ঈমান টিকিয়ে রাখার শর্ত
১. গায়েবের প্রতি ঈমান আনতে হবে।
২ কেবলমাত্র আল্লাহ্ তায়ালা ও তিনি যাদেরকে জানান তারাই গায়েব জানেন, এই বিশ্বাস করা।
৩.হারামকে হারাম হিসেবে মেনে নেয়া৷
৪. হালালকে হালাল হিসেবে মেনে নেয়া
৫.আল্লাহ্ তায়ালার আজাব থেকে মুক্তির ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে সর্বদাই ভীত থাকা।
৬.একইসাথে আল্লাহ্ তায়ালার দয়ার ব্যাপারে নিরাশ না হওয়া
যেসব কারণে মুসলমান মুরতাদে পরিণত হয় তা অস্বীকার করাও তোবা হিসেবে বিবেচিত হয়। মুরতাদ ব্যক্তি তওবা না করে মারা গেলে, জাহান্নামের আগুনে চিরকাল শাস্তি ভোগ করবে। এ কারণে কুফরের ব্যাপারে অতি সাবধান হওয়া উচিত। অল্প কথা বলা উচিত। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে “তোমরা সর্বদা কল্যাণকর ও উপকারী হয়,এমন কথা বল। নতুবা চুপ থাক”। সতর্ক থাকা উচিত,ঠাট্টা তামাসা করা উচিত নয়। বিবেক ও মানবতার বিরোধী কোন কাজ করা উচিত নয়। আর সর্বদাই নিজেকে কুফরের থেকে বাঁচানোর জন্য,আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে বেশি বেশি দোয়া করা প্রয়োজন৷
যেসব কারণে ঈমান হারানোর আশঙ্কা আছে
১. আহলে বিদায়াত হলে। অর্থাৎ ব্যক্তির ইতিক্বাদ ভ্রষ্ট হলে। (আহলে সুন্নাতের আলেমগণ কর্তৃক অবহিত করা ইতিক্বাদ থেকে খুব অল্প পরিমাণে মতবিরোধ করলেও ভ্রান্ত অথবা কাফির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
২. দুর্বল ঈমানের অধিকারী হলে। আমলহীন ঈমান হলো দুর্বল ঈমান৷ ৩ নয়টি অঙ্গকে সঠিক পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করলে।
৪. নিয়মিত কবীরা গুনাহ করলে।
৫.ইসলামের মত নিয়ামত লাভের পর এর জন্য শুকরিয়া আদায়ে ক্ষ্যান্ত
৬. আখেরাতে ঈমানহীন যাওয়ার ব্যাপারে ভীত না হলে।
৭. জুলুম করলে।
৮. সুন্নাত অনুযায়ী দেয়া আজান-ই মুহাম্মদীকে না শুনা।
৯.মা বাবার বিরুদ্ধাচারণ করা।
১০ সঠিক হওয়া সত্ত্বেও খুব বেশি ইয়ামিন (কসম খাওয়া করলে।
১১.নামাজের ‘তা’দিল.ই এরকান' ত্যাগ করলে।
১২ নামাজকে গুরুত্বহীন মনে করে না শিখলে সন্তানদেরকে শিখানোর ব্যাপারে গুরুত্ব না দিলে ও নামাজ আদায়কারীদেরকে বাঁধা দিলে।
১৩.মদ খেলে।
১৪. মুমিনদেরকে কষ্ট দিলে।
১৫. ধর্মের বিষয়ে মিথ্যা প্রচার করলে,অলীত্বের নামে ভণ্ডামি করলে।
১৬ কৃত গুনাহকে ভুলে গেলে ও অনুশোচিত না হলে।
১৭. অহংকারী হলে।।
১৮. ‘উজব’ অর্থাৎ নিজের ইলম ও আমল দ্বারা জান্নাত প্রাপ্তির ব্যাপারে নিশ্চিত হলে।
১৯.মুনাফিকের চরিত্র ধারণ করলে।
২০. হিংসা করলে,দ্বীনী ভাইয়ের ভাল সহ্য করতে না পারলে।
২১.শাসক ও শিক্ষকের ইসলাম বিরোধী নয় এমন কথা না মানলে ৷
২২. কারো ব্যাপারে না জেনে ভাল বললে।
২৩.মিথ্যা বলে তা প্রমাণে স্বচেষ্ট হলে।
২৪. আলেমদের থেকে পালালে।
২৫.গোঁফকে সুন্নাত পরিমাণের চেয়ে অধিক লম্বা করলে।
২৬ পুরুষ হয়ে রেশমের কাপড় পরিধান করলে।
২৭. বেশি বেশি গীবত করলে।
২৮ প্রতিবেশীকে কষ্ট দিলে। (এমনকি কাফির হলেও
২৯.দুনিয়াবী কোন বিষয়ের জন্য অতিরিক্ত রাগ করলে। ।
৩০ সূদের আদান প্রদান করলে।
৩১.অহংকারের প্রকাশের জন্য পোশাকের নিম্নাংশকে লম্বা করলে।
৩২. যাদু করলে।
৩৩. মুসলমান ও সালিহ নিকটাত্মীয়দের জিয়ারত না করলে।
৩৪. আল্লাহ্ তায়ালা পছন্দ করেন এমন কাউকে অপছন্দ করলে আর ইসলামের ক্ষতি সাধনে লিপ্ত কাউকে ভালবাসলে। ‘হুব্বু ফিল্লাহ,বুগুজু ফিল্লাহ ঈমানের শর্ত। অর্থাৎ আল্লাহ্র জন্য ভালোবাসা আর আল্লাহ্র জন্য রাগ করা।)
৩৫. মুমিন ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি বিদ্বেষ করা।
৩৬.জিনা করলে।
৩৭. সমকামী হলে।
৩৮ ফিকহের কিতাবে যেভাবে বর্নিত আছে সেই ওয়াক্ত মত ও সুন্নাত অনুযায়ী আযান না দিলে। আর সুন্নাত অনুযায়ী দেয়া আযান শুনে অসম্মান করলে।
৩৯. কাউকে হারাম কাজ করতে দেখে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তাকে নরম ভাষায় নিষেধ না করলে।
৪০.নিজের স্ত্রী, বোন ও যাদের উপর নসিহতের অধিকার রয়েছে সেসব নারীদের বেপর্দা হয়ে চলতে দেখে,মন্দ মানুষের সাথে সাক্ষাত করতে দেখে বারণ না করে মেনে নিলে ।
কবীরা গুনাহ
নিম্নে বাহাত্তরটি কবীরা গুনাহের আলোচনা করা হলো।
১.অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা।
২. জিনা করা।
৩. সমকাম করা।
৪. মদ পান করা।
৫. চুরি করা।
৬. সকল ধরণের নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা। চিকিৎসার জন্য বাধ্য হলে
ভিন্ন কথা।
৭. অন্যায়ভাবে পরের সম্পদ হস্তগত করা।
৮. মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া৷
৯. বিনা উজরে রমজান মাসের দিনের বেলায় মুসলমানদের সামনে পানাহার করা।
১০ সূদের আদান প্রদান করা।
১১. অতিরিক্ত ইয়ামিন করা (কসম খাওয়া)
১২.মা-বাবার অবাধ্য হওয়া।
১৩. নিকটাত্মীয়ের সম্পর্ক ছেদ করা।
১৪. যুদ্ধের ময়দানে পক্ষ ত্যাগ করে শত্রুর সাথে আঁতাত করা৷
১৫.অন্যায়ভাবে এতীমের মাল ভক্ষণ করা।
১৬.ওজনে গড়মিল করা।
১৭. ওয়াক্তের পূর্বে বা পরে নামাজ আদায় করা।
১৮. মুমিন ভাইয়ের হৃদয় ভাঙ্গা। (যা কা'বা ভাঙ্গার চেয়েও বড় গুনাহ। আল্লাহ্ তায়ালাকে অধিক পীড়া দেয়,কুফরের পরে হৃদয় ভাঙ্গার চেয়ে এমন বড় গুনাহ আর নাই।)
১৯ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেননি এমন কথা তাঁর নামে বলা।
২০. ঘুষ খাওয়া।
২১. সত্য সাক্ষ্য দেয়া থেকে বিরত থাকা।
Read More :
1. ইমামতির শর্তসমূহ
2. আযান ও ইকামাত
3. ইতিকবাল ই কিবলা (কিবলামুখী হওয়া)
4.লজ্জাস্থান ও মহিলাদের পর্দা
5. নামাজের শর্তসমূহ
13. নামাজ আদায় করা
17. তারাবীহের নামাজ
21. নামাজ পরিত্যাগকারী
24. বত্রিশ ও চুয়ান্ন ফরজ
