বত্রিশ ও চুয়ান্ন ফরজ

 

বত্রিশ চুয়ান্ন ফরজ



শিশু যখন বালিগ হয় এবং কোন কাফির যখন কালিমা- তাওহীদ বলে, অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ বলে এবং এর অর্থ বুঝে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে তখন সে মুসলমান হয়ে যায় মুসলমান হওয়ার সাথে সাথে কাফির ব্যাক্তির পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হয় কিন্তু অন্য মুসলমানদের মত তাদেরও সামর্থ্য অনুযায়ী সুযোগ পাওয়ার সাথেসাথে ঈমানের ছয়টি শর্ত তথাআমানতু' মুখস্ত করা এবং এর অর্থ শিখে পূর্নাঙ্গরূপে বিশ্বাস করা আবশ্যক তাদের বলা উচিত আমরা বিশ্বাস করলাম যে, ইসলামের সবকিছুই অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক যা কিছু করতে আদেশ দেয়া হয়েছে আর যা কিছু করতে নিষেধ করা হয়েছে তার সবই মহান আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকেই তার হাবীবের মাধ্যমে মানুষদের জানানো হয়েছে এরপর পর্যায়ক্রমে সময় সুযোগ অনুযায়ী দৈনন্দিন জীবনের ফরজ তথা যা করতে আদেশ দেয়া হয়েছে এবং হারাম তথা যা করতে নিষেধ করা হয়েছে তা জানতে হবে,শিখতে হবে এবং সে অনুযায়ী জীবন যাপন করতে হবে দৈনন্দিন জীবনে সম্মুখীন হতে হয় এমন ফরজ হারাম সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করা সবার উপরে ফরজ এগুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ফরজসমূহ পালন করা এবং হারামসমূহ থেকে বিরত থাকা যে ফরজ তা অস্বীকার করলে অর্থাৎ অবিশ্বাস করলে ঈমান চলে যায় এই ফরজ হারামসমূহ থেকে কোন একটিকেও যদি অপছন্দ করে গ্রহণ না করে তবে সে মুরতাদ্ হয়ে যায় মুরতাদ ব্যাক্তিলা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার মাধ্যমে এবং ইসলামের কিছু আদেশ পালনের মাধ্যমে যেমন নামাজ আদায় করে,রোজা রেখে, হজ্জে যেয়ে, দান-সদকা করার মাধ্যমে মুসলমান হতে পারে না এইসব সতকর্মগুলি আখিরাতে তার কোন উপকারে আসবে না অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে শরীয়তের যে ফরজ কিংবা হারামকে অস্বীকার করেছে তার জন্য অনুশোচিত হতে হবে,তওবা করে পুনরায় বিশ্বাস করে পালন করতে হবে

মুসলিম আলেমগণ, প্রত্যেক মুসলমানের শিখে,বিশ্বাস করে পালন করা আবশ্যক এমন বত্রিশটি ফরজ নির্ধারন করে দিয়েছেন এছাড়া আলাদাভাবে আরো চুয়ান্নটি ফরজের ব্যাপারেও উল্লেখ করেছেন

ঈমানের শর্ত ছয়টি ইসলামের শর্ত পাঁচটি

নামাজের ফরজ বারটি

বত্রিশ ফরজ

অজুর ফরজ চারটি গোসলের ফরজ তিনটি তায়াম্মুমের ফরজ দুইটি

কেউ কেউ বলেছেন, তায়াম্মুমের ফরজ তিনটি এই হিসাব অনুযায়ী সর্বমোট তেত্রিশটি ফরজ হয়

ঈমানের শর্তসমূহ

. আল্লাহ্ তায়ালার অস্তিত্ব একত্ববাদে বিশ্বাস করা

. ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস করা

. মহান আল্লাহ্ তায়ালা যে সব আসমানী কিতাব নাযিল করেছেন সেগুলির উপর বিশ্বাস করা

. সকল নবী রাসূলের উপর বিশ্বাস করা

. পরকালে বিশ্বাস করা

কদরে,অর্থাৎ ভাল মন্দ যা কিছুই হয় তার সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তা বিশ্বাস করা

ইসলামের শর্তসমূহ

.কালিমা- শাহাদাত বলা স্বীকার করা

.প্রতিদিনের জন্য নির্ধারিত পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নিজ নিজ সময় অনুযায়ী আদায় করা

.সম্পদের যাকাত আদায় করা

১০ রমজান মাসের প্রত্যেকদিনে রোজা রাখা

১১. সামর্থ্য থাকলে জীবনে একবার হজ্জ পালন করা

নামাজের ফরজসমূহ

নামাজের বাইরের ফরজ সাতটি এগুলোকে নামাজের শর্ত বলা হয়

১২.অপবিত্র অবস্থা থেকে অজু কিংবা গোসলের মাধ্যমে পবিত্ৰতা অর্জন

১৩ নাপাকী থেকে শরীর, পোশাক নামাজের স্থানকে পবিত্র করা

১৪ সতর তথা লজ্জাস্থান আবৃত করা

১৫.কিবলামুখী হওয়া

১৬. নামাজের ওয়াক্ত হওয়া

১৭. নিয়্যাত করা

১৮ ইফতিতাহ্ তথা তাকবীরে তাহরিমা দেয়া৷

নামাজের ভিতরের ফরজ পাঁচটি এগুলোকে নামাজের রুকন বলা হয়

১৯.কিয়াম করা,অর্থাৎ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা

২০.কিরাত অর্থাৎ পবিত্র কুরআন থেকে কিছু অংশ তিলাওয়াত করা

২১ রুকু করা

২২. সেজদা করা

২৩. শেষ বৈঠকে বসা

অজুর ফরজসমূহ

২৪. সমস্ত মুখমণ্ডল ধৌত করা

২৫.কনুইসহ দুই হাত ধৌত করা

২৬ মাথার একচতুর্থাংশ মাসেহ করা

২৭.গোড়ালিসহ দুই পা ধৌত করা

গোসলের ফরজসমূহ

২৮. কুলি করা

২৯. পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা

৩০. সমস্ত শরীর ভালভাবে ধৌত করা

তায়াম্মুমের ফরজসমূহ

৩১. অজু কিংবা গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুমের দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিয়্যাত করা

৩২. দুই হাত পবিত্র মাটিতে ঘসে মুখমণ্ডল মাসেহ করে পুনরায় দুই হাত মাটিতে ঘসে দুই হাতের কনুই থেকে শুরু করে হাতের তালু পর্যন্ত ভালভাবে মাসেহ করতে হবেকরা

চুয়ান্ন ফরজ

. আল্লাহর একত্ববাদের উপর ঈমান আনা

. হালাল খাদ্য পানীয় গ্রহণ করা

. অজু করা

. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা

.গোসল ফরজ হলে গোসল করা

. সকল ধরণের রিযিক একমাত্র আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আসে তা বিশ্বাস করা

. পবিত্র হালাল পোষাক পরিধান করা

.মহান আল্লাহ্ তায়ালার উপর তাওয়াক্কুল তথা ভরসা করা

.তুষ্ট হওয়া

১০.প্রাপ্ত নিয়ামতের বিনিময়ে মহান আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায়

১১.ভাল হোক কিংবা মন্দ হোক সর্বাবস্থায় ক্বদরের উপর সন্তুষ্ট থাকা

১২ বালা মুসীবতের সম্মুখীন হলে সবর তথা ধৈর্য ধারণ করা

১৩.গুনাহ মাফের জন্য তওবা করা

১৪ইবাদতসমূহ শুধুমাত্র মহান আল্লাহ্ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য

১৫.শয়তানকে দুশমন হিসেবে গ্রহণ করা

১৬ পবিত্র কুরআন শরীফের যাবতীয় হুকুমকে মেনে নেয়া

১৭ মৃত্যুকে হক্ব হিসেবে মেনে নেয়া

১৮.মহান আল্লাহ্ তায়ালার বন্ধুদের সাথে বন্ধুত্ব এবং শত্রুদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা

১৯.মা বাবার সাথে উত্তম আচরণ করা

২০ সৎ কাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা

২১. আত্মীয় স্বজনদের জিয়ারত করা

২২. আমানতের খিয়ানত না করা

২৩.সর্বদা মহান আল্লাহ্ তায়ালার ভয়ে ভীত হয়ে বিলাসিতা বাড়াবাড়ি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা

২৪.মহান আল্লাহ্ তায়ালা তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য করা

২৫.নিজেকে পাপ থেকে বিরত রেখে ইবাদতে মগ্ন করা

২৬.মুসলমান আমীরদের আনুগত্য করা

২৭.শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে জগতের প্রতি নজর দেয়া

২৮.আল্লাহ্ তায়ালার অস্তিত্ব একত্ববাদ সৃষ্টি সম্পর্কে তাফাক্কুর তথা গবেষণা করা

২৯. অশ্লীল কথাবার্তা থেকে জবানকে রক্ষা করা

৩০ ক্বলবকে পবিত্র রাখা

৩১.কাউকে নিয়া ঠাট্টাতামাসা না করা,বিদ্রুপ না করা

৩২হারামের দিকে দৃষ্টিপাত না করা

৩৩.মুমিন হিসেবে সর্বাবস্থায় নিজের কথার প্রতি সৎ থাকা

৩৪.অশ্লীল অপছন্দনীয় কোনকিছু শ্রবণ করা থেকে বিরত থাকা৷

৩৫.এলেম অর্জন করা

৩৬বাটখাড়া,দাঁড়িপাল্লা পরিমাপকের যন্ত্রসমূহকে ন্যায় সততার সাথে ব্যবহার করা

৩৭.আল্লাহ তায়ালার আজাব থেকে পরিত্রাণের ব্যাপারে কখনোই নিশ্চিত না হয়ে সর্বদা ভীতসন্ত্রস্ত থাকা

