারক চেহারার দর্শন লাভ করেছিলেন, তাঁর সুমিষ্ট কথা শুনার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন তাদেরকেআসহাবে কিরাম' বলা হয় পয়গম্বরদের পরেই এপর্যন্ত যত মানুষ এই দুনিয়ায় এসেছেন এবং আসবেন তাদের মাঝে সর্বোত্তম সর্বশ্রেষ্ঠ জন হলেন হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ইয়া সাল্লামের প্রথম খলীফা ছিলেন তাঁর পরের শ্রেষ্ঠ মানব হলেনফারুক- আযম' দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু উনার পরের শ্রেষ্ঠজন হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তৃতীয় খলীফা,ঈমান,হায়া ইরফানের উৎস হযরত উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর পর সর্বোত্তম মানুষ চতুর্থ খলীফা যিনি আশ্চর্যজনক প্রতিভার অধিকারী আল্লাহ্ সিংহ' উপাধি পেয়েছিলেন তিনি হলেন হযরত আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু হাদিস শরীফ থেকে বুঝা যায় যে দুনিয়ার নারীদের মাঝে সর্বোত্তম হলেন হযরত ফাতিমা,হযরত খাদিজা,হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না এবং হযরত মরিয়ম হযরত আছিয়া আলাইহুমাস্ সালাম হাদিস শরীফে এসেছেহযরত ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা) জান্নাতী মহিলাদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ আর হযরত হাসান হযরত হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) হলেন জান্নাতী যুবকদের মাঝে শ্রেষ্ঠ

উনাদের পরে,আসহাবে কিরামের মাঝে অধিক মর্যাদাবান হলেনআশারা- মুবাশশারাএর অন্তর্ভুক্ত সাহাবীগণ এর মানে হলো, যারা দুনিয়াতে থাকা অবস্থাতেই জান্নাত প্রাপ্তির সুসংবাদ পেয়েছিলেন তাঁদের সংখ্যা দশ তাঁরা হলেন হযরত আবুবকর সিদ্দীক,হযরত উমর ফারুক,হযরত উসমান বিন আফফান, হযরত আলী ইবনে আবি তালিব,হযরত উবায়দা ইবনে জাররাহ হযরত তালহা, হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম, হযরত সা' ইবনে আবি ওক্কাস,হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ, হযরত আবদুররহমান ইবনে আওফ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আলাইহিম আজমাইন উনাদের পরে অধিক মর্যাদার অধিকারী হলেন বদরের জিহাদে অংশগ্রহণকারী সাহাবীগণ এরপর পর্যায়ক্রমে উহুদের জিহাদে অংশগ্রহণকারীগণ যারাবায়আতুর রিদওয়ান উপস্থিত ছিলেন সেসকল সাহাবীগণ অধিক মর্যাদাবান

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য নিজেদের জান মাল উতসর্গ করেছেন তাঁকে যথাসাধ্য সাহায্য করেছেন যে আসহাবে কিরাম,তাঁদের প্রত্যেককে যথাযথ সম্মান ভালোবাসার সাথে স্মরণ করা আমাদের কর্তব্য তাঁদের অসম্মান হয় এমন কোন কথা বা আচরণ করা আমাদের জন্য কখনোই জায়েজ হবে না তাঁদের নামসমূহকে অমর্যাদা করা,তাচ্ছিল্য করা দালালাত বা পথভ্রষ্টতার শামিল

যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসেন তাদের উপর রাসূলের প্রত্যেক সাহাবীকে ভালোবাসাও আবশ্যক কেননা একটি হাদিস শরীফে এসেছে যেআমার সাহাবীদের যারা ভালোবাসল তারা আমাকে ভালবাসে বলেই এরূপ করল যারা তাঁদেরকে ভালোবাসল না, তারা আমাকেও ভালোবাসল না তাঁদের কাউকে কষ্ট দেয়া আমাকে কষ্ট দেয়ার শামিল আর যে আমাকে কষ্ট দিল সে মূলত আল্লাহ্ তা'আলাকে কষ্ট দিল আল্লাহ্ তা'আলাকে যে কষ্ট দিল সে অবশ্যই আজাব ভোগ করবে অপর আরেকটি বলা হয়েছে যে,“মহান আল্লাহ্ তা'আলা যখন আমার উম্মত থেকে কারো জন্য কল্যাণ করতে ইরাদা করেন, তখন তার ক্বালবে আমার সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা পয়দা করে দেন সে প্রত্যেক সাহাবীকে নিজের জানের মত ভালোবাসে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের সময়ে মদিনা শহরে তেত্রিশ হাজার সাহাবী বিদ্যমান ছিলেন সাহাবীদের মোট সংখ্যা এক লক্ষ চব্বিশ হাজারের চেয়ে অধিক ছিল

চার মাজহাবের ইমাম অন্যান্য আলেমগণ

ইতিক্বাদের বিষয়ে একটিমাত্র সঠিক পথ রয়েছে আর তা হলো আহলে সুন্নাহওয়াল জামায়াতের মাজহাব ভূপৃষ্ঠে অবস্থানরত সমস্ত মুসলমানদের সঠিক পথ প্রদর্শনকারী এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথকে কোন ধরণের পরিবর্তন, পরিবর্ধন না করে আমাদের শিখানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এমন চারজন মহান ব্যক্তিত্ব রয়েছেন তাদের প্রথমজন হলেন ইমাম আযম আবু হানিফা নুমান বিন সাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইসলামী আলেমদের মাঝে শ্রেষ্ঠতম ছিলেন আহলে সুন্নাতের প্রধান ছিলেন দ্বিতীয়জন হলেন ইমাম মালিক বিন আনাস তৃতীয়জন হলেন ইমাম মুহাম্মদ বিন ইদরিস্ শাফিঈ এবং চতুর্থজন হলেন ইমাম আহম্মদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহিম আজমাইন বর্তমান সময়ে এই চার ইমামের কোন একজনকে যে অনুসরণ করল না সে ভয়ানক শঙ্কার মাঝে রয়েছে সঠিক পথ হারিয়ে ফেলেছে আমরা এই কিতাবে, হানাফী মাজহাব অনুযায়ী নামাজের মাসলা-মাসায়েল, এই মাজহাবের প্রসিদ্ধ আলেমদের রচিত কিতাবসমূহ থেকে সংকলন করে বর্ণনা করেছি

এই চার ইমামের তা'য়ালাবাদের মধ্য থেকে দুইজন ঈমানী ইলমের ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগামী ছিলেন এভাবেই ইতিক্বাদের ক্ষেত্রে দুইটি মাজহাব হলো কুরআন করীম হাদিস শরীফে বর্নিত যথোপযুক্ত ঈমান কেবলমাত্র এই দুই ইমামের দ্বারা অবহিত করা ঈমানের সাথেই মিলেফিরকাই নাজিয়াবা মুক্তিপ্রাপ্ত দল তথা আহলে সুন্নাতের ঈমানী মতবাদকে সারা বিশ্বে এই দুজনের মাধ্যমেই ছড়িয়েছে তাঁদের একজন হলেন হযরত আবু মানসুর আল-মাতুরিদী আর দ্বিতীয়জন হলেন আবুল হাসান আল-আশ্আরী রহমতুল্লাহি আলাইহিমা৷

এই দুইজন ইমাম, ঈমানের একইরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাঁদের মাঝে কতিপয় মতপার্থক্য রয়েছে তবে তা গুরুত্বপূর্ণ নয় হাক্বীকতের বিবেচনায় তা একই কুরআন করীম হাদিস শরীফে ইসলামের আলেমদের অনেক প্রশংসা করা হয়েছে ব্যাপারে একটি আয়াতে করীমায় বলা হয়েছেজ্ঞানী আর অজ্ঞরা কখনো সমান হতে পারে কি অপর আরেকটি আয়াতে করীমায় বলা হয়েছেহে মুমিনেরা! তোমাদের না জানা বিষয়ে যারা জানে তাঁদের থেকে জিজ্ঞাসা কর

