নামাজের শর্তসমূহ
অজু
নামাজ আদায়ের জন্য অজু করা ফরজ। এছাড়াও কুরআন শরীফ স্পর্শ করার জন্য, কা'বা তাওয়াফের জন্য, তিলাওয়াত-ই সেজদা ও জানাযা নামাজ আদায়ের জন্য অজু করা আবশ্যক। অজু করে শোয়া,অজু করে পানাহার করা এক কথায় সর্বক্ষন অজু অবস্থায় থাকার মাঝে প্রচুর সওয়াব রয়েছে।
অজু থাকা অবস্থায় কারো যদি মৃত্যু হয় তবে তাকে শহীদের সমান সওয়াব দেয়া হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে,
“অজু থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরনকারী ব্যাক্তি মৃত্যু যন্ত্রনা ভোগ করে না। কারণ অজু ব্যাক্তির মুমিন হওয়ার আলামত। অজু নামাজের চাবি এবং গুনাহসমুহ থেকে শরীরকে রক্ষাকারী।” “মুসলমান ব্যাক্তির অজু করার সাথে সাথে তার কান,চোখ,হাত ও পা থেকে গুনাহসমূহ ঝরে যায়। অজু শেষ করে বসার সাথে সাথে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়।” “সর্বোত্তম ইবাদত হলো নামাজ। মুমিনরা দিনে ও রাতে সর্বদা অজু অবস্থায় থাকে। আর অজু অবস্থায় থাকলে আল্লাহ তাকে সংরক্ষন করেন। অজু অবস্থায় পানাহার করা ব্যাক্তির পেটের খাবার ও পানীয় আল্লাহর জিকির করতে থাকে। যতক্ষন তার মাঝে থাকে ততক্ষন তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে।
অজুর ফরজ, সুন্নত মুস্তাহাব, মেমনু' নিষিদ্ধ কাজ) ও মুফসিদ্ ভঙ্গকারী) রয়েছে। কোন কারণ ব্যাতীত ইচ্ছাকৃতভাবে অজুবিহীন অবস্থায় নামাজ পড়লে সে কাফির হয়ে যায়। নামাজ আদায়ের সময় অজু ভেঙ্গে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সালাম ফিরিয়ে নামাজ ছেড়ে দিতে হবে। পরবর্তীতে ঐ ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বেই অজু করে পুনরায় ঐ নামাজ আদায় করতে হবে।
অজুর ফরজসমূহ
হানাফী মাজহাব অনুযায়ী অজুর ফরজ চারটি। এগুলো হলো
১. মূখমন্ডল ধৌত করা।
২. দুই হাতের কনুই পর্যন্ত ধৌত করা।
৩. মাথার একচতুর্থাংশ মাছেহ করা অর্থাৎ ভিজা হাত দিয়ে মাথা মোছা
৪.দুই পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ধৌত করা।
শাফী মাজহাবে,নিয়্যাত ও তারতীব ক্রমানুসারে করা ফরজ। নিয়্যাত মুখ ধৌত করার সময় করতে হয়। পানি মুখে লাগার পূর্বে নিয়্যাত করলে অজু শুদ্ধ হবে না। দাড়ী ধৌত করাও ফরজ। মালিকি মাজহাবে, প্রত্যেকটি অঙ্গ ঘষেঘষে ধৌত করা এবং মুয়ালা এক অঙ্গের পর অন্য অঙ্গ ধৌত করার পূর্বে বিরতি না দেয়া ফরজ। শিয়া মাজহাবে পা ধৌত করা ফরজ নয় শুধুমাত্র খালি পায়ের উপর দিয়ে মাসেহ্ করতে হয়।
অজু করার পদ্ধতি
১.অজু শুরু করার সময় এই দোয়াটি পড়তে হয় বিস্মিল্লাহিল আজিম ওয়াল হামদুলিল্লাহি আলা দ্বীনিল্ ইসলাম ওয়া আলা তাওফিকিল্ ঈমান। আল-হামদুলিল্লাহিল লাজি জা’লা মাআ' তাহুরা ওয়া জালাল ইসলামা নূরা।(মহান আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি। আমাদেরকে ইসলাম দ্বীন ও ঈমান নেয়ামত প্রদানকারী মহান আল্লাহ সমস্ত প্রশংসার একমাত্র দাবিদার। সকল প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই যিনি পানিকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম বানিয়েছেন আর ইসলামকে নূর করেছেন)। দোয়া পড়ার পর তিনবার দুই হাতের কবজি পর্যন্ত ধৌত করতে হয়।
২.ডান হাত দিয়ে মুখে পানি নিয়ে তিনবার কুলি করতে হয় এবং এসময় নিম্নোক্ত দোয়াটি পাঠ করতে হয়। “আল্লাহুম্মা আকিনি মিন্ হাওজি নাবিয়্যুকা কা’ছান লা আজমাউ বা’দাহু আবাদা” (অর্থাৎ এই আমার আল্লাহ আমাকে তোমার নবীর হাউজ থেকে এক গ্লাস পানি পান করাও যা পান করলে পরবর্তীতে আর কখনো পিপাসিত হব না ৷
৩.ডান হাত দিয়ে নাকের মধ্যে তিনবার পানি নিয়ে বাম হাত দিয়ে তা পরিষ্কার করতে হয় আর এই দোয়াটি পাঠ করতে হয় “আল্লাহুম্মা আরিহনি রাইহাতা-জান্নাতি ওয়ারজুক্নি মিন নি'মাতিহা ওলা তুরিহনি রাইহাতান - নার” এই আমার আল্লাহ আমাকে জান্নাতের ঘ্রাণ পাইয়ে দাও এবং এর নিয়ামতের দ্বারা প্রাচূর্যমন্ডিত কর,আর জাহান্নামের গন্ধ পাওয়া থেকে বাঁচাও ।)