৩৮.মুসলমান ফকিরদেরকে সাহায্য করা,তাদেরকে যাকাত প্রদান করা

৩৯.মহান আল্লাহ্র রহমত থেকে কোন অবস্থাতেই নিরাশ না হওয়া

৪০নাফসের খায়েশের অনুগত না হওয়া

৪১.আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মানুষকে খাওয়ানো

৪২. যথেষ্ঠ পরিমাণ রিযিক অর্জনের জন্য পরিশ্রম করা

৪৩সম্পদের যাকাত শস্যের উশুর প্রদান করা

৪৪ হায়েজ নিফাসের সময় স্ত্রী সহবাস না করা

৪৫ ক্বলবকে গুনাহ থেকে পবিত্র রাখা

৪৬.অহংকার থেকে দূরে থাকা

৪৭.বালিগ তথা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি এমন ইয়াতিমের সম্পদ সংরক্ষণ করা

৪৮বালকদের দিকে কুদৃষ্টি না দেয়া

৪৯দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ সময়মত আদায় করা

৫০অন্যায়ভাবে পরের সম্পদ ভোগ না করা

৫১.মহান আল্লাহ্ তায়ালার সাথে কাউকে শরিক না করা

৫২.সকল ধরণের যিনা থেকে বিরত থাকা

৫৩মদ অ্যালকোহলো জাতীয় পানীয় পান না করা

৫৪অপ্রয়োজনে কসম না খাওয়া

কুফরের আলোচনা

মন্দ কাজের মধ্যে সর্বাধিক খারাপ হলো আল্লাহ্ তায়ালাকে অবিশ্বাস করা তথা নাস্তিক হওয়া ধর্মীয়ভাবে যেসব বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস করা আবশ্যক, সেগুলোকে অবিশ্বাস করলে কুফরী হয় হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলেও কুফরী হবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,মহান আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসে অবহিত করেছেন তার সবকিছুকেই ক্বালবের দ্বারা বিশ্বাস করে, মৌখিকভাবে স্বীকার করা ঘোষণা দেয়াকে ঈমান বলে মৌখিকভাবে বলার ক্ষেত্রে চরম বাঁধার সম্মুখীন হলে এবং কারণে মুখে স্বীকার করতে না পারলে গুনাহগার হবে না ঈমান অর্জনের জন্য কুফরের আলামত হিসেবে ইসলামিয়্যাত যেসব বিষয়কে চিহ্নিত করেছে তা বলা, করা কিংবা ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে ইসলামিয়্যাতের বিধানসমূহ তথা ইসলামের আদেশ নিষেধসমূহের কোন একটিকে অবজ্ঞা করা অথবা পবিত্র কুরআন শরীফ ফেরেশতা পয়গম্বরআলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামদের থেকে কোন একজনকে তাচ্ছিল্য করা কুফরের আলামতের অন্তর্ভুক্ত ইনকার তথা অস্বীকার করার অর্থ হলো শ্রবণ করার পর তা অবিশ্বাস করা,সত্য হিসেবে মেনে না নেয়া সন্দেহ পোষণ করাও ইনকারের অন্তর্ভুক্ত

কুফরের প্রকারসমূহ

কুফর তিন প্রকার এগুলো হলো জাহলী,জুহুদী হুকমী

. জাহলী শুনতে পায়নি,চিন্তা করার সুযোগ পায়নি এবং একারণে ঈমান গ্রহণ করেনি এমন কাফিরদের কুফুরীকেকুফর- জাহলীবলা হয় জাহল্ তথা অজ্ঞতা দুই ধরণের প্রথমটি হলো, সাধারণ অজ্ঞতা যার অজ্ঞতা সম্পর্কে অন্যদের ধারণা আছে এদের মাঝে ভ্রান্ত আক্বীদা নাই অনেকটা পশুর মত কেননা মানুষ পশুর মাঝের পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য হলো ইলম ইদরাক (বুঝার ক্ষমতা) আসলে তারা পশুর চেয়েও অধম কেননা পশুরা তাদেরকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সে বিষয়ে অনেক অগ্রগামী দ্বিতীয়টি হলো,‘জাহলী মুরাক্কাব ভ্রান্ত ভ্রষ্ট আক্বীদায় পূর্ণ ইসলামী ইতিকাদের স্পষ্ট নাস্ রয়েছে এমন মৌলিক বিষয় সম্পর্কে গ্রিক দার্শনিকদের মত,মনগড়া ইতিকাদের অনুসারী বাহাত্তরটি বিদয়াত ফিরকা এর অন্তর্ভুক্ত এই জাহালত প্রথমটির চেয়ে অধিক ভয়াবহ চিকিৎসা নাই এমন এক মহারোগের মত

. কুফর- জুহুদী, একে কুফর- ইনাদীও বলা হয় জেনে শুনে ইচ্ছাকৃতভাবে জেদের বশবর্তী হয়ে কুফুরী করা অহংকারের কারণে ক্ষমতার মোহে লোভে কিংবা প্রতিপত্তি হ্রাসের আশঙ্কায় তারা ঈমান গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকে ফিরাউন তার অনুসারীদের রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কুফর এই ধরণের

তৃতীয় প্রকারের কুফর হলো কুফর- হুকমী ইসলামিয়্যাতের মতে ঈমানহীনতার আলামত হিসেবে বিবেচিত কথা,কর্ম কিংবা আচরণ করলে ব্যক্তি কাফির হিসেবে পরিগণিত হয়, যদিও সে ক্বালবের দ্বারা ঈমানকে সমর্থন করে মৌখিকভাবে তা স্বীকার করে ইসলামিয়্যাত যা কিছুকে তাচ্ছিল্য করে সেগুলোকে সম্মান প্রদর্শন করলে আর যা কিছুকে সম্মান প্রদর্শনের আদেশ দেয় সেগুলোকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করলে কুফুরী হয়৷

কুফর হিসেবে বিবেচিত কথা,কর্ম আচরণ

. আল্লাহ্ তায়ালা আরশ থেকে কিংবা আসমান থেকে আমাদের দেখছেন বললে কুফর হবে

. তুমি আমাকে যেভাবে জুলুম করছ আল্লাহ্ তায়ালাও তোমার সাথে একইভাবে জুলুম করছে বললে কুফুরী হবে

. অমুক মুসলমান আমার চোখে ইয়াহুদীর মত বললে কুফুরী হবে

. কোন মিথ্যা কথার ব্যাপারে আল্লাহ্ তায়ালা জানে যে এটি সত্য বললে কুফুরী হবে

.ফেরেশতাদের ব্যপারে অপমানজনক কিছু বললে কুফুরী হবে

. পবিত্র কুরআন মজীদ সম্পর্কে এমনকি এর একটি হরফকেও যদি তাচ্ছিল্য করা হয় কিংবা অস্বীকার করা হয় তবে তা কুফুরী হবে

.বাজনা বাজিয়ে তার তালে তালে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা কুফুরী

. প্রকৃত তাওরাত এবং ইনজিল কিতাবকে অস্বীকার করা, তা সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করা কুফুরী (বর্তমানে অবিকৃত কোন তাওরাত ইনজিল মওজুদ নাই

. পবিত্র কুরআনের অবিখ্যাত যে সকল ক্বিরাত রয়েছে শুধুমাত্র সেগুলোকে কুরআন হিসেবে গ্রহণ করলে কুফর হবে

১০. পয়গম্বরদের মধ্য থেকে কোন একজনকেও যদি উপহাস করা হয় তা কুফুরী হবে

১১. পবিত্র কুরআন শরীফে যে পঁচিশজন পয়গম্বরের নাম উল্লেখ রয়েছে তাদের কাউকে পয়গম্বর হিসেবে অস্বীকার করলে কুফর হবে

১২. অতি সৎকর্ম সম্পাদনকারী কাউকে পয়গম্বরদের থেকেও উত্তম বললে কুফর হবে

১৩ পয়গম্বরগণ অভাবী ছিল বললে কুফুরী হবে কেননা তারা নিজেরাই তাদের দরিদ্রতা গ্রহণে ইচ্ছুক ছিলেন

১৪. কেউ নিজেকে পয়গম্বর বলে দাবী করলে সেতো কাফির হবেই,তাকে যারা বিশ্বাস করবে তারাও কাফির হবে

১৫ আখিরাতে সংঘটিত হবে এমন বিষয় নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করলে কুফুরী

১৬ কবরের আযাব পরকালীন শাস্তিকে অবিশ্বাস করলে কুফুরী হবে

১৭. জান্নাতে মহান আল্লাহ্ তায়ালার দর্শন লাভের বিষয়কে অস্বীকার করলে কুফর হবে আমি জান্নাত চাই না,বললে কুফর হবে