ব্যাপারে হাদিস শরীফ বর্নিত হয়েছে যেআল্লাহ্ তা'আলা, ফেরেশতাগণ প্রত্যেক প্রাণী, মানুষদের কল্যাণ শিক্ষাদানকারী মুসলমানদের জন্য দোয়া করেনকিয়ামতের দিন প্রথমে পয়গম্বরগণ, তারপর আলেমগণ তারপর শহীদগণ শাফায়াত করবেনহে মানুষ৷ জেনে রাখ যে,ইলম আলেমদের থেকে শুনে শিখতে হয়তোমরা ইলম অর্জন কর কেননা ইলম অর্জন করা একধরণের ইবাদত যে ইলম শিখল যে ইলম শিক্ষা দিল তাদের উভয়কেই জিহাদের সওয়াব দেয়া হবেইলম শিক্ষা দেয়া সদকা দেয়ার সমতুল্য আলেমদের থেকে ইলম অর্জন করা,তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের মতইলম অর্জন কর,যাবতীয় নফল ইবাদত করার চেয়ে অধি সওয়াবের কেননা এর দ্বারা নিজের যাকে শিখাচ্ছে তারও উপকার হয়অন্যকে শিখানোর জন্য ইলম অর্জনকারীকে সিদ্দীকদের সমতুল্য সওয়াব প্রদান করা হবেইলম হলো একটি ভাণ্ডার এর চাবি হলো জিজ্ঞাসা করে শিখে নেয়াতোমরা ইলম অর্জন কর শিক্ষা দাওসবকিছুরই উৎস রয়েছে তাকওয়ার উৎস হলো আরিফদের (যারা আল্লাহকে চিনতে পেরেছে)ক্বালবইলম অর্জন করা কৃত গুনাহের কাফফারা স্বরূপ

পঞ্চম শর্ত আখেরাতে ঈমান

ওয়াল ইয়াওমিল আখিরি আখেরাতের উপর ঈমান আনলাম বলে সাক্ষ্য দেয়া এই সময়ের সূচনা,মানুষের মৃত্যুর সাথে সাথে শুরু হয় কিয়ামতের শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে একে শেষ দিবস বলার কারণ হলো, এরপরে আর রাতের আগমন হবে না এজন্য অথবা দুনিয়ার সময়ের পরে আসার কারণে কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে এব্যপারে আমাদেরকে অবহিত করা হয়নি তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,কিয়ামতের আলামত সম্পর্কে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হযরত মেহেদীর আগমন হবে, হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম আসমান থেকে শাম নগরীতে অবতীর্ন হবেন দাজ্জাল বের হবে ইয়াজুজ মাজুজ সব জায়গা তছনছ করে দিবে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হবে প্রচণ্ড ভূমিকম্প হবে দ্বীনী ইলম্ বিলুপ্ত হবে পাপাচার বৃদ্ধি পাবে সর্বত্র হারাম সম্পাদিত হবে ইয়েমেন থেকে আগুন বের হবে আসমান পর্বতসমূহ চূর্নবিচূর্ন হবে সূর্য চন্দ্র নিভে যাবে ইত্যাদি