৪. হাতে পানি নিয়ে সমস্ত মুখমন্ডল ভালভাবে তিনবার ধৌত করতে হয় আর এই দোয়াটি পড়তে হয় “আল্লাহুম্মা বাইয়্যিদ্ ওজহি বিনূরিকা ইয়াওমা তাবইয়াদ্দু উজুহু আওলিয়াইকা,ওলা তুছাওয়্যিদ ওজহি বি জুনুবি ইয়াওমা তাছওয়াদ্দু উজুহু আ’দাইকা” 'এই আমার আল্লাহ যেদিন তোমার আওলিয়ার মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে সেদিন তোমার নূরের দ্বারা আমার মুখমন্ডলও উজ্জ্বল করিও। আর যেদিন তোমার শত্রুদের মুখ কালো হবে সেদিন পাপের কারণেআমার মুখ কালো করিও না।)
৫. বামহাত দিয়ে ডান হাতের কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করতে হয় আর এ দোয়াটি পড়তে হয়, “আল্লাহুম্মা আ’তিনি কিতাবি বিয়ামিনি ওয়া হাছিনি হিছাবান্ ইয়াছিরা”। (এই আমার আল্লাহ আমার আমল দফতর ডান হাতে দিও আর আমার হিসাবনিকাশ সহজ করিও ।
৬.একইভাবে ডানহাত দিয়ে বামহাতের কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করতে হয় আর নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়তে হয়। “আল্লাহুম্মা লা তু’তিনি কিতাবি বি শিমালি ওলা মিন ওরায়ি জাহরি ওলা তুহাছিনি হিছাবান শাদিদা”। (এই আমার আল্লাহ আমার আমল দফতর পিছন দিক দিয়ে বামহাতে দিও না এবং কঠিন করে আমার হিসাবনিকাশ করিও না।)
৭. এভাবে দুই হাত ধোয়ার পরে পুনরায় হাত ধৌত করতে হয় এবং ঐ ভিজা হাত দিয়ে মাথা মাসেহ্ করতে হয়। এসময় এই দোয়াটি পড়তে হয় “আল্লাহুম্মা হাররিম শা’রি ওয়া বাশারি আলান নার। ওয়া আজিল্লানি তাহতা জিল্লি আরশিকা ইয়াওমা লা জিল্লা ইল্লা জিল্লু আরশিকা”। (এই আমার আল্লাহ আমার চুল ও আমার শরীরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর। আর যেদিন তোমার আরশের ছায়া ব্যাতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না সেদিন সেই ছায়ার নিচে আমাকে আশ্রয় দিও ৷
৮.অতঃপর দুই হাতের শাহাদত আঙ্গুলের দ্বারা দুই কানের ফুটা ধৌত করে দুই বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে কানের পিছনের দিকের অংশ মাসেহ্ করতে হয় এবং এই দোয়াটি পড়তে হয় : “আল্লাহুম্মা আআ’লনি মিনাল লাজিনা ইয়াছতামিয়ুনাল্ কাওলা ফা ইয়াত্তাবিয়ুনা আহছানাহু” 'এই আমার আল্লাহ আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত কর যারা কথা শুনে ও উত্তম কথাগুলোর অনুসরণ করে।)
৯. পরে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে ঘাড় মাসেহ্ করতে হয়। তখন এ দোয়টি পড়তে হয় “আল্লাহুম্মা আ’তিক রাকাবাতি মিনান্ নার”। (এই আল্লাহ আমার ঘাড়কে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দাও।)
১০. ঘাড় মাসেহ্ করার পর বাম হাতের আঙ্গুল দিয়ে ডান পায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুল থেকে শুরু করে প্রতিটি আঙ্গুলের ফাক ভাল করে ঘষে গোড়ালি সহ তিনবার ধৌত করতে হয় এবং এ দোয়াটি পড়তে হয় “আল্লাহুম্মা ছাব্বিত কাদামাইয়্যা আলাস্ সিরাতি ইয়াওমা তাজিল্লু ফিহিল আকদামু” । এই আমার আল্লাহ যেদিন পুলসিরাতের উপরে মানুষদের পা পিছলে যাবে তখন আমার পদদ্বয়কে অবিচল রাখিও।
১১. এরপর বাম পা তিনবার ধৌত করতে হয়। এসময় পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি থেকে শুরু করে কনিষ্ঠাঙ্গুলি পর্যন্ত প্রতিটি আঙ্গুলের ফাক ভাল করে পরিষ্কার করতে হয় এবং নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়তে হয় “আল্লাহুম্মা লা তারুদ কাদামাইয়্যা আলাস-সিরাতি ইয়াওমা তারুদু কুল্লু আকদামি আ’দাইকা৷ আল্লাহুম্মা আআল ছা’ই মাশকুরান ও জানবি মাফুরান ও আমালি মাকবুলান ও তিজারাতি লান তাবুরা”। (এই আমার আল্লাহ যেদিন তোমার শত্রুদের পা পুলসিরাতের উপর দিয়ে পিছলে যাবে তখন আমার পাক যেন না পিছলায়। আমার যাবতীয় কাজকর্ম যেন তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়,আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা কর,আমলগুলোকে কবুল কর ও ব্যাবসাকে হালাল করা ',
মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বলেছেন যে কেউ অজু করার পরে নিম্নোক্ত দোয়াটি পড়বে মহান আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দিবেন এবং তার জন্য এর সওয়াব আরশে আ’লাতে সংরক্ষন করবেন। কিয়ামতের দিনে ঐ ব্যক্তি সেই সওয়াব গ্রহন করবে। “সুবহানাকাল্লাহুম্মা ও বিহামদিকা,আশহাদু আন্ লা ইলাহা ইল্লা আন্তা ওহদাকা লা শারিকা লাকা আস্তাফিরুকা ও আতুবু ইলাইকা। আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আব্দুকা ও রাসূলুকা”। (এই আল্লাহ তোমার প্রশংসা করার মাধ্যমে সকল ধরনের ত্রুটি থেকে তোমাকে পবিত্র ঘোষনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে তুমি ব্যাতীত অন্য কোন ইলাহ নাই তুমি এক ও অদ্বিতীয়,তোমার কোন শরীক নাই। আমি আর সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ(সঃ)তোমার বান্দা ও রাসূল।)