১৮.বিজ্ঞানের যে সব তথ্য ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলোকে গ্রহণ করলে কিংবা ইসলামের চেয়ে অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করলে কুফর হবে

১৯.নামাজ আদায় করা আর না আদায় করা একই কথা,বললে কুফুরী হবে

২০. যাকাত আদায় করব না,বললে কুফর হবে

২১ সূদ খাওয়া যদি হালাল হতো কতই না ভাল হতো বললে কুফরী হবে

২২.ইশ জুলুম করা যদি হালাল হতো,বললে কুফুরী হবে

২৩ হারামভাবে অর্জিত সম্পদ থেকে ফকিরকে দান করে সওয়াব অর্জনের আশা করলে কুফরী হবে একইভাবে ফকির যদি তাকে প্রদত্ত অর্থ সম্পদের হারাম হওয়ার বিষয়টি জেনেশুনে দানকারীর কল্যানের জন্য দোয়া করেতাও কুফুরী হবে

২৪.ইমাম আজম আবু হানিফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর কিয়াস্ হক নয়,বললে কুফুরী হবে ওহাবীদের ব্যপারে সতর্ক হওয়া উচিত

২৫.মশহুর (বিখ্যাত) সুন্নাতের কোনটিকে অপছন্দ করলে কুফুরী হবে

২৬আমার কবর মিম্বারের মাঝের অংশটুকু জান্নাতের বাগানগুলির থেকে একটি বাগান' এই হাদীস শরীফটিকে অস্বীকার করলে, ঠাট্টা করলে কিংবা যদি বলে যে,আমি ওখানে মিম্বার,দেয়াল কবর ব্যতীত আর কিছু দেখছি না,বললে কুফুরী হবে

২৭. ইসলামের আদর্শ জ্ঞানকে অবিশ্বাস করা, এই ধরণের ইলম আলেমকে অপদস্ত করলে,অসম্মান করলে কুফর হবে

২৮.কেউ যদি কাফির হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে তবে এর নিয়্যাত করার সাথে সাথে কাফির হয়ে যাবে

২৯.অন্য কোন ব্যক্তির জন্য সে যেন কাফির হয়ে যায় এই ধরণের ইচ্ছা পোষণ করলে কুফুরী হবে

৩০. যেসব আঁচার আচরণ,কথা বার্তা বললে কুফুরী হয় সেগুলি জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে বললে, ব্যক্তি কাফিরে পরিণত হয় না জেনে বললেও অধিকাংশ আলেমের মতে কুফুরী হয়

৩১. একইভাবে যে সব কাজ কর্ম করলে কুফুরী হয় তা জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে করলে ব্যক্তি কাফিরে পরিণত হয় অধিকাংশ আলেমের মতে,না জেনেশুনে করলেও কুফুরী হয়

৩২ গলায় রুশ পরিধান করলে কিংবা এরূপ কুফরের সাথে সম্পর্কিত চিহ্ন বা আলামত সমৃদ্ধ কোন কিছু পরিধান করলে কুফুরী হবে তাদারুল হারবতথা অমুসলিমদের রাজ্যে অবস্থানরত অবস্থায় ব্যবহার করলেও কুফুরী হবে এই ধরণের পোশাক বা চিহ্ন সম্বলিত কিছু কৌতুক করার জন্য,অন্যদেরকে হাসানোর জন্য কিংবা ঠাট্টা-তামাসা করার জন্য ব্যবহার করলেও কুফরের কারণ হবে

৩৩.অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবের দিনগুলিতে দিবসের সাথে সম্পর্কিত কোন কিছু তাদের মত করে ব্যবহার করলে তাদেরকে উপহার দিলে কিংবা উদযাপন করলে কুফুরী হবে

৩৪ কাউকে অবাক করার জন্য,হাসানোর জন্য,মন আকর্ষনের জন্য কিংবা উপহাস করার জন্য কিছু বললে তা কুফর হুকমী থেকে মুক্ত হবে একইভাবে ক্ষোভ,ক্রোধ কিংবা বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে কিছু বললে তাও কুফর- হুকমী হবে না

৩৫.কেউ কারো গীবত করার পর যদি বলে,আমি গীবত করিনি বরং তার মাঝে যা আছে তাই প্রকাশ করেছি বললে কুফুরী করা হবে

৩৬. শৈশবকালে অবিভাবকের পক্ষ থেকে বিয়ে দেয়া হয়েছে এমন মেয়ে আকেল বালেগ হওয়ার সময় ঈমান ইসলাম সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান বা ধারণা না রাখলে, নিকাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং সে মুরতাদ হবে একইভাবে তা পুরুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য

৩৭.কোন মুমিনকে অন্যায়ভাবে হত্যাকারী কিংবা হত্যার আদেশদানকারী ব্যক্তিকে ভাল করেছ বললে কুফুরী হবে

৩৮ শরিয়ত অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডতুল্য শাস্তি পায় না এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, তাকে হত্যা করা আবশ্যক,বললে কুফুরী হবে

৩৯. যে কাউকে অন্যায়ভাবে আঘাতকারী কিংবা হত্যাকারী জালিম ব্যক্তিকে ভাল করেছ এটাই তার জন্য উপযুক্ত হয়েছে বললে কুফুরী হবে

৪০. মিথ্যামিথ্যিভাবে কাউকে আল্লাহ্ তায়ালা জানেন যে আমি তোমাকে আমার সন্তানদের চেয়েও অধিক ভালোবাসি,বললে কুফুরী হবে

৪১.কেউ হাঁচি দেয়ার পর এর জবাবে অন্যকেউইয়ারহামুকাল্লাহুবলার পরে সে যদি বলে হাঁচির জবাবে এভাবে বলা উচিত নয়,তাহলে তা কুফুরী হবে

৪২. অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হিসেবে বিশ্বাস না করে এবং গুরুত্বহীন মনে করে নামাজ না পড়লে রোজা না রাখলে এবং যাকাত না দিলে কুফর হবে

৪৩. মহান আল্লাহ্ তায়ালার রহমতের থেকে নিরাশ হলে কুফর হবে

৪৪ মূলত হারাম নয়,কিন্তু অন্য কোন কারণে পরবর্তীতে হারাম হিসেবে বিবেচিত কোন সম্পদ,অর্থকড়ি ইত্যাদিকেহারাম লি-গাইরিহিবলা হয় চুরি ডাকাতি করার মাধ্যমে কিংবা হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ এরূপ হারামের অন্তর্ভুক্ত কেউ যদি এধরণের সম্পদকে হালাল বলে তবে কুফর হবে না মৃত প্রাণী, শুকর, মদ ইত্যাদির মত মৌলিকভাবেই হারাম কিছুকেহারাম লি- আইনিহি' বলা হয় কেউ যদি এগুলোকে হালাল বলে দাবী করে তাহলে কুফর হবে

৪৫.যে সব গুনাহের হারাম হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহের কোন অবকাশ নাই সেগুলোকে যদি কেউ হালাল বলে তবে কুফর হবে

৪৬. আযান মসজিদ,দ্বীনি কিতাব ইত্যাদির মত ইসলাম অনুযায়ী সম্মানিত কোন কিছুকে অসম্মান করলে উপহাস করলে কুফর হবে

৪৭. জেনে শুনে অজু বিহীন অবস্থায় নামাজ আদায় করলে কুফর হবে

৪৮ জেনে শুনে ক্বিবলা ব্যতীত অন্য কোন দিকে ফিরে নামাজ আদায় করলে কুফর হবে কেউ যদি বলে, নামাজ আদায়ের জন্য ক্বিবলামুখী হওয়া আবশ্যক নয় তবে তাও কুফুরী কর্ম হবে

৪৯.কোন মুসলমানকে সে যেন কাফির হয়ে যায় এটা প্রত্যাশা করে তাকে কাফির বললে কুফর হবে

৫০. গুনাহের কোন কাজকে গুনাহ হিসেবে বিবেচনা না করে করতে থাকলে কুফর হবে

৫১. ইবাদত করার আবশ্যকীয়তা এবং গুনাহ থেকে বিরত থাকার জরুরতকে অবিশ্বাস করলে কুফর হবে

৫২. ইসলামী রাষ্ট্র কর্তৃক আদায়কৃত করকে সুলতানের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করলে কুফর হবে

৫৩.কাফিরদের ধর্মীয় উপাসনা বা উৎসবকে পছন্দ করলে জরুরী না হওয়া সত্ত্বেও তাদের পোশাক পরিধান করলে তাদের ধর্মীয় চিহ্ন বা আলামত সম্বলিত কোন কিছু ব্যবহার করলে এবং এগুলোর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করলে কুফর হবে

৫৪.কেউ যদি হলোফ করে বলে যে,অমুক জিনিস অমুকের কাছে আছে অথবা নাই যদি এরূপ না হয় তবে আমি কাফির হয়ে যাব,কিংবা ইহুদী হয়ে যাব এমতাবস্থায় জিনিসটি সে যেভাবে বলছে সেভাবে অমুকের কাছে থাকুক বা না থাকুক,স্বেচ্ছায় তার দ্বারা কুফরে প্রবেশ করা হবে