ব্যক্তি কবরে জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হবে কবরে মুনকার নাকির নামক ফেরেশতাদ্বয়ের প্রশ্নের জবাব দেয়ার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলি নিজেদের মুখস্ত করা এবং শিশুদেরকেও মুখস্ত কোরানো উচিতআল্লাহ্ তা'আলা আমার রব, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পয়গম্বর, ইসলাম আমার দ্বীন কুরআন করীম আমার কিতাব কা'বা শরীফ আমার কিবলা, ইতিক্বাদের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাহওয়াল জামায়াত আমার মাজহাব আর আমলের ক্ষেত্রে ইমামে আযম আবু হানিফার মাজহাব আমার মাজহাব’ 'কিয়ামতের দিনে সকলেরই পুনরুত্থান হবে সকলকে হাশরের ময়দানে একত্রিত করা হবে সালিহ তথা পুণ্যবানদের আমল দফতর ডান হাতে আর মন্দদের আমলনামা পিছন থেকে কিংবা বাম দিক থেকে প্রদান করা হবে শিরক কুফর ব্যতীত অন্য যে কোন গুনাহ আল্লাহ্ তা'আলা চাইলে ক্ষমা করে দিবেন আবার চাইলে ছোট গুনাহের জন্যও অনেককে শাস্তি ভোগ করতে হবে

আমল পরিমাপের জন্য মিজান থাকবে মহান আল্লাহ্ তা'আলার আদেশে জাহান্নামের উপরে পুলসিরাত স্থাপন করা হবে এছাড়াও সেখানে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য বিশেষহাওজে কাওসার বিদ্যমান থাকবে

শাফায়াত হক্ব তওবাহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী মুমিনদের সগীরা কবীরা গুনাহ মাফের জন্য পয়গম্বরগণ, অলীগন, সালিহ তথা পুণ্যবানরা, আলেমগণ,ফেরেশতাগণ,শহীদগণ এবং মহান আল্লাহ্ তা'আলা যাদের অনুমতি দিবেন তারা শাফায়াত করতে পারবেন, এবং ইনশাল্লাহ তা কবুল করাও হবে

জান্নাত জাহান্নাম বর্তমানে বিদ্যমান জান্নাত সাত আসমানের উপর অবস্থিত জাহান্নাম সর্বনিম্নে অবস্থিত জান্নাতের আটটি দরোজা রয়েছে প্রত্যেক দরোজা দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন জান্নাতে প্রবেশ করা যায় জাহান্নামের সাতটি স্তর রয়েছে প্রথম স্তর থেকে সপ্তম স্তর পর্যন্ত যত নিচে যাওয়া হয়,আজাবের তীব্রতা ততই বৃদ্ধি পায়৷

ষষ্ঠ শর্ত কদরে ঈমান

ওয়া বিল কাদরি, খাইরিহি ওয়া শাররিহি মিনাল্লাহি তা'আলা কদরে বিশ্বাস বলতে, ভাল মন্দ যা কিছুই হয় তার সবই আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকেই হয় এই বলে সাক্ষ্য দেয়াকে বুঝায় মানুষের জীবনে ভাল মন্দ,লাভ ক্ষতি, অর্জন হরণ এর সবই আল্লাহ্ তা'আলার তাকদীর অনুযায়ীই হয়

আল্লাহ্ তা'আলার কোন কিছুকে অস্তিত্ব প্রদানের ইরাদা করাকে কদর বলা হয় এই কদরের অর্থাৎ যার জন্য অস্তিত্বপ্রাপ্তির ইচ্ছা করা হয়েছে তার অস্তিত্ব লাভ করাকেক্বাযা' বলা হয় কদর ক্বাযা শব্দ দুইটি একে অপরের স্থানেও ব্যবহৃত হয়

মহান আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে ইরাদা করার ক্ষমতা দিয়েছেন বান্দার এই ইরাদা বা ইচ্ছা পোষণ করাকে,যা ইরাদা করা হয়েছে তার বাস্তবায়নের জন্য সবব বা কারণ করা হয়েছে কোন বান্দা একটা কিছু করতে ইচ্ছা করলে এবং আল্লাহ্ তাআলাও তা ইরাদা করলে কর্মটি সৃষ্টি করেন বান্দা না চাইলে এবং আল্লাহ্ তাআলাও না চাইলে কোন কিছু বাস্তবায়িত হয় না