একটি হাদীসে এভাবে বলা হয়েছে “যে ব্যাক্তি অজু করার পর একবার সূরা যিলযাল পড়বে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে সিদ্দিকদের সাথে দুইবার পড়লে শহীদদের সাথে আর তিনবার পড়লে নবী-রাসূলদের সাথে হাশর করাবেন” অন্য এক হাদীসে বলা হয়েছে যে “যে ব্যাক্তি অজু করার পর আমার (মহানবীর উপর দশবার দূরুদ পড়বে মহান আল্লাহ তায়ালা তার দুঃখ-কষ্টকে লাঘব করে তাকে সুখী করবেন এবং তার দোয়া কবুল করবেন।
অজু করার সময় উপরোক্ত দোয়াগুলি পড়া আবশ্যক নয় তবে এতে অনেক সোয়াব আছে। তাই এগুলো মুখস্ত করার জন্য চেষ্টা করা প্রয়োজন। অজু শেষ করে এই দোয়াটি পড়তে হয় “আল্লাহুম্মা আজ্আলনি মিনাত্ তাওয়্যাবিন,ওজ্আলনি মিনাল মুতাতাহহিরিন,ওজ্আলনি মিন ইবাদিকা স্ সালিহিন,ওজ্আলনি মিনাল লাজিনা লা খাওফুন আলাইহিম ও লা হুম ইয়াহজানুন”। এটি অনেক সওয়াবের আমল। অজুর দোয়াসমূহ না জানা থাকলে প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় কালিমা ই শাহাদাত পড়লেও অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।
অজুর সুন্নতসমূহ:
অজুর সুন্নতসমূহ নিম্নে বর্নিত হয়েছে
১. অজু আরম্ভ করার সময় বিসমিল্লাহ বলা ।
২. দুই হাতের কবজি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা।
৩.আলাদা আলাদা পানি নিয়ে তিনবার কুলি করা।
৪. আলাদা আলাদা পানি নিয়ে তিনবার নাক পরিষ্কার করা।
৫.মুখমন্ডল ধোয়ার সময় দাঁড়ি গোঁফ ও ভ্রুর নিচের চামড়া ভিজাতে হয়।
৬. যাদের দাঁড়ি আছে তারা হাতের আঙ্গুলকে চিরুনির মত বানিয়ে দাঁড়ির ফাকে ফাকে প্রবেশ করিয়ে ধৌত করবে।
৭.মিসওয়াক করা একটি গুরুত্বপূর্ন সুন্নত। মিসওয়াক না থাকলে অন্যকিছু দিইয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।
৮ পুরো মাথা মাসেহ্ করা।
৯.দুই কান মাসেহ্ করা ।
১০.ঘাড় মাসেহ্ করা ।
১১. হাতের ও পায়ের আঙ্গুলের মধ্যবর্তী স্থানগুলো ধৌত করা।
১২. অজুতে যে সব অঙ্গ ধৌত করতে হয় তার প্রতিটি তিনবার করে ধোয়া সুন্নত।
১৩.তারতীব,অর্থাৎ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অজু করা।
১৪.অজুতে যে সব অঙ্গ ধৌত করতে হয় তার প্রতিটি ঘষে ঘষে ধৌত করা।
১৫. মুয়ালাত্ অর্থাৎ একটি থেকে অন্য অঙ্গ ধোয়ার মাঝে বিরতি না দেয়া।
অজুর আদবসমূহ
এখানে আদব বলতে এটা বুঝানো হচ্ছে যা করলে সওয়াব আছে কিন্তু না করলে গুনাহ নাই। অথচ সুন্নত হলো যা করলে সওয়াব আছে কিন্তু না করলে মাকরুহে তানজিহি হয়। আদবকে অনেক সময় মানদুব কিংবা মুস্তাহাবও বলা হয়। অজুর আদবসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলো,
১.নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বেই ঐ নামাজ আদায়ের জন্য অজু করা। তবে যারা মাজুর(অজু ধরে রাখতে অক্ষম)তাদের জন্য ওয়াক্তের মধ্যেই অজু করা আবশ্যক।
২. অজু ভঙ্গের সময় অর্থাৎ টয়লেট করার সময় কিবলার দিকে মুখ করে কিংবা পিছন ফিরে বসা মাকরুহে তাহরিমি।
৩. টয়লেট করার পর লজ্জাস্থান পানি দিয়ে পরিষ্কার করা।
৪. এরপর তা পরিষ্কার কিছু দিয়ে মুছে শুকানো
৫. টয়লেটের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে লজ্জাস্থান আবৃত করা।
৬. অন্যের সাহায্য না চেয়ে নিজেই অজু করতে সচেষ্ট হওয়া।
৭.কিবলার দিকে মুখ করে অজু করা।
৮.প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার সময় কালিমা-ই শাহাদাত পড়া।
৯. অজুর অন্যান্য দোয়া পড়া।
১০. কুলি করার জন্য মুখে ডান হাত দিয়ে পানি দেয়া।
১১. নাকে পানি দেয়ার সময়ও ডান হাত দিয়ে দেয়া।
১২.বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করা।
১৩.মুখ ধোয়ার জন্য মিসওয়াক ব্যবহার করা। মিসওয়াক না থাকলে দাঁতের ব্রাশ ব্যবহার করলেও হবে।
১৪. মুখ ধোয়ার সময় ব্যাক্তি যদি রোযাদার না হয়ে থাকে তবে কুলি করা এবং হালকা গড়গড় করা,অজু ও গোসল উভয়ের জন্যই সুন্নত। তবে রোযাদার হলে গড়গড়া করা মাকরুহ।
১৫. নাক ধোয়ার সময় পানি যথাসম্ভব ভিতরে প্রবেশ করানো।
১৬ কান মাসেহ্ করার সময় এক আঙ্গুল দিয়ে কানের ফুটা পরিষ্কার করা।
১৭. পায়ের আঙ্গুল ধোয়ার সময় বামহাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল ব্যবহার করা।
১৮ হাত ধোয়ার সময় যদি হাতে আংটি থাকে তবে তা নড়িয়ে চড়িয়ে তার নীচের চামড়ায় পানি পৌছাতে হবে। যদি সামান্য স্থান শুকনা থাকে তবে অজু হবে না।
১৯.অনেক পানি থাকলেও ইছরাফ অপচয় না করা।
২০. আবার পর্যাপ্ত পানি থাকা সত্বেও তেল মাখানোর মত করে খুব অল্প পানি ব্যবহার করাও উচিত না।
২১.যেখানে বদনা কিংবা পাত্র দিয়ে অজু করা হয় সেখানে অজু করার পর ঐ পাত্রটি পূর্ন করে রাখা পড়া।
২২. অজু শেষ করে “আল্লাহুম্মা আআলনি মিনাত-তাওয়াবিন” দোয়াটি
২৩.অজু করে দুই রাকাআত নফল নামাজ আদায় করা।
২৪.অজু থাকা সত্বেও নতুন ওয়াক্তের নামাজের জন্য পুনরায় অজু করা ২৫.মুখমন্ডল ধোয়ার সময় চোখের কোনা, পাপড়ি ইত্যাদিও পরিষ্কার করা। ২৬.মুখ,হাত ও পা ধোয়ার সময় যতটুকু ধোয়া ফরজ তার চেয়ে একতু বেশী করে ধোয়া।
২৭.অজু করার সময় ব্যবহৃত পানি যেন পোষাকে না লাগে সেদিকে খেয়াল
২৮. অন্য মাজহাবে অনুযায়ী ফরজ কোন আমল যদি নিজ মাজহাবে মাকরুহ না হয়ে থাকে এবং মুবাহ হয় তবে তা আদায় করা মুস্তাহাব।
অজু আদায়ের সময় নিষিদ্ধ কর্ম
অজু করার সময় নিম্নোক্ত কাজগুলি করা হারাম অথবা মাকরুহ।
১. টয়লেট করার সময় কিবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে কিংবা পিছন ফিরে বসা উচিত নয়৷
২. টয়লেট করা সহ সর্বাবস্থায় অন্য কারো সামনে নিজের লজ্জাস্থান প্রকাশ করা হারাম।
৩ টয়লেট করার পর ডান হাত দিয়ে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা উচিত নয়।
৪. পানি না পাওয়া গেলে খাবার,গোবর, কয়লা,পশুর খাদ্য,অন্যের সম্পত্তি, পাতা ইত্যাদি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন মাকরুহ।
৫.যে হাউজের পানি দিয়ে অজু করা হয় সেখানে থুতু ফেলা, কফ ফেলা নিষেধ।
৬.অজু করার সময় অঙ্গগুলির সীমা থেকে অতিরিক্ত বেশী বা কম ধোয়া উচিত নয়। একইভাবে প্রতিটি অঙ্গ তিনবারের কম বা বেশী ধোয়াও ঠিক নয়।
৭. অজু করার পর অঙ্গ মোছার জন্য পবিত্র কিছু ব্যহার করা।
৮.মুখ ধোয়ার সময় মুখে পানি ছিটকানো উচিত নয় বরং কপালের উপর দিয়ে নীচের দিকে পানি ছেড়ে দিতে হয়।
৯. পানিতে ফু না দেয়া
১০. মুখ ধোয়ার সময় চোখ ও মুখ শক্ত করে বন্ধ করে রাখা ঠিক না। কারণ ঠোটের বাইরের অংশ ও চোখের পাতার সামান্য অংশও শুকনা থাকলে অজু হয় না।
১১.ডান হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার না করা।
১২. মাথা, কান ও ঘাড় মাসেহ করার সময় প্রতিটির জন্য আলাদা আলাদাভাবে হাত ভিজিয়ে ঝেরে মাসেহ করার দরকার নেই একবার ভিজিয়েই প্রতিটি অঙ্গ মাসেহ করা যায়।
মিসওয়াক ব্যবহার করা:
অজু করার সময় মিসওয়াক ব্যবহার করা সুন্নতই মুয়াক্কাদা। পবিত্র হাদিস শরিফে বলা হয়েছে যে “মিসওয়াক ব্যবহার করে আদায় করা নামাজ মিসওয়াক ব্যবহার না করে আদায় করা নামাজের চেয়ে সত্তরগুন বেশী মর্যাদাবান” ‘সিরাজুল ওহহাজ’ নামক গ্রন্থে মিসওয়াক ব্যবহারের পনেরটি
উপকারিতা বর্ণনা করা হয়েছে। এগুলো হলো
১.মৃত্যুর সময় কালিমা-ই শাহাদাত বলার সৌভাগ্য হবে।
২. মাড়ি শক্ত ও মজবুত করে।
৩. কফ পরিষ্কার করে।
8 কিডনীর সুরক্ষা করে।
৫. দাঁতের ব্যাথা কমায়।
৬. মুখের গন্ধ দূর করে।
৭.মহান আল্লাহ তার উপর সন্তুষ্ট হবেন।
৮ রক্ত চলাচলের ধমনীকে শক্তিশালী করে।
৯.শয়তান অখুশী হয়।
১০. চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি পায়।
১১.অনেক পূন্য ও সওয়াব অর্জন করে।
১২. সুন্নতের অনুসরণ করা হয়।
১৩. মুখ পবিত্র থাকে।
১৪. ফাসিল লিসান অর্থাৎ শুদ্ধভাষী ও উত্তম বক্তা হয়।
১৫. মিসওয়াক ব্যবহার করে আদায় করা নামাজ মিসওয়াক ব্যবহার না করে আদায় করা নামাজের চেয়ে সত্তরগুন বেশী মর্যাদাবান হয়।
মিসওয়াক আরব দেশে উৎপন্ন হওয়া এরাক নামক গাছের ডাল থেকে বানানো হয়। ডালের এক দিকের মাথা থেকে কিছু অংশের ছাল তুলে কয়েক ঘন্টার জন্য একটি ছোট পাত্রে পানি নিয়ে তাতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। নরম হওয়ার পর ঐ ভিজানো অংশকে থেতলে ব্রাশের মত করে নিতে হয়। এরাক গাছ না পাওয়া গেলে জয়তুন গাছের ডাল দিয়েও মিসওয়াক করা যায়। অজু করার সময় যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয় জরূরী অবস্থায় কিংবা বাধ্য না হলে নিম্নোক্ত দশটি বিষয় পালন করতে সচেষ্ট হওয়া উচিত।
১. কারো যদি হাত বা পা না থাকে তবে স্বাভাবিকভাবেই তার ঐ ফরজগুলো আদায় করতে হয় না।
২. অসুস্থ ও অক্ষম ব্যাক্তিকে তার মা, স্ত্রী,সন্তান,ভাই অজু করিয়ে দিতে
৩. পানির পরিবর্তে শুকনো মাটি, পাথর ইত্যাদি দিয়েও টয়লেটের পর পবিত্রতা অর্জন সম্ভব।
৪. কেউ যদি চব্বিশ ঘন্টার চেয়ে বেশী সময় পাগল কিংবা অজ্ঞান অবস্থায় থাকে তবে সুস্থ হওয়ার পর ঐ সময়ের নামাজের কাজা আদায় করতে হয় না। কিন্তু যদি সে মদ, ওষুধ বা নেশা জাতীয় পদার্থের কারণেঅজ্ঞান হয় তবে ঐ অবস্থার প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজ কাজা আদায় করতে হয়। কেউ যদি শোয়া অবস্থায় ইশারার মাধ্যমেও নামাজ আদায়ে অক্ষম হয় এবং এ অবস্থায় চব্বিশ ঘন্টার বেশী পার করে তবে তার জ্ঞান থাকা স্বত্বেও নামাজ কাজা করতে হয় না৷
৫. টয়লেটে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোন পোষাক ব্যবহার করা এবং মাথা ঢাকা মুস্তাহাব।
৬ টয়লেট প্রবেশের সময় সাথে আল্লাহর নাম কিংবা পবিত্র কোরআনের অংশ বিশেষ রাখা উচিত নয়। অবশ্য কিছু দ্বারা মোড়ানো হলে সমস্যা নেই।
৭. টয়লেটে প্রবেশের সময় বাম পা আর বের হওয়ার সময় ডান পা ব্যবহার
করতে হয়।
৮. টয়লেটে থাকা অবস্থায়ও পুরোপুরি উলঙ্গ হওয়া উচিত না। এসময় কথা বলাও ঠিক না।
৯.নিজের লজ্জাস্থানের ও নাজাসাতের দিকে তাকানো উচিত না।
১০. পানিতে মসজিদের দেয়ালে,কবরস্থানে এবং পথের উপরে মলমূত্র ত্যাগ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
অজু ভঙ্গের কারণ:
সাতটি কারণেঅজু ভঙ্গ হয়। এগুলো হলো,
১. সামনের ও পিছনের রাস্তা দিয়ে কিছু বের হলে। তা মল মূত্র,মনী মযী যাই
হোক না কেন অজু নষ্ট হয়।
২. মুখ দিয়ে যদি নাজাসাত বের হয়,যেমন
ক.মুখ ভর্তি বমি হলে।
খ থুতুর সাথে অধিক পরিমান রক্ত বের হলো।
গ. মুখ দিয়ে রক্ত বের হলে।
ঘ. কানে দেয়া তেল,ওষুধ মুখে চলে আসলে।
৩.চামড়া থেকে যদি নিম্নোক্ত বস্তু নির্গত হয় তবে ওজু নষ্ট হয়৷
ক. রক্ত, পুঁজ বের হলো।
খ.যে সব স্থান গোসলের জন্য ধোয়া ফরজ সেখানে গড়িয়ে পরা রক্ত ও পুঁজ যেমন নাক দিয়ে কান দিয়ে বের হলো।
গ. ক্ষত থেকে বের হওয়া পানি তুলা বা অন্য কিছু দিয়ে মুছলে। ঘ.মিসওয়াক বা খিলানি ব্যবহারের কারণেমুখে রক্ত এলে।
ঙ. কান,নাভী,স্তন থেকে অসুস্থতার জন্য পানি বের হলে।
৪. ঘুমালে। শুয়ে কিংবা কোন কিছুতে হেলান দিয়ে ঘুমালে অজু ভাঙ্গে।
৫. অজ্ঞান হলে,পাগল হলে,মৃগী রোগে আক্রান্ত হলে,মাতাল হলে অজু নষ্ট
হয়ে যায়।
৬. নামাজের মধ্যে শব্দ করে হাসলে অজু ও নামাজ উভয়ই ভঙ্গ হয়। কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে নষ্ট হয় না। নামাজের মধ্যে তাবাসসুম করলে অজু ও নামাজ কোনটিই ভঙ্গ হয় না। এখানে শব্দ করে হাসা বলতে পাশের ব্যাক্তি শুনতে পায় এমনভাবে হাসাকে বোঝানো হচ্ছে। আর তাবাসসুম বলতে যে হাসির আওয়াজ নিজেও শুনতে পায় না এমন হাসিকে বোঝানো হচ্ছে।
৭. স্বামী স্ত্রীর একে অপরের যৌনাঙ্গে সরাসরি স্পর্শ হলে অজু নষ্ট হয়৷ ৷
অজু থাকা অবস্থায় যদি সন্দেহ জাগে যে হয়ত অজু নাই সেক্ষেত্রে তার অজু বিদ্যমান বলে বিবেচিত হবে। কিন্তু যদি অজু নষ্ট হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে এরপরে অজু করেছে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ থাকে তবে অজু করা আবশ্যক হবে।
যেসব কারণেঅজু ভঙ্গ হয় না:
নিম্নোক্ত কারণেঅজু ভঙ্গ হয় না।
১.মুখ,কান,চামড়া থেকে পোকা বের হলে,
২. কফ ফেললে।
৩. থুতুর সাথে বের হওয়া রক্ত যদি পরিমানে থুতুর চেয়ে কম হয়।
৪. দাঁত থেকে থুতুর চেয়ে কম পরিমানে রক্ত বের হলে।
৫.জমাট বাধা রক্ত বের হলে।
৬.অল্প পরিমানে রক্ত বের হলে।
৭.কানে দেয়া ওষুধ পুনরায় কান অথবা নাক দিয়ে বের হলে।
৮.নাকে দেয়া ওষুধ পুনরায় নাক দিয়ে বের হলে।
৯.কোন কিছুতে কামড় দেয়ার পর তাতে রক্ত দেখলে।
১০. চোখ দিয়ে পানি বের হলে।
১১.মা তার বাচ্চাকে দুধ পান করালে।
১২ ঘাম বের হলে তা পরিমানে বেশী হলেও অজু নষ্ট হয় না।
১৩.মশা,পোকা মাকড়পিপড়া ইত্যাদি কামড় দিয়ে যতই রক্ত খাক না কেন অজু ভাঙ্গে না।
১৪.চামড়া থেকে অল্প পরিমানে রক্ত বের হয়ে যদি তা একটুও না ছড়ায়। ১৫.কোন কিছুতে হেলান দিয়ে ঘুমানোর পরে যদি সে বস্তুটি সরিয়ে নিলে পরে যাওয়ার আশংকা না থাকে।
১৬ নামাজে দাঁড়িয়ে ঘুমালে।
১৭. হাটু গেড়ে তার উপর মাথা রেখে ঘুমালে
১৮. কোন কিছুতে হেলান না দিয়ে বসে বসে ঘুমালে।
১৯. চলন্ত কোন পশুর উপরে ঘুমালে। এক্ষেত্রে সরাসরি পশুর উপরে থাকতে হবে।
২০ নামাজের মধ্যে তাবাসসুম অর্থাৎ দাঁত বের না করে এবং শব্দ না করে হাসলে।
২১. নামাজের মধ্যে যার শব্দ শুধুমাত্র নিজে শুনতে পায় এমনভাবে হালকা হাসলে নামাজ ভেঙ্গে যায় কিন্তু অজু ভাঙ্গে না৷
২২.চুল,দাড়ি গোঁফ ও নখ কাটলে। ।
২৩ ক্ষতস্থান থেকে জমাট বাধা রক্তের শুকনো আবরন পরলে অজু নষ্ট হয় না৷
অজুর বিষয়ে আরও কিছু মাসআলা:
১.জুতার উপরে মাসেহ করা প্রসংগে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত সব জুতার উপরে মাসেহ করা যায় না। এমন জুতা যা পায়ের যে অংশ অজুর সময় ধোয়া ফরজ তার সবতুকু আবৃত করে এবং যার ভিতর দিয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে না। একে মাসত্ বলা হয়। জুতা পায়ের সাথে আঁটসাঁট হতে হয়। যদি লম্বা বা প্রশস্ত হওয়ার কারণেপা ও জুতার চামড়ার মাঝে খালি যায়গা থাকে তবে তাতে মাসেহ যায়েজ নয়।
শীতকালীন দেশে ব্যবহৃত চামড়ার মোজার উপরেও মাসেহ করা সম্ভব। চামড়া ছাড়াও অন্য কিছুর তৈরী মোটা মোজা যার ভিতরে পানি প্রবেশ করে না তার উপরেও মাসেহ করা সম্ভব।
অজু অবস্থায় মাসত্ পরিধান করতে হয় অথবা প্রথমে পা ধুয়ে মাসত্ পরিধান করে পরে অজু করে নিতে হয়। মাসত্ পরিহিত অবস্থায় অজু ভেঙ্গে গেলে নতুন করে অজু করার সময় পা না ধুয়ে মাসতের উপর দিয়ে মাসেহ করলেই অজু হয়া যায় ৷
মাসত্ এর উপরের অংশে মাসেহ্ করতে হয়। মাসত্ এর নিচের অংশে মাসেহ করতে হয় না' মাসত্ এর উপরে মাসেহ করার সুন্নত পদ্ধতি হলো,ডান হাতের পাঁচটি আঙ্গুল ভিজিয়ে ডান মাস এর উপরে এবং বাম হাতের আঙ্গুল বাম মাসত্ এর উপরে রেখে পায়ের আঙ্গুলের দিক থাকে গোড়ালি পর্যন্ত মাসেহ করা। মাসেহ করার সময় হাতের তালু লাগানো উচিত নয়। মাসেহ এর ক্ষেত্রে নূন্যতম তিন আঙ্গুল পরিমান স্থান মুছা ফরজ।
হাতের উপরের পৃষ্ঠ দিয়ে মাসেহ করা যায়েজ হলেও ভিতরের দিক থেকে করা সুন্নত।
অজু অবস্থায় মাসত্ পরিধান করার পর মুকিম ব্যাক্তির জন্য চব্বিশ ঘন্টা পর্যন্ত নতুন অজু করার সময় পা ধোয়ার পরিবর্তে মাস এর উপরে মাসেহ করা যথেষ্ঠ হবে। এই সময়টা যখন থেকে মাস পরিধান করে তখন থেকে নয় বরং অজু ভঙ্গের পর থেকে শুরু হয়। মাস পরিধানকারী ব্যাক্তি অজু ভঙ্গের চব্বিশ ঘন্টার আগেই সফরে বের হলে তিন দিন তিন রাত পর্যন্ত ঐ মাস এর উপর মাসেহ করতে পারবে। ঠিক একইভাবে মাসত্ পরিহিত মুসাফির যদি অজু ভঙ্গের চব্বিশ ঘন্টা পর মুকিম হয় তবে তাকে মাস খুলে পা ধুয়ে অজু করতে হবে।
মাসত্ এ পায়ের তিন আঙ্গুলের সমান বা তার বেশী পরিমান ছিদ্র থাকলে মাসেহ করা বৈধ নয় তবে এর চেয়ে অল্প পরিমান ছিদ্র থাকলে মাসেহ করতে পারবে। যদি মাস এ একাধিক ছিদ্র থাকে আর সবগুলো একত্রে তিন আঙ্গুল পরিমান হয় সেক্ষেত্রেও মাসেহ করা যাবে না। কিন্তু যদি এক মাস এ দুই আঙ্গুল পরিমান এবং অন্য মাসত্ এ দুই আঙ্গুল পরিমান ছিদ্র থাকে তবে মাসেহ করা যায়েজ। এখানে তিন আঙ্গুল পরিমান ছিদ্র বলতে আঙ্গুলের পুরোপুরি দেখা যায় এই পরিমান ছিদ্র বুঝানো হয়েছে।
২-ক্ষত ও ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করা প্রসংগে ক্ষতের উপর বাধা পট্টি বা ব্যান্ডেজ উঠিয়ে তার নিচে পানি দিতে গেলে যদি ক্ষতির সম্ভবনা থাকে তবে তার উপর দিয়ে মাসেহ করলেই ফরয আদায় হয়ে যায়।
অজু ধরে রাখতে অক্ষম ব্যাক্তি অজু করার পর যত ইচ্ছা ফরজ,নফল নামাজ পড়তে পারে,কোরআন তিলাওয়াত করতে পারে। কিন্তু যে ওয়াক্তে অজু করল সে ওয়াক্ত শেষ হওয়ার সাথে সাথে তার অজুও নষ্ট হয়ে যায়। একারণেপ্রত্যেক নামাজ ওয়াক্তের জন্য আলাদা আলাদা ভাবে অজু করতে হয় এবং এক অজু দিয়ে ঐ ওয়াক্তের মধ্যে যত খুশি তত ইবাদত করতে পারে।
শরিয়তের দৃষ্টিতে একজন ব্যাক্তি তখনি অজু ধরে রাখতে অপারগ হিসেবে বিবেচিত হবে যখন তার মাঝে অজু ভঙ্গের কারণসমূহ থেকে কোন একটি প্রতিনিয়ত প্রকাশ পেতে থাকে। কোন ওয়াক্তে অজু করে ঐ ওয়াক্তের শুধু ফরজ নামাজ আদায় করা পর্যন্তও যদি অজু ধরে রাখতে না পারে তবে সে অপারগ তথা মা’যুর হিসেবে বিবেচিত হবে।
গোসল
নামাজের শুদ্ধ হওয়ার জন্য অজু ও গোসলের শুদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। স্বামী- স্ত্রীর যৌনমিলন,যৌন তৃপ্তি স্বপ্নদোষ এবং মহিলাদের জন্য হায়েজ ও নিফাস বন্ধ হলে গোসল ফরজ হয়। গোসল ফরজ হওয়ার পর ঐ নামাজ ওয়াক্তের ফরজ পড়তে যে টুকু সময় প্রয়োজন তার পূর্বেই গোসল করে নেয়া আবশ্যক।
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “যে ফরজ গোসল আদায় করল তাকে তার শরীরের পশম পরিমান সওয়াব প্রদান করা হয়। এবং তত পরিমান গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। জান্নাতের স্তরের উন্নতি হয়। গোসলের জন্য তাকে যে পরিমান সওয়াব দেয়া হয় তা দুনিয়ার সবকিছু থেকে অধিক উত্তম। মহান আল্লাহ তার ফেরেশতাদের বলেন, দেখ আমার বান্দাকে রাত্রিকালে অলসতা না করে আমার আদেশের কথা চিন্তা করে অপবিত্র অবস্থা থেকে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করেছে। তোমরা সাক্ষী থাক যে,আমি আমার এই বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দিলাম”
অন্য এক হাদিসে বলা লহয়েছে যে, “অপবিত্র হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে পবিত্রতা অর্জন কর,কেননা কিরামান কাতিবিন ফেরেশতারা অপবিত্র ব্যাক্তি থেকে কষ্ট পায়”। ইমাম গাজ্জালী রহমাতুল্লাহি আলাইহ বলেছেন “স্বপ্নে কোন একব্যাক্তি আমায় বলল যে, আমি কিছুটা সময় অপবিত্র অবস্থায় অতিবাহিত করেছি এর শাস্তি হিসেবে আমাকে আগুনের পোষাক পরিয়ে দেয়া হলো এবং এখনও আমি আগুনের মাঝেই আছি”। হাদিসে আরো বলা হয়েছে যে “ছবি কুকুর ও অপবিত্র ব্যাক্তি যে ঘরে থাকে সেখানে আল্লাহর রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করেন না”
নামাজ পড়ুক কিংবা না পড়ুক এক নামাজ ওয়াক্ত পরিমান সময় যদি কেউ অপবিত্র অবস্থায় পার করে তবে তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। পানি দিয়ে গোসল করা সম্ভব না হলে অন্তত পক্ষে তায়াম্মুম করে নিতে পারে। অপবিত্র অবস্থায় নিম্নোক্ত কাজগুলি করা যায় না
১. কোন ধরনের নামাজ আদায় করতে পারে না ৷
২. পবিত্র কোর্আন কিংবা এর কোন আয়াত স্পর্শ করতে পারে না।
৩.কা'বা শরীফ তাওয়াফ করতে পারে না।
৪.মসজিদে প্রবেশ করতে পারে না।
গোসলের ফরজসমূহ:
হানাফী মাজহাব অনুযায়ী গোসলের ফরজ তিনটি।
১. মুখ ধৌত করা। মুখের ভিতরের বিন্দুমাত্র যায়গায় পানি না পৌছলে গোসল শুদ্ধ হয় না। এমনকি দাতের ফাকেও পানি পৌছাতে হয়।
২. নাক পরিষ্কার করা। নাকের ভিতরের হাড্ডি পর্যন্ত পানি পৌছাতে হয়। হানবলী মাজহাব অনুযায়ী নাক ও মুখ ধোয়া গোসলেও ফরজ অজুর জন্যও ফরজ। শাফেঈ মাজহাব অনুযায়ী গোসলের জন্য নিয়্যাত করাও ফরজ।
৩ সমস্ত শরীর ধৌত করা। নাভী,দাড়িগোঁফ ভ্রু চুল ইত্যাদি এবং এগুলোর নিচের চামড়াতেও পানি পৌছাতে হবে। নখ, ঠোট, চোখের পাতায় কিংবা শরীরের অন্য যে কোন স্থানে যদি এমন কিছু থাকে যার ভিতর দিয়ে পানি চামড়ায় পৌছায় না তবে গোসলের ফরজ আদায় হবে না। যেমন, নখ পালিশ,লিপষ্টিক রঙ ইত্যাদি।
গোসলের সুন্নতসমূহ
১.প্রথমে দুই হাত ধুয়ে নেয়া।
২. লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা।
৩.সমস্ত শরীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করা।
৪. গোসলের পূর্বে অজু করা, মুখ ধোয়ার সময় গোসলের নিয়্যাত করা। শাফেঈ মাজহাব অনুযায়ী নিয়্যাত করা ফরজ।
৫.সমস্ত শরীর ডলে ডলে তিনবার ধৌত করা।
৬ শরীর ধোয়া হয়ে যাওয়ার পর সর্বশেষে দুই পা ধৌত করা।
গোসল করার পদ্ধতি :
সুন্নত অনুসারে ফরজ গোসল আদায়ের পদ্ধতি নিম্নে বর্ণীত হলো,
১.সর্ব প্রথম দুই হাত ভাল করে ধুয়ে নিতে হয়। হাত পরিষ্কার থাকলেও ধুয়ে নেয়া উত্তম। অতঃপর লজ্জাস্থান ও শরীরের কোন স্থানে নাপাকী লেগে থাকলে তা উত্তমভাবে পরিষ্কার করতে হয়।
২. এরপর অজু করে নিতে হয়। মুখ ধোয়ার সময় গোসলের নিয়্যাত করতে হয়। গোসলের স্থানে নিচে যদি পানি না জমে,তবে পাও ধুয়ে নিতে হয় ।
৩.তারপর পুরো শরীরে তিনবার পানি দিয়ে ধুতে হয়। প্রথমে তিন বার মাথায় তারপর তিনবার ডান কাধে ও পরে তিনবার বাম কাধে পানি দিতে হয় । শরীরের সব জায়গা ভিজে এমনভাবে পানি দেয়া দরকার। প্রথম পানি দেয়ার সময় শরীর ডলে ডলে ধোয়া দরকার। গোসলের সময় এক অঙ্গে ব্যবহৃত পানি অন্য অঙ্গে লাগলে উভয়ই পাক হয়। কারণ গোসলের ক্ষেত্রে পুরো শরীর এক অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু অজুর ক্ষেত্রে এক অঙ্গে ব্যবহৃত পানি দিয়ে অন্য অঙ্গ ধুলে ঐ অঙ্গটি নাপাক অবস্থায় থেকে যায়। গোসল শেষ হওয়ার পর পুনরায় অজু করা মাকরুহ। কিন্তু যদি গোসল করার সময় অজু ভেঙ্গে যায় তবে পুনরায় অজু করা আবশ্যক।
গোসল সংক্রান্ত অন্যান্য মাসয়ালা
বাধাই করা অথবা ফিলিং করা দাঁত প্রসংগে
হানাফী মাজহাব অনুযায়ী দাঁতের ফাঁক কিংবা গর্তে পানি না পৌঁছালে গোসল শুদ্ধ হবে না। এজন্য দাঁতে যদি স্বর্নরূপা কিংবা অন্য কিছুর প্রলেপ দেয়া থাকে এবং এ কারণেএর নিচে পানি না পৌছালে গোসল শুদ্ধ হবে না। এমতাবস্থায় এ বিষয়টির জন্য অন্য মাজ্হাবের অনুসরণ করে নাপাকী থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।
এব্যাপারে তাহতাবী,‘মেরাকুল-ফেলাহ” নামক গ্রন্থের ৯৬ পৃষ্ঠায় ব্যাখ্যায় এবং এতিএ তুরকিশ সংস্করণ নিমাত ই ইসলাম কিতাবে বলেন যে হানাফী মাজহাবের কোন অনুসারী কোন বিষয়ে নিজ মাজহাবের অনুসরণ করতে অক্ষম হয়ে শাফেয়ী মাজহাবের অনুসরণ করলে কোন ক্ষতি নাই। ‘বাহরুর রায়েক’ এবং ‘নাহরুল ফায়েক' কিতাবের মাঝেও এরূপ বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু কোন বিষয়ে অন্য মাজহাবের অনুসরণ করলে ঐ বিষয় সম্পর্কিত ঐ মাজ্হাবের যাবতীয় শর্ত পালন করা আবশ্যক। একই বিষয়ের অন্যান্য শর্ত পালন না করে শুধুমাত্র নিজের সুবিধার জন্য তুলনামূলক সহজ শর্তটি পালন করা জায়েজ নয়। যে এরূপ করে তাকে মুলাফফিক বলা হয়।
নিজের মাহাব অনুযায়ী ফরজ এমন কোন আমল করতে কেউ অপারগ হলে শধুমাত্র ঐ ফরজটি পালনের উদ্দেশ্যে অন্য মাজহাবের অনুসরণ করা জরুরী হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ঐ ফরজের সাথে সম্পর্কিত যাবতীয় শর্তও পালন করা আবশ্যক। এ কারণেপ্রলেপযুক্ত কিংবা ফিলিং করা দাঁত যাদের আছে তারা মালিকি অথবা শাফেয়ী মাজহাবের অনুসরনের সময় গোসল,অজু ও নামাজের নিয়্যাতের সময় ইমাম শাফেয়ী অথবা ইমাম মালিকের অনুসরনের বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন। নিয়্যাতের সময় এই বিষয়টি উল্লেখ করলে গোসল সহীহ হবে,নিয়তটি এভাবে হবে, আমি হানাফি অথবা শাফি মাজহাব অনুযায়ী গোসলের নিয়ত করছি। আর এভাবে তারা অপবিত্র অবস্থা থেক মুক্তি পেতে পারে। এবং তাদের অজু ও নামাজ শুদ্ধ হবে। তিনি ইমামতিও করতে পারেন, এসকল সমস্যা ছাড়া বাক্তির পরিবর্তে।
শাফেয়ী মাজহাবের অনুসরণ কারী ব্যক্তির, ইমামের পিছনে জামাতে নামজ পড়ার সময় সূরা ফাতিহা পড়তে হয়। এ ছাড়া নিজের কিংবা অন্য কারো লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে অথবা গায়রে মাহরেম যাদের সাথে বিয়ে বৈধ তাদের কারো চামড়ার সাথে সরাসরি চামড়ার স্পর্শ লাগলে শাফেয়ী মাহাবুব অনুযায়ী অজু ভেঙ্গে যায় তাই নতুন করে অজু করতে হয়। অজু করার সময় নিয়্যাত করাও ফরজ।এই মাজহাব অনুযায়ী পবিত্র কোরআন স্পর্শের জন্যও অজু থাকা আবশ্যক। হানাফী মাজহাবের অনুসারী কোন ব্যাক্তি যদি মুসাফির অবস্থায় শাফেয়ী মাজহাবের অনুসরণ করে যোহর ও আছরের নামাজ এবং মাগরিব ও এশার নামাজ তাকদিম ও তা’হির করতে ইচ্ছা পোষণ করে তবে তাকে অজু করার সময়ও শাফেয়ী মাজহাবের অনুসরণ করতে হবে।
হায়েজ ও নিফাস সম্পর্কে
পাঁচটি কারণে গোসল ফরজ হয়। এগুলোর মধ্যে দুটি কারণ হলো মহিলাদের হায়েজ ও নিফাস অবস্থার সমাপ্তি।
ইবনে আবিদীন মানহালুল ওয়ারিদিন নামক গ্রন্থে বলেছেন যে প্ৰত্যেক মুসলমান নরনারীর জন্য দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় যাবতীয় মাসলা- মাসায়েল সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ফরজ। এ ব্যাপারে সকল ফিকাহবিদ ঐক্যমত পোষণকরেছেন। মুসলমান নারীদেরও তাই হায়েজ ও নিফাস সম্পর্কে জ্ঞান রাখা জরুরী। বিয়