নামাজের ফরজসমূহ
যা আদায়ের জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে স্পষ্ট আদেশ রয়েছে তাই ফরজ। কোনো ইবাদতের ফরজসমূহ সঠিকভাবে আদায় করা না হলে তা সহীহ হয় না,শুদ্ধ হয় না। নামাজের বারটি ফরজ রয়েছে। এগুলো র মধ্যে সাতটি নামাজের বাইরের আর বাকী পাঁচটি ভিতরের ফরজ। নামাজের বাইরের ফরজগুলিকে শর্ত এবং ভিতরের ফরজগুলিকে রুকন বলা হয়। কতিপয় আলেম তাক্ববীরে তাহরিমাকে নামাজের ভিতরের ফরজ হিসেবে গণনা করেন তাই তাদের মতে নামাজের শর্তও ছয়টি রুকনও ছয়টি',
নামাজের বাইরের ফরজসমূহ(শর্তসমূহ)
১.হাদস্ থেকে শারীরিক)পবিত্রতা অজুবিহীন অবস্থায় থাকলে অজু করে আর গোসল ফরজ হয়ে থাকলে গোসল করার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা।
২. নাজাসাত্ নাপাকী)থেকে পবিত্রতা নামাজ আদায়কারী ব্যাক্তির শরীর ও পোষাক এবং নামাজের স্থানকে হাল্কা ও ভারী সকল ধরনের নাজাসাত্ থেকে পবিত্র করা। শরীয়ত অনুসারে যা কিছু নাপাক তাকে নাজাসাত বলে। যেমন রক্ত, প্রস্রাব, এলকোহলো ইত্যাদি।
৩ সতর ঢাকা লজ্জাস্থান আবৃত করা। ইহা মহান আল্লাহ তায়ালার একটি আদেশ। পুরুষের নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত এবং স্ত্রীলোকের মুখমন্ডল,হাত ও পায়ের পাতা ব্যতীত সর্বাঙ্গ সতরের অন্তর্ভুক্ত। নামাজ আদায়ের সময় সতর ঢাকা ফরজ। নামাজের বাইরে অন্যান্য সময়ে অন্যের সামনে সতর খোলা কিংবা অন্যের সতর দেখা উভয়ই হারাম।
৪. কিবলামুখী হওয়া কিবলার দিকে ফিরে নামাজ আদায় করতে হয়। মুসলমানদের জন্য কিবলা হলো মক্কা ই মুকাররমা শহরে অবস্থিত কা'বা শরীফ।
৫. ওয়াক্ত হওয়া প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নির্দিষ্ট ওয়াক্ত সময়) রয়েছে। তাই প্রত্যেকের এই ওয়াক্তগুলি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আর কোন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করবে সে ব্যাপারে মনস্থির করতে হবে।
৬. নিয়্যাত নামাজে দাঁড়ানোর সময় মনে মনে নিয়্যাত করতে হয়। শুধুমাত্র মুখে বললে হবে না। মুখে বলার সাথে সাথে তা হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়। নামাজের নাম,ওয়াক্ত রাকআত সংখ্যা,কিবলা,জামাতের সাথে পড়লে ইমামের আনুগত্য ইত্যাদি বিষয়ে নিয়্যাত করতে হয়। তাকবিরের মাধ্যমে নামাজ শুরুর পূর্বে নিয়্যাত করতে হয়। তাকবিরের পরে নিয়্যাত করলে তা গ্রহনযোগ্য না হওয়ার কারণেঐ নামাজ বাতিল হয়ে যায়।
৭. তাকবিরে তাহরিমা আল্লাহু আকবর বলে নামাজ শুরু করা। শুরুর এই তাকবিরকে ইফতিতাহ তাকবিরও বলা হয়। আল্লাহু আকবরের পরিবর্তে অন্য কিছু বললে তাকবিরে তাহরিমা হিসেবে গন্য হবে না।
নামাজের ভিতরের ফরজসমূহ(রুকনসমূহ)
নামাজের ভিতরে পাঁচটি ফরজ রয়েছে। এই ফরজগুলিকে নামাজের রুকন বলা হয়। এগুলো হলো:
১.কিয়াম করা নামাজ দাঁড়িয়ে আদায় করা ফরজ। তবে কেউ দাঁড়াতে অক্ষম হলে (যেমন রোগী বসে আদায় করতে পারবে বসে আদায় করতে অক্ষম হলে শুয়ে ইশারার মাধ্যমে আদায় করবে। তবে চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়।
২.কিরাআত অর্থাৎ মুখে পড়া,তিলাওয়াত করা। নামাজের মধ্যে কুরআন থেকে কোন সূরা অথবা আয়াত পাঠ করা ফরজ।
৩. রুকু করা কিরআতের পর দুই হাত দুই হাটুতে রেখে সামনের দিকে ঝুকে পরা। রুকুতে থাকা অবস্থায় তিনবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম” বলতে হয়। রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময় “সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা” আর পুরোপুরি দাঁড়ানোর পর “রাব্বানা লাকাল হামদ” বলতে হয়।
৪. সেজদা করা রুকুর পর নিজেকে জমিতে সঁপে দেয়া। পরপর দুইবার সেজদা করতে। সেজদার সময় দুই হাত,কপাল ও নাক মাটিতে রেখে আল্লাহর দরবারে নিজেকে সঁপে দিতে হয়। এবং কমপক্ষে তিনবার “সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা” দোয়াটি পড়তে হয়।
৫.শেষ বৈঠক শেষ রাকআতে “আত্তাহিয়াতু” পড়তে যে পরিমান সময় লাগে ততক্ষন বসে থাকা ফরজ। নামাজ যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন ইবাদত তা এটি আদায়ের জন্য অবশ্য পালনীয় শর্তসমূহের আধিক্য থেকেও বুঝতে পারা যায়। বান্দার তার রবের সম্মুখে কিভাবে উপস্থিত হওয়া উচিত তা নামাজের ফরজ সহ ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব, মাকরুহ মুফসিদ্ ইত্যাদির দ্বারা অনুধাবন করা সম্ভব। বান্দারা প্রত্যেকেই অসহায়, দরিদ্র,দুর্বল,ক্ষুদ্র একএকটি সৃষ্টি। প্রত্যেকটি সৃষ্টিই তার স্রষ্টা তথা মহান আল্লাহ তায়ালার মুখাপেক্ষি। নামাজ হলো বান্দার অসহায়ত্বের প্রকাশকারী একটি ইবাদত।