এপর্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে আলোচিত আহলে সুন্নাহওয়াল জামায়াতের ইতিক্বাদকে বিস্তারিতভাবে জানতে চাইলে,হাকিকাত কিতাবেভি কর্তৃক প্রকাশিত ইসলামী আলেমদের শিরোমণি মহান ওলী হযরত মওলানা খালিদ বাগদাদী (:) এর ফারসী ভাষায় রচিতইতিক্বাদনামাকিতাবটি এবং কামাহলি ফয়জুল্লাহ এফেন্দির রচিতপ্রত্যেকের জন্য প্রয়োজনীয় ঈমান' নামক কিতাবটি পড়তে পারে এগুলো খুবই উপকারী মনোমুগ্ধকর, এগুলো ফাইজ বরকত দোজাহানের সাদাত অর্জনের জন্য যথেষ্ঠ

আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেককেই তাওয়াক্কুল করার জন্য আদেশ দিয়েছেনতাওয়াক্কুল ঈমানের জন্য শর্ত' এই মর্মের আয়াতটি এর একটি দলীলসূরা মায়দাতোমাদের যদি ঈমান থেকে থাকে তবে আল্লাহ্ তা'আলার উপর তাওয়াক্কুল কর’,‘সূরা আলে ইমরানএরআল্লাহ্ তা'আলা অবশ্যই যারা তাওয়াক্কুল করল তাদের পছন্দ করেন’,‘সূরা তা'য়ালাকএরকেউ যদি আল্লাহ্ তা'আলার উপর তাওয়াকুল করে তবে আল্লাহ্ তা'আলাই তার জন্য যথেষ্ঠ হন’,‘সূরা যুমারএরআল্লাহ্ তা'আলা তার বান্দার জন্য যথেষ্ঠ নন কি? এর মত আরো বহু আয়াতে ব্যাপারে আদেশ দেয়া হয়েছে

রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে,“আমাকে আমার উম্মতের মধ্য থেকে এক দল লোককে যার দ্বারা পাহাড়পর্বত মরুভূমি পূর্ণ হয়ে গেছিল তাদের সংখ্যাধিক্য দেখে অবাক হয়েছি আনন্দিতও হয়েছি আমাকে বলা হলো,খুশি হয়েছেন কি আমি বললাম,হ্যাঁ তখন বলা হলো,এদের মাঝ থেকে মাত্র সত্তর হাজার জন বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে জিজ্ঞাসা করলাম,তারা কারা বলা হলো,যারা কোন কাজ করার সময় যাদুকর গণকের দ্বারস্থ হয় না এবং আল্লাহ্ ব্যতীত আর কারো উপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করে না তারা সাহাবীদের মধ্য থেকে যারা তখন উপস্থিত ছিলেন তাদের মধ্য থেকে হযরত উকাশা রাদিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন যেইয়া রাসূলুল্লাহ দোয়া করুন যেন আমি তাদের মাঝ থেকে একজন হই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেনইয়া রাব্বি৷ একে তাদের মাঝে অন্তর্ভুক্ত কর তখন অপর আরেকজন সাহাবী দাঁড়িয়ে তার জন্যও একই দোয়া করার আবেদন করল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন,“উকাশা তোমার চেয়ে দ্রুত আচরণ করেছে

তাওয়াক্কুল হলো,কোন কাজ সম্পাদনের জন্য জাগতিক যে সবব বা কারণ রয়েছে সেগুলিকে যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরে,পরিণতির ব্যাপারে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ না হওয়াকে বুঝায়

Bengali Darpan

We are the Teacher Group. We help students to build their career and future life . We teach subjects with insper for building a future career .We are a team Group Teacher .our team is strong to guide Bengali Hon. With all Pass & Compulsory paper & Library Science with Dissertation paper BLIS & MLIS .WBSSC, UGC NET & SET, KVS ,WBPSC

Post a Comment

Previous Post Next Post

Copyright (c) 2024 Ramadan Delights India All Rights Reserved