ঈদের নামাজ
শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ‘ফিতর’ অর্থাৎ রোজার ঈদের প্রথম দিন। আর জিলহজ্জ মাসের দশম দিন হলো কুরবানীর ঈদের প্রথম দিন। এই দুই দিনে, সূর্যোদয়ের পরের মাকরুহ ওয়াক্ত অতিবাহিত হলে দুই রাকাত ঈদের নামাজ আদায় করা পুরুষদের জন্য ওয়াজিব।
ঈদের নামাজের শর্তসমূহ জুমা নামাজের শর্তসমূহের অনুরূপ। কিন্তু এক্ষেত্রে পার্থক্য হলো,খুতবা দেয়া সুন্নাত এবং তা নামাজের পরে পেশ করা হয়।
রোজার ঈদেনামাজের পূর্বে মিষ্টান্ন খাওয়া (খেজুরও হতে পারে) গোসল করা, মিসওয়াক ব্যবহার করা উত্তম পোশাক পরিধান করা, ফিতরা প্রদান করা ও ঈদগাহে যাওয়ার সময় আস্তে আস্তে তাকবীর বলা মুস্তাহাব।
কুরবানীর ঈদে নামাজের পূর্বে কোন কিছু না খাওয়া, নামাজের পরে সর্বপ্রথম কুরবানীর গোশত খাওয়া,নামাজে যাওয়ার সময় উচুস্বরে তাকবীর বলা মুস্তাহাব। কারো উজর থাকলে নিচুস্বরেও তাকবীর বলতে পারে।
ঈদের নামাজ দুই রাকাত। তা জামাতের সাথে আদায় করতে হয়। একাকী আদায় করা যায় না৷
ঈদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি
১. প্রথমে,ইমামের অনুসরণ করে অতিরিক্ত ছয় তাকবীরের সাথে ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ কিবলামুখী হয়ে আদায়ের নিয়্যাত করা নামাজ শুরু করতে হবে। এরপর ছানা অর্থাৎ ‘সুবহানাকা’ পড়তে হবে।
২. সুবহানাকার পরে তিনবার তাকবীর বলে কান পর্যন্ত হাত তুলতে হবে। প্রথম দুইবার হাত তুলে দুই পাশে ছেড়ে দিতে হবে। তৃতীয় তাকবীরের সময় কান পর্যন্ত হাত তুলে পরে নাভির নিচে বামহাতের উপরে ডান হাত স্থাপন করবে। এরপর ইমাম আওয়াজ করে প্রথমে সূরা ফাতিহা ও পরে অন্য আরেকটি সূরা বা আয়াত তিলাওয়াত করবে। অতঃপর একসাথে রুকুতে যাবে। যথারীতি প্রথম রাকাত শেষ করে উঠে দাঁড়াবে।
৩.দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহা এবং অন্যান্য সূরা পড়ার পরে পুনরার তিনবার তাকবীর দিয়ে হাত ছেড়ে দিতে হবে। চতুর্থ তাকবিরে হাত না ছেড়ে আপনাকে রুকুতে যেতে হবে। এই নয় তাকবীর ভুলে না যাওয়ার জন্য মনে রাখতে হবে এভাবে : “দুইবার হাত ছেড়ে রাখতে হবে এবং একবার বাঁধতে হবে, দ্বিতীয় রাকাতে তিনবার ছেড়ে রাখতে হবে অতঃপর একবার বাঁধতে হবে।”
তাশরীক তাকবীর
কুরবানীর ঈদের আরাফা'র দিন ফজরের নামাজ থেকে চতুর্থ দিন আছরের নামাজ পর্যন্ত হাজী হোক বা না হোক, জামাতের সাথে আদায় করুক কিংবা একাকী আদায় করুক প্রত্যেক নারী পুরুষের উপর প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফিরানোর সাথে সাথে একবার ‘তাশরীক তাকবীর' পাঠ করা ওয়াজিব।
ঐ সময় যদি কোন জানাজার নামাজ আদায় করা হয় তবে তার পরে তাশরীক তাকবীর পড়তে হয় না। মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলে কিংবা নামাজের পরে কথা বলার পরে এই তাকবীর পাঠ করা ওয়াজিব নয়।
ইমাম যদি এই তাকবীর দিতে ভুলে যায়, জামাতের মনে থাকলে তারা তা ত্যাগ করবে না। পুরুষগণ উঁচুস্বরে আর নারীরা নিচুস্বরে তাকবীর বলবে।
তাশরীক তাকবীর: “আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ”।