৫৫. যিনা, সমকামিতা, সূদ, মিথ্যা ইত্যাদির মত সকল ধর্মানুযায়ী হারাম হিসেবে বিবেচিত কোন পাপাচারের জন্য,ইশ এটা যদি হালাল হত,আমিও তাহলে উপভোগ করতে পারতাম বলে আকাঙক্ষা করলে কুফর হবে

৫৬. সকল পয়গম্বর আলাইহিস্ সালাতু ওয়াস্ সালামের উপর ঈমান এনেছি কিন্তু হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম পয়গম্বর ছিলেন কিনা তা জানি না,বললে কুফর হবে

৫৭. হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বশেষ পয়গম্বর হিসেবে বিশ্বাস না করলে অথবা ব্যাপারে অজ্ঞ হলে কাফির হবে

৫৮.কিউ যদি বলে যে, পয়গম্বরগণ যা বলেছেন তা সত্য হলে আমরা বেঁচে গেছি তাহলে তা কুফর হবে কেননা ধরণের বক্তব্যের দ্বারা মূলত পয়গম্বরদের প্রচারিত দ্বীনের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা হয়

৫৯.কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে বলে,চল,নামাজ আদায় করি এবং এর উত্তরে ব্যক্তি আমি নামাজ আদায় করব না বললে কুফর হবে তবে ব্যক্তি যদি এর দ্বারা এটা বুঝাতে চায় যে,তোমার কথায় নামাজ পড়ব না বরং আল্লাহ্ তায়ালার আদেশের কারণে নামাজ আদায় করব,তাহলে কুফর হবে না

৬০. কেউ যদি কাউকে বলে যে, দাঁড়িকে এক মুঠির চেয়ে ছোট কর না অথবা এক মুঠির চেয়ে অতিরিক্ত অংশ কাট নখ কাট কেননা এগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত আর এর প্রতি উত্তরে ব্যক্তি আমি কাটব না বললে কুফর হবে অন্যান্য সুন্নাতের ক্ষেত্রেও এই হুকুম প্রযোজ্য তবে যদি ব্যক্তি তার কথার দ্বারা বুঝাতে চায় যে তুমি বলছ বলে নয় বরং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত হওয়ার কারণে আমি করব,তাহলে কুফর হবে না সুন্নাতকে অস্বীকার বা অগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে বলে থাকলে কুফর হবে

৬১ কেউ যদি বলে, দাঁড়ি রাখলাম, গোঁফ ছোট করলাম কই কোন উপকারতো হলো না,তবে এর দ্বারা কুফুরী হওয়ার সম্ভাবনা আছে কেননা,দাঁড়ি রাখা গোঁফ ছোট করা সুন্নাত, আর এই ধরণের আচরণ দ্বারা সুন্নাতকে উপহাস করা হয়

৬২.কোন ব্যক্তি মাথা থেকে পা পর্যন্ত রেশমের কাপড় পরিধান করলে এবং অন্য কেউ তার এই অবস্থাকে মুবারক হোক বললে তা ব্যক্তির জন্য কুফুরীর আচরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

৬৩. কেউ ক্বিবলার দিকে পা প্রসারিত করে শুলে কিংবা ক্বিবলামুখী হয়ে প্রস্রাব করার মত কোন মাকরুহ কাজ করে এবং অবস্থায় কেউ তাকে এসব কাজ মাকরুহ তুমি এগুলো করা থেকে বিরত থাক বলার পর ব্যক্তি যদি জবাবে বলে,আমার দ্বারা কৃত সকল গুনাহ যদি এমন মাকরুহ হত,তবে তা কুফর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কেননা এর দ্বারা সে মাকরুহকে গুরুত্বহীন বিবেচনা করেছে

৬৪.কোন ব্যক্তির সেবক দরজা দিয়ে ভিতরে প্রবেশের সময় তার মনিবকে সালাম প্রদান করলে এবং মনিবের নিকট অবস্থানরত কোন ব্যক্তি যদি এজন্য তাকে বলে,চুপ কর, মনিবকে কি এভাবে সালাম দিতে হয় তাহলে যে ব্যক্তি বলল তার দ্বারা কুফর সম্পাদিত হবে তবে ব্যক্তি যদি আদব কায়দা শিখানোর উদ্দেশ্যে এরূপ করে থাকে যেমন সালাম অন্তর থেকে দেয়া উচিত তা বুঝাতে চাইলে কুফর হবে না

৬৫ ঈমান বৃদ্ধি পায় কিংবা হ্রাস পায় বললে কুফর হয় কিন্তু এর দ্বারা যদি ঈমানের পরিপূর্ণতা কিংবা দৃঢ়তার হ্রাস বা বৃদ্ধি বুঝানো হয় তবে তা কুফর হবে না

৬৬. মুসলমানদের ক্বিবলা দুইটি,একটি কা'বা শরীফ অপরটি কুদুস্ বললে কুফুরী হবে অর্থাৎ বর্তমানে ক্বিবলা দুইটি বললে কুফর হবে কিন্তু যদি এভাবে বলে যে, পূর্বে বাইতুল মুকাদ্দাস ক্বিবলা ছিল পরবর্তীতে কা'বা শরীফ ক্বিবলা হয়েছে বললে কুফর হবে না

৬৭. কেউ যদি কোন ইসলাম আলেমের সাথে বিনা কারণে রাগ করে, অপছন্দ করে তবে তার এই ব্যবহারের দ্বারা কুফরে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে তাই ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত

৬৮.কোন কোন আলেমের মতে, কেউ যদি বলে যে,খাবার খাওয়ার সময় কথা না বলা মাজুসী তথা অগ্নিপূজকদের ভাল অভ্যাসগুলির একটি অথবা হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় স্ত্রী সহবাস না করা অগ্নিপূজকদের একটি ভাল অভ্যাস,তবে এর দ্বারা কুফরের সম্ভাবনা রয়েছে

৬৯. কোন ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হলো,তুমি কি মুসলমান এমতাবস্থায় যদি সে উত্তরে বলে,ইনশাল্লাহ এবং এর দ্বারা কি বুঝাতে চেয়েছে তা যদি ব্যাখ্যা না করে তবে তা কুফুরী হবে

৭০. কারো সন্তান মৃত্যুবরণ করার পর কেউ যদি তাকে বলে, আল্লাহ্ তায়ালার প্রয়োজন হয়েছে তোমার সন্তানের তাই নিয়ে গেছেন,তবে যে ব্যক্তি এরূপ বলল সে কুফুরী করল

৭১. কোন মহিলা কোমরে কালো ফিতা বাঁধলে এবং তাকে এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার পর উত্তরে সে যদি বলে এটাজুন্নার’ (বিধর্মীদের আলামত হিসেবে পরিধেয় ফিতা তবে কুফর হবে

৭২. কেউ যদি, হারাম কোন খাবার খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ্ বলে তবে কাফির হয়ে যাবে এই হুকুমহারাম লি.আইনিহি' এর জন্য অর্থাৎ মৃত প্রাণী,মদ, শুকর ইত্যাদির মত মৌলিকভাবেই হারাম বস্তুর জন্য প্রযোজ্য যে সব বস্তু মূলত হারাম নয়,অন্য কোন কারণে পরবর্তীতে হারামে পরিণত হয়েছে অর্থাৎহারাম লি গাইরিহিএর জন্য হুকুম এরূপ নয় ডাকাতি করা মাল খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ্ বললে কুফর হবে না কেননা এখানে মাল নিজে হারাম নয়,ডাকাতি করে অর্জন করা হারাম

৭৩.অন্যকারো কুফুরীর জন্য সন্তোষ প্রকাশ করাও কুফুরী হবে কেউ যদি কাউকে বদদোয়া করে বলে,আল্লাহ্ তায়ালা কাফির হিসেবে যেন তোমার জান কবজ করেন তাহলে বদদোয়াকারী ব্যক্তির দ্বারা কুফর সংঘটিত হবে কিনা এব্যাপারে আলেমগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন কেউ কাফির হোক এটা প্রত্যাশা করা কুফুরী তবে যদি কারো জুলুম, অত্যাচার বা পাপাচারের জন্য সে যেন চিরস্থায়ী কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হয় এই উদ্দেশ্যে তার কুফুরীর ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করলে কুফর হবে না

৭৪. কেউ যদি বলে,আল্লাহ্ তায়ালা জানেন যে, আমি কাজটি করিনি, অথচ সে নিজে জানে যে সে কাজটি করেছে তবে তা কুফুরী হবে কেননা এর দ্বারা আল্লাহ্ তায়ালার প্রতি অজ্ঞতাকে সম্পৃক্ত করা হয়

৭৫.কেউ কোন নারীকে কোন সাক্ষী উপস্থিত না করেই বিবাহ করে এবং সে নারী যদি বলে,আল্লাহ্ তায়ালা পয়গম্বর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের সাক্ষী,তবে উভয়ের দ্বারাই কুফুরী হবে হররত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে থেকে বা সত্বাগতভাবে গায়েব জানার ক্ষমতা রাখেন বললে কুফর হবে কেননা গায়েব একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালা জানেন এবং তিনি যাদেরকে যতটুকু জানান তারা শুধুমাত্র ততটুকু জানতে পারেন

৭৬ কেউ যদি বলে চুরিকৃত মাল কোথায় আছে তা আমি জানি কিংবা গায়েবী বিষয় সম্পর্কে আমি জানি তাহলে সে এবং তাকে যারা বিশ্বাস করবে সকলেই কাফির হয়ে যাবে যদি বলে যে, আমাকে গায়েবের ব্যাপারে জ্বিন সংবাদ সংগ্ৰহ করে দেয় তাহলেও কাফির হবে কেননা,জ্বিন কিংবা পয়গম্বরগণ সত্ত্বাগতভাবে বা নিজে থেকে গায়েব জানার ক্ষমতা নাই গায়েব শুধুমাত্র আল্লাহ্ তায়ালা জানেন এবং তিনি যাকে যতটুকু জানান সে ততটুকু জানতে পারে আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতীত কেউই নিজ ক্ষমতায় গায়েব জানতে পারে না

৭৭. কেউ আল্লাহ্ তায়ালার নামে কসম করতে চাইলে অন্য কেউ যদি তাকে বলে, তুমি আল্লাহ্র নামে কসম কর তা আমি চাই না বরং আমি চাই তুমি তা'য়ালাকের ব্যাপারে ইজ্জত কিংবা সম্ভ্রমের ব্যাপারে কসম কর,তবে যে ব্যক্তি এরূপ বলবে তার দ্বারা কুফর সংঘটিত হবে বলে কিছু আলেম মত দিয়েছেন

৭৮ কেউ যদি,তার অপছন্দনীয় কোন ব্যক্তিকে বলে যে তোমার দিদার বা চেহারা আমার জান কবজ করে,তাহলে কিছু আলেমের মতে তা কুফুরী হবে কেননা, জান কবজকারীর দ্বায়িত্ব পালনকারী হলেন মহান ফেরেশতা হযরত আজরাইল আলাইহিস্ সালাম

৭৯. কেউ যদি বলে, নামাজ আদায় না করা অতি উত্তম কাজ,তবে সে কাফির হয়ে যাবে কেউ যদি কাউকে বলে,চল নামাজ আদায় করি আর এর জবাবে ব্যক্তি যদি বলে,আমার পক্ষে নামাজ আদায় করা অনেক কষ্টকর কাজ, তাহলে কতিপয় আলেমের মতে তা কুফুরী হবে

৮০.কেউ যদি বলে,আল্লাহ্ তায়ালা আসমান থেকে আমার সাক্ষী,তবে তা কুফর হবে কেননা সে এর দ্বারা আল্লাহ্ তায়ালার প্রতি স্থান সম্পৃক্ত করল অথচ আল্লাহ্ তায়ালা স্থান,কাল পাত্র থেকে পবিত্ৰ৷

৮১.আল্লাহ্ তায়ালাকে কেউ বাবা বলে সম্বোধন করলে কাফির হয়ে যাবে

৮২. কেউ যদি বলে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খাবার খাওয়ার পর তার মুবারক হাতের আঙ্গুল চেটে খেতেন, এটা শোনার পর অন্য কেউ যদি বলে,এটা অসভ্যতা,তাহলে যে এরূপ বলল তার দ্বারা কুফর সম্পাদিত হলো

৮৩. কেউ যদি বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন,তবে তা কুফর হবে

৮৪ রিজিক আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে আসে কিন্তু এর জন্য বান্দার পরিশ্রম করা দরকার,বললে শিরক হবে কেননা বান্দার পরিশ্রম করার ক্ষমতাও আল্লাহ্ তায়ালাই প্রদান করেন

৮৫. কেউ যদি বলে, ইহুদী হওয়ার চেয়ে খৃস্টান হওয়া কিংবা কম্যুনিস্ট হওয়ার চেয়ে অ্যামেরিকান খৃস্টান হওয়া উত্তম,তবে তা কুফরের কারণ হবে কেননা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের ব্যাপারে উত্তম বলা যায় না উপরোক্ত কথাটি এভাবে বলা উচিত যে, ইহুদী খৃস্টানদের থেকে এবং কম্যুনিস্ট অ্যামেরিকান খৃস্টানদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর

৮৬. কাফির হওয়া খেয়ানত করার চেয়ে উত্তম,বললে কুফর হবে

৮৭. ইলিমের আসরে আমার কি কাজ অথবা আলেমগণ যা বলেন তা কার পক্ষে মানা সম্ভব বললে কিংবা আলেমদের দেয়া ফতোয়াকে গ্রহণ না করে ছুড়ে ফেললে এবং আলেমদের সম্পর্কে কটূক্তি করলে কুফর হবে

৮৮.কেউ এমন কোন কথা বলল যা কুফরের শামিল, তা শুনে যদি কেউ হাঁসে তবে তাও কুফর হবে তবে হাঁসতে বাধ্য হলে কুফর হবে না

৮৯. কেউ যদি বলে,অলী-আওলিয়ার রূহসমূহ সর্বদা হাজির তথা বর্তমান এবং তারা সবকিছু জানেন, তাহলে কুফর হবে তবে যদি বলে মাঝে মাঝে উপস্থিত হয়, তাহলে কুফর হবে না (আওলিয়ার রূহসমূহ কোন অবস্থাতেই আল্লাহ্ তায়ালার মত হাজির নাজির হতে পারে না তবে আল্লাহ্ চাইলে তাদেরকে স্মরণ করা হলে উপস্থিত হতে পারেন অর্থাৎ সর্বাবস্থায় হাজির হন না'

৯০ ইসলামিয়্যাত সম্পর্কে আমার ধারণা নাই কিংবা আমি তা জানতেও চাই না,বললে কুফর হবে

৯১. কেউ যদি বলে,হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম যব না খেলে আমরা মদখোর হতাম না,তাহলে কুফর হবে আর যদি এরূপ বলে,আমরা দুনিয়াতে থাকতাম না,সেক্ষেত্রে আলেমগণ কুফরের ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেছেন

৯২.কেউ বলল,হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম কাপড় বুনত আর তা শুনে অপর কেউ যদি বলে,তার মানে আমরা সবাই তাঁতির সন্তান তাহলে কুফর হবে

৯৩.কোন ব্যক্তি সগীরা গুনাহ করার পর অন্য কেউ তাকে এর জন্য তওবা করতে বলার পর উত্তরে ব্যক্তি যদি বলে,কী এমন গুনাহ করেছি যে তওবা করতে হবে তাহলে তা কুফর হবে

৯৪. কেউ অপর কাউকে বলল,চল মুসলমান আলেমের কাছে যাই কিংবা ফিকাহ্ এর কিতাব পরে কিছু শিখি,এর উত্তরে অপর ব্যক্তি যদি বলে,আমি এই ইলিম দিয়ে কি করব তাহলে তা কুফর হবে কেননা এর দ্বারা সে ইলিমকে অমর্যাদা করেছে

৯৫ তাফসীর ফিকাহ্-এর কিতাবসমূহকে গালি দিলে অপছন্দ করলে কিংবা এগুলো ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করলে কুফর হবে

৯৬. কেউ যদি কাউকে জিজ্ঞেস করে যে, তুমি কোন পরিবারের কার মিল্লাতের [আবুল মানসুর মাতুরিদী, আবুল হাসান আলী আশয়ারী]

অন্তর্ভুক্ত ইতিক্বাদের ক্ষেত্রে তোমার মাজহাবের ইমাম [ইমাম আজাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক বিন আনাস, ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইদ্রিস শাফি এবং ইমাম আহমেদ বিন হানবাল] কে,আমলের ক্ষেত্রে মাজহাবের ইমাম কে,আর এর উত্তর দিতে ব্যক্তি যদি অপারগ হয়,তাহলে কুফর হবে

৯৭. শরিয়ত অনুযায়ী যা নিশ্চিতভাবে হারাম এমন কিছুকে কেউ হালাল বললে সে কাফির হয়ে যাবে সিগারেটের ব্যাপারে হারাম বলাটা বিপদজনক)

৯৮ সকল ধর্ম অনুযায়ীই হারাম এবং যাকে হালাল বিবেচনা করাটা হিকমত তথা বিবেক বিরোধী এমন কিছু যেন হালাল হয়,এই প্রত্যাশা করা কুফরের শামিল জিনা-ব্যভিচার, সমকামিতা, উদরপূর্তির পরও খাবার গ্রহণ সূদের আদান প্রদান ইত্যাদির মত বিষয় সকল ধর্মেই হারাম মদের হালাল হওয়ার জন্য প্রত্যাশা করলে তা কুফর হবে না কেননা সকল দীন অনুযায়ী মদ হারাম নয়

৯৯ সম্মানিত পবিত্র কুরআন শরীফের আয়াত বা অংশ বিশেষ কোন কৌতুক বা ঠাট্টা-তামাসার জন্য ব্যবহার করা কুফরের অন্তর্ভূক্ত

১০০ ইয়াহিয়া নামের কাউকেইয়া ইয়াহিয়া খুজিল কিতাবাবললে কুফর হবে কেননা এর দ্বারা পবিত্র কুরআন শরীফের সাথে ঠাট্টা করা হয় বাজনার তালে কিংবা গানের মাঝে কুরআনই করীম তিলাওয়াত করার হুকুমও অনুরূপা

১০১.এখন আসলাম বিসমিল্লাতে বললে তা বিপদজনক কথা হবে কোন কিছু অধিক পরিমানে দেখেমা হালাকাল্লাহ্বললে এবং এর অর্থ না জেনে থাকলে কুফর হবে

১০২.কেউ যদি বলে,এখন তোমাকে গালি দিব না,কেননা গালির নাম গুনাহ রাখা হয়েছে তা আশঙ্কাজনক কথা হবে

১০৩. কেউ যদি বলে,জিবরাঈলের বাছুরের মত সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়েছ তা বিপদজনক কথা কেননা এর দ্বারা ফেরেশতাকে নিয়ে উপহাস করা হলো

১০৪.আমার সন্তানের মাথার জন্য কিংবা আমার মাথার জন্য বলে আল্লাহর নামে কসম করলে,তার কুফর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যেমন কেউ বলল,আল্লাহ্ কসম আমার সন্তানের মাথার জন্য

১০৫. পবিত্র কুরআন শরীফ দুরুদ শরীফ কিংবা হামদ নাত বাজনার তালে তালে কিংবা বাদ্য-বাজনা হচ্ছে এমন পরিবেশে পড়লে কুফর হবে

১০৬ পবিত্র কুরআন শরীফ দুরুদ শরীফ কিংবা হামদ নাত পাপাচার হচ্ছে এমন পরিবেশে সম্মানের সাথে পাঠ করা হারাম আর আনন্দ-ফুর্তি মজা করার জন্য পড়লে তা কুফর হবে

১০৭ সুন্নাত অনুযায়ী দেয়া আযান মুহাম্মদী যখন কানে আসবে তখন তা মনোযোগ দিয়ে না শুনে অবজ্ঞা করলে কুফর হবে

১০৮ পবিত্র কুরআন শরীফকে নিজের মনগড়া উপায়ে অনুবাদ করলে কুফর হবে

১০৯.যা পবিত্র কুরআন করিম হাদিস শরীফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যা মুজতাহিদ ইমামগণ ঐক্যমতের ভিত্তিতে ঘোষণা করেছেন এবং সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ব্যপকভাবে প্রচার প্রসার পেয়েছে এমন ঈমানী বিষয়সমূহকে যথাযথভাবে বিশ্বাস না করলে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে এই প্রকারের কুফুরীকেইলহাদএবং এরূপ বিশ্বাসীকেমুলহিদবলা হয়

১১০. কোন কাফিরকে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক সালাম প্রদান করলে তা কুফর

১১১ কাফিরকে সম্মান জ্ঞাপক কোন শব্দ বা বিশেষণের দ্বারা সম্বোধন করলে কুফর হবে যেমন কোন কাফিরকে উস্তাদ বললে

১১২ অন্য কারো কুফুরীর ব্যাপারে সন্তুষ্ট হলে তা কুফর হবে

১১৩ পবিত্র কুরআন শরীফের মোড়ক, গিলাফ কিংবা পৃষ্ঠা নির্দেশক ইত্যাদিও মুসহাফ- শরীফের মত সম্মানিত তাই এগুলো কে অসম্মান করলেও কুফর হবে

১১৪ জ্বিনের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারী গণক, রাশিচক্রের গতিবিধির পর্যবেক্ষনের দ্বারা ভবিষ্যতের বিষয়ে খবর প্রদানকারী জ্যোতিষী,ভূত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সর্বজান্তা বলে দাবিকারী জাদুকর ইত্যাদি ধরণের ব্যক্তিদের কাছে যেয়ে তারা যা বলে বা করে তা বিশ্বাস করলে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে যদিও তাদের কিছু কিছু কথা সত্য হয় কিংবা মিলে যায়,কেননা এর দ্বারা এই বিশ্বাস করা হয় যে,আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতীত অন্য কারো পক্ষেও গায়েব সম্পর্কে জ্ঞান রাখা সম্ভব এবং আল্লাহ্ কুদরত ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী কিছু করা সম্ভব যা সম্পূর্ণরূপে কুফরের শামিল

১১৫ সুন্নাতকে গুরুত্বহীন মনে করে ত্যাগ করলে কুফর হবে

১১৬ জুননার্ নামক খৃস্টানদের পরিধেয় ফিতা পরিধান করা কিংবা মুর্তি, প্রতিমা, ক্রুশ, উপাসনালয়ের ছবি ইত্যাদিকে ভক্তি করা, উপাসনা করা অথবা সম্মান প্রদর্শন করা কুফুরী আচরন হিসেবে বিবেচিত ইসলামী হুকুমসমূহকে ধারণকারী দ্বীনী কিতাবসমূহকে অবজ্ঞা করা,ইসলামী আলেমদের কাউকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করা,উপহাস করা কিংবা কাফির হওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত কোন কথা বলা বা লিখাও কুফুরী হবে এক কথায় শরিয়ত কর্তৃক সম্মান প্রদর্শনের জন্য আদেশ করা হয়েছে এমন কিছুকে অসম্মান করা,বিদ্রুপ করা আর সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিষেধ করা হয়েছে এমন কিছুকে সম্মান দেখালে,ভক্তি করলে কুফর হবে

১১৭ জাদুকর তার জাদুর মাধ্যমে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে, প্রকৃতপক্ষেই যাদুর প্রভাব রয়েছে এমন কথা যে বলে বা বিশ্বাস করে সে কাফির হবে

১১৮ কোন মুসলমানকে কেউ কাফির বলে সম্বোধন করার পর ব্যক্তি তাতে সম্মতিসূচক জবাব দিলে কাফির হয়ে যাবে

১১৯.হারাম সম্পদ কিংবা হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদের মাধ্যমে মসজিদ বানানো,সদকা দেয়া কিংবা অন্য কোন নেক আমল করা এবং এর বিনিময়ে আল্লাহ্ তায়ালার নিকট থেকে সওয়াব প্রত্যাশা করা কুফুরী কাজ

১২০ কোণ ব্যক্তি,জেনে শুনে নিশ্চিতভাবে হারাম এমন কোন সম্পদ থেকে সদকা হিসেবে দান করে সওয়াবের আশা করলে এবং যে ফকীর গ্রহণ করল সে তা জানা সত্ত্বেও দানকারীর জন্য আল্লাহ্র কাছে উত্তম দোয়া করলে উভয়ের দ্বারাই কুফর সম্পাদন করা হবে এই বিষয়টি জানা সত্ত্বেও ফকীরের দোয়ায় কেউ আমীন বললে তার জন্যও কুফর হবে

১২১ যাদের সাথে বিবাহ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম তাদেরকে বিবাহ করাকে কেউ হালাল বললে সে কাফির হবে

১২২. মদ্যশালা,পানশালা,আনন্দ ফুর্তির যায়গায় কিংবা পাপাচার করা হচ্ছে এমন কোন যায়গায় রেডিও কিংবা সাউন্ডবক্সের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন শরীফ কিংবা দুরুদ শরীফ শুনে উপভোগ করলে কুফর হবে

১২৩ বাদ্য বাজিয়ে তার তালে তালে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করলে কুফর হবে

১২৪ পবিত্র কুরআন শরীফের তিলাওয়াত সরাসরি হোক কিংবা রেডিও, টেলিভিশন মাইক বা সাউন্ডবক্সের মাধ্যমে হোক সর্বাবস্থাতেই যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে কোন অবস্থাতে এর অসম্মান করলে কুফর হবে

১২৫. আল্লাহ্ তায়ালা ব্যতীত অন্য কাউকে স্রষ্টা বললে, তা যে উদ্দেশ্য নিয়েই বলা হোক না কেন কুফর হবে

১২৬ আল্লাহ্ তায়ালার সিফাতের সাথে সম্পৃক্ত যেসব নাম রয়েছে সেগুলোকে বিকৃত করে ডাকলে এবং তা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে করে থাকলে কুফর হবে যেমন, আবদুল কাদিরকে কাদিরর্যা, আবদুল্লাহকে আবদুইল্ল্যা, আবদুল আজিজকে আজিজ্যা ইত্যাদি একইভাবে কারো নাম যদি নবী রাসূলদের কিংবা সাহাবীদের নামে হয় এবং তা বিকৃত করে ডাকা হলেও কুফর হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে যেমন,মুহাম্মদকে মেমো,হাসানকে হাস্সো,ইবরাহীমকে ইবো ইত্যাদি এছাড়া এই ধরণের নামকে যারা জুতা,মোজা ইত্যাদিতে মার্কা হিসেবে ছাপিয়ে অসম্মান করে তাদের ঈমান চলে যাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল

১২৭ ইচ্ছাকৃতভাবে অজু বিহীন অবস্থায় নামাজ আদায় করলে এবং কোন সুন্নাতকে অপছন্দ করলে তা কুফর হবে সুন্নাতকে গুরত্ব না দেওয়াও অনুরূপ

১২৮ জাহিল তথা মূর্খরা,আওলিয়াদেরকে স্রষ্টার আসনে বসাতে পারে এই শঙ্কার কারণে তাদের মাজারকে ধ্বংস করে দেয়া উচিত বললে কুফর হবে

১২৯ অন্য কারোর কাফির হওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখলেও কুফর হবে আর তা যদি নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে হয় তা হলেতো পরিণতি আরো ভয়াবহ হবে

১৩০. জিনা-ব্যভিচার,সমকামিতাকে বৈধ বললে কুফর হবে

১৩১নাস্এর মাধ্যমে অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের আয়াত কিংবা হাদীস শরীফের দ্বারা যে সব বিষয়কে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলোর থেকে বিরত থাকার ব্যপারে সতর্কতা অবলম্বন না করলে কুফর হবেইজমাঅর্থাৎ মুজতাহিদগণের ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্ধারিত হারামের ক্ষেত্রেও একই হুকুম প্রযোজ্য

১৩২ বারংবার কবীরা গুনাহ সম্পাদন করলে এবং তা করার জন্য সংকল্প করলে কুফর হবে নামাজের প্রতি যথাযথ গুরত্বারোপ না করলেও কুফর হবে

১৩৩ আয়াত কিংবা হাদীস লিখিত কাগজ কাপড়,চাঁদর কিংবা অনুরূপ কিছু অসম্মান করার উদ্দেশ্যে মাটিতে বিছালে কিংবা ব্যবহার করলে তা কুফর হবে এমনকি তা একটি অক্ষর হলেও আশঙ্কাজনক

১৩৪ হযরত আবুবকর সিদ্দীক হযরত উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুমাগণ খিলাফতের জন্য উপযুক্ত কিংবা হক্বদার ছিলেন না,বললে কুফর হবে

১৩৫.আল্লাহ্ তায়ালার সাথে সম্পর্কিত না করে সরাসরি কোন মৃত সত্ত্বার কাছ থেকে কিছু চাইলে বা প্রত্যাশা করলে কুফর হবে

১৩৬ আল্লাহ্ আওলিয়াকে বিভিন্ন বাবা বা দাদা নামে ডাকা অশোভন এবং তা কুফরের কারণ হতে পারে

১৩৭ মৃত ব্যক্তিকে কবর দেয়া ফরজ হওয়ায়, এই ফরজকে গুরুত্ব না দিয়ে তার আত্মীয়স্বজন কিংবা পাড়া প্রতিবেশী কবর দেয়ার ব্যবস্থা না করে অবহেলা করে তবে কুফর হবে কেউ যদি জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুক্তি দিয়ে বলে যে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা সেকেলে,এর চেয়ে বরং বৌদ্ধ হিন্দু কিংবা কম্যুনিস্টদের মত করে আগুনে পোড়ানো উত্তমতার ঈমান চলে যাবে সে মুরতাদ হয়ে যাবে

১৩৮ জীবিত হোক কিংবা মৃত আল্লাহ্ তায়ালার আওলিয়ার মাঝ থেকে কাউকে মৌখিকভাবে হোক কিংবা ক্বালবের দ্বারা হোক, অস্বীকার করা কুফর হবে৷

১৩৯ আওলিয়ার এবং যে সমস্ত আলেম স্বীয় ইলম্ অনুযায়ী আমল করে তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা কুফর হবে

১৪০.আওলিয়ার ক্ষেত্রেইসমত্অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে গুনাহ করা থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে এমন বিশেষণ রয়েছে বললে কুফর হবে ইসমত নামক গুণটি শুধুমাত্র পয়গম্বরদের জন্য প্রযোজ্য

১৪১. যার ইলম্ বাতেনী সম্পর্কে কোন ধারণা নাই তার ঈমান চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এর সম্পর্কে ধারণা রাখার নূন্যতম পর্যায় হলো এর অস্তিত্বকে স্বীকার করা

১৪২ পবিত্র কুরআন শরীফের যে কয় ধরণের ক্বিরাত ইসলামে স্বীকৃত সেগুলি থেকে বিকৃত কোন রূপে পাঠ করলে তা কুফর হবে, যদিও তাতে শব্দের কিংবা অর্থের ক্ষেত্রে কোন ধরণের পরবর্তন সাধিত না হয়

১৪৩ ইহুদী কিংবা খৃস্টান ধর্মযাজকরা যেভাবে ইবাদত করে কিংবা ইবাদতের সময় যা ব্যবহার করে অর্থাৎ যা তাদের চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত এমন কিছু ব্যবহার করা কুফরের কারণ

১৪৪. যে কোন কিছু কিংবা ঘটনা নিজে নিজেই হয়েছে এই কথা বিশ্বাস করলে ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে বিবর্তনবাদে তথা সকল প্রাণী এক কোষী থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে বহু কোষীতে,তারপর আরো উন্নত পর্যায়ে এবং সর্বশেষ মানুষে পরিণত হয়েছে এই মতবাদকে বিশ্বাস করলে কুফর হবে

১৪৫.ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ পরিত্যাগ করলে ভবিষ্যতে তা ক্বাজা করার কোন নিয়্যাতও না করলে এবং এর কারণে যে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে তাকে অবিশ্বাস করে অবহেলা করলে,হানাফী মাজহাব অনুযায়ীও ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে

১৪৬ কাফিরদের ইবাদত হিসেবে বিবেচিত কোন কিছুকে ইবাদত হিসেবে করলে কুফর হবে যেমন, গীর্জাতে যেভাবে ঘন্টা বাজানো হয় তা যদি কেউ মসজিদে বাজায় তা কুফর হবে ইসলামিয়্যাত যেসব কিছুকে কুফরের আলামত হিসেবে বিবেচনা করে সেগুলিকে অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন কিংবা বাধ্য না হওয়া সত্ত্বেও ব্যবহার করলে কুফর হবে

১৪৭ সম্মানিত সাহাবীগণকে যারা গালি দেয় তাদেরকে মুলহিদ বলা হয় মুলহিদ হওয়ার মানে হলো কাফির হওয়া

১৪৮ কোন কাফিরের ছবিকে উঁচু কোন স্থানে ঝুলিয়ে সম্মান প্রদর্শন করলে কুফর হবে

১৪৯. কোন ছবি প্রতিমা, মূর্তি ক্রুশ কিংবা নক্ষত্র সূর্য গরু ইত্যাদির মত যে কোন কিছুর মাঝে উলুহিয়্যাতের গুণাবলী রয়েছে তা বিশ্বাস করলে এবং কারণে সম্মান প্রদর্শন করলে ব্যক্তি কাফির হ্যে যাবে উলুহিয়্যাতের গুণাবলী বলতে বুঝানো হয়েছে যে,যা ইচ্ছা তা করতে পারা, রোগীর সুস্থতা দান করা ইত্যাদির ক্ষমতার অধিকারী হওয়া

১৫০ হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে মিথ্যা অপবাদ দিলে এবং তার বাবা হযরত আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সাহাবী হিসেবে অস্বীকার করলে কুফর হবে

১৫১. হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালামের আকাশ থেকে পৃথিবীতে অবতরণের বিষয়টি অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে এটা বিশ্বাস না করলে কুফর হবে

১৫২ পবিত্র কুরআন মজিদ হাদীস শরীফে যাদের ক্ষেত্রে জান্নাত প্রাপ্তির ব্যাপারে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে তাদের কাউকে কাফির বললে কুফর হবে

১৫৩ বিজ্ঞানের আওতার বাইরের কোন বিষয়, যার সাথে বিজ্ঞানের কোন সম্পর্ক নাই পবিত্র কুরআনের এমন আয়াতগুলিকে, বিজ্ঞানের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করলে এবংসালাফ- সালিহীনএর তাফসীরকে পরিবর্তন করলে তা অনেক বড় গুনাহ হবে যারা এরূপ তরজমা কিংবা তাফসীর করবে তারা কুফর করার সামিল হবে

১৫৪ মুসলমান হিসেবে পরিচিত কোন শিশু আকিল বালিগ তথা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে ইসলামিয়্যাত সম্পর্কে কোন ধারণা অর্জন না করলে বা মৌলিক বিষয়গুলিকে বিশ্বাস না করলে কাফির হয়ে যাবে এটা ছেলে, মেয়ে উভয়ের জন্যই প্ৰযোজ্য

১৫৫ মুসলমান নারীদের জন্য সতরের অন্তর্ভুক্ত কোন অঙ্গ যেমন মাথা হাত,পা ইত্যাদিকে অনাবৃত করে চলাফেরা করা এবং পরপুরুষকে তা প্রদর্শন করানো হারাম তাই এরূপ করলে অনেক বড় গুনাহ হবে এই হুকুমকে যথযথ গুরুত্ব না দিলে এবং ব্যাপারে সতর্ক না হলে ঈমান চলে যাবে কুফরে পতিত হবে

১৫৬ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক যে সকল ফরজ হারাম নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে তা, পবিত্র কুরআন করীমের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে নির্ধারন করা ফরজ হারামের সমতূল্য এবং সমানভাবে কার্যকর এধরণের ফরজ হারামকে যারা গ্রহণ করবে না তাদের ঈমান চলে যাবে এবং তারা কাফিরে পরিণত হবে

১৫৭. নামাজে রুকুর তাসবীহতেসুবহানা রাব্বিয়াল আজীম' বলার সময়েজোয়াএর উচ্চারণ সঠিকভাবে করলে এর অর্থ হয়,আমার রব সুমহান এক্ষেত্রে কেউ যদি জোয়া এর বদলেজালউচ্চারণ করে এর অর্থ দাঁড়াবে আমার রব আমার শত্রু এভাবে বললে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং অর্থের পরিবর্তনের কারণে তা কুফরের কারণ হবে

১৫৮ পবিত্র কুরআন করীমকেতাগান্নী মাধ্যমে তিলাওয়াতকারী কোন হাফিজকে কত সুন্দর তিলাওয়াত করেছ বললে তার ঈমান চলে যাবে কুফরে পরিণত হবে চার মাজহাব অনুযায়ীই হারাম এমন কিছুকে সুন্দর বললে কুফর হবে তবে যদি এর দ্বারা তার কন্ঠ বা আওয়াজ সুন্দর কিংবা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিষয়টি সুন্দর এটা বুঝানো হয় তবে কুফর হবে না৷

১৫৯. ফেরেশতাদের জ্বিনদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করলে কাফির হবে

১৬০ পবিত্র কুরআন শরীফের আয়াত শব্দের অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করার সময় স্পষ্ট মশহুর অর্থ প্রদান করতে হয় এই অর্থগুলিকে পরিবর্তন করে বাতেনী তথা ইসমাইলী শিয়াদের মত করে অনুবাদ করলে কুফর হবে

১৬১. যাদু করার সময় কুফরের কারণ হিসেবে বিবেচিত কোন কথা বা আচরণ করলে কুফর হবে

১৬২.কোন মুসলমানকে এই কাফির বলে কিংবা এই মাসন এই কম্যুনিস্ট বলে সম্বোধন করলে এবং তাকে কাফির হিসেবে বিশ্বাস করলে, যে এরূপ করল সে নিজেই কাফির হয়ে যাবে

১৬৩ যথাযথভাবে ইবাদত করা সত্ত্বেও কেউ যদি নিজের ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সঙ্কোচে ভোগে এবং ভাবে যে,আমার অনেক গুনাহ রয়েছে তাই কৃত ইবাদতগুলি আমার মুক্তির জন্য যথেষ্ট নয়,তাহলে তা ব্যক্তির শক্তিশালী ঈমানের অধিকারী হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে আর কেউ যদি ভাবে,আমার ঈমান নষ্ট হওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই তাহলে তার কুফরে পতিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

১৬৪ পয়গম্বরদের সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বললে, পয়গম্বর না হওয়া সত্ত্বেও কাউকে পয়গম্বর হিসেবে গ্রহণ করা হতে পারে অথবা পয়গম্বর হওয়া সত্ত্বেও কাউকে সে হিসেবে গ্রহণ না করা হতে পারে আর এরূপ করলে কুফর হবে কেননা, পয়গম্বরদের মধ্য থেকে একজনকেও অস্বীকার করলে তা সমস্ত পয়গম্বরকে অস্বীকার করার শামিল হবে

পুরুষ হোক কিংবা নারী, কোন মুসলমান, আলেমগণের ঐক্যমতের ভিত্তিতে কুফরের কারণ হিসেবে বিবেচিত কোন কথা কিংবা কাজ,যা সম্পাদন করলে কুফরে পতিত হতে হবে জেনে শুনে সচেতনভাবে নিজ ইচ্ছায় অর্থাৎ কোন হুমকির সম্মুখীন হয়ে নয় বললে অথবা করলে তার ঈমান চলে যাবে কেউ তা অসচেতনভাবে ঠাট্টা তামাশার উদ্দেশ্যে কিংবা এর মর্মার্থ অনুধাবন না করে বললেও একই হুকুম প্রযোজ্য ঈমানদারের ঈমান চলে গেলে সে মুরতাদ হিসেবে বিবেচিত হয় এই ধরণের ঈমানহীনতাকেকুফর- ইনাদী' বলা হয় কুফর- ইনাদীর কারণে যে মুরতাদ হয় তার পূর্বেকার সমস্ত সওয়াব বাতিল হয়ে যায় পরবর্তীতে তওবা করলেও তা আর পুনগৃহিত হয় না একারণে ব্যক্তি ধনী হলে এবং একবার ফরজ হিসেবে পালন করা সত্ত্বেও তওবার পর পুনরায় তার উপর হজ্জ ফরজ হবে মুরতাদ অবস্থায় আদায় করা নামাজ, রোজা যাকাতসমূহের ক্বাজা করতে হবে না তবে কুফরই ইনাদী সম্পাদনের পূর্বের ক্বাজা সমূহ আদায় করবে তওবা করার জন্য শুধুমাত্রকালিমা- শাহাদাত' বলা যথেষ্ঠ নয় যে কারণে কুফরে পতিত হয়েছে তা আর কখনো সম্পাদন না করার ব্যাপারেও তওবা করতে হবে (যেই দরজা দিয়ে ইসলাম থেকে বের হয়েছে সেই দরজা দিয়েই পুনরায় প্রবেশ করা আবশ্যক কুফরের কারণ হবে তা না জেনে যদি কেউ এমন কিছু বলে কিংবা করে অথবা কুফরের কারণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ক্ষেত্রে আলেমদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে এমন কথা বা কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে বলে,তাহলে তার ঈমান চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেক্ষেত্রে তার নিকাহও বাতিল হয়ে যাবে তাই সাবধানতার জন্যতাজদীদই ঈমান নিকাহ' করা উত্তম হবে কুফরের কারণ হিসেবে বিবেচিত কোন কিছু না জেনে অজ্ঞতাবশত বলা বা করাকেকুফর- জাহলোবলা হয় এক্ষেত্রে তার অজ্ঞতা উজর হিসেবে নয়, বরং বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হয় কেননা প্রত্যেক মুসলমানের উপর, শরীয়ত অনুযায়ী জীবন ধারণের জন্য আবশ্যকীয় জ্ঞানসমূহ অর্জন করা ফরজ কুফরের কারণ হিসেবে বিবেচিত কথা বা কাজ ভুল করে অথবা পরোক্ষভাবে যার তাওয়ীল বা ব্যখ্যার দ্বারা কুফরের কারণ নয় তা সাব্যস্ত করা সম্ভব এমনকিছু বললে বা করলে ঈমান নিকাহ বাতিল হয় না শুধুমাত্র তওবা ইসতিগফার,অর্থাৎতাজদীদ ঈমান' করা তার জন্য কল্যানকর হবে

একজন কাফির যেমন একটিমাত্র বাক্য তথাকালিমাই তাওহীদ' বলার মাধ্যমে মুমিনে পরিণত হয়, ঠিক তেমনি একজন মুমিনও ঈমানবিরোধী একটিমাত্র বক্তব্যের দ্বারা কাফিরে পরিণত হতে পারে একজন মুসলমানের কোন কথা বা কাজের মাঝে শত অর্থ নিহিত থাকলে অর্থাৎ শতভাবে তা বুঝার অবকাশ থাকলে এবং এগুলোর মধ্য থেকে একটিও যদি তার ঈমানদার হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে বাকী নিরানব্বইটি কুফরের প্রতি নির্দেশ করে তবুও তাকে মুসলমান হিসেবে বিবেচনা করা আবশ্যক হবে অর্থাৎ কুফরের প্রতি নির্দেশ করে এমন নিরানব্বইটি অর্থ এক্ষেত্রে গৃহীত হবে না ঈমানের প্রতি নির্দেশকারী একটি অর্থকেই প্রাধান্য দিতে হবে এই ব্যাপারে ভুল বুঝা উচিত হবে না এর জন্য,দুইটি বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে প্রথমটি হলো,বক্তা বা কর্তার মুসলমান হওয়া আবশ্যক কোন বিধর্মী ব্যক্তি পবিত্র কুরআন শরীফের প্রশংসা করলে বা কোন খৃস্টানআল্লাহ্ একবললে, এই কথার কারণে তাদেরকে মুসলমান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না দ্বিতীয়টি হলো,কোন কথা বা কাজের শত অর্থ থাকলে বলা হয়েছে এর মানে এই নয় যে, কোন ব্যক্তির শত কথা বা কাজের মাঝে একটি ঈমানের প্রতি আর বাকী নিরানব্বইটি কুফরের প্রতি নির্দেশ করলেও তাকে মুসলমান বিবেচনা করা হবে

 আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন আন উশরিকা বিকা শাইয়ান্ ওয়া আনা 'লামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা 'লামু ইন্নাকা আনতা আল্লামুল গুয়ুব আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদু আন উজাদ্দিদাল ঈমান ওয়ান-নিকাহা তাজদীদান বি কাওলি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' এভাবে এই দোয়া পাঠের মাধ্যমে সকলের উচিত প্রত্যেকদিনতাজদীদই ঈমান নিকাহকরা

Bengali Darpan

We are the Teacher Group. We help students to build their career and future life . We teach subjects with insper for building a future career .We are a team Group Teacher .our team is strong to guide Bengali Hon. With all Pass & Compulsory paper & Library Science with Dissertation paper BLIS & MLIS .WBSSC, UGC NET & SET, KVS ,WBPSC

Post a Comment

Previous Post Next Post

Copyright (c) 2024 Ramadan Delights India All Rights Reserved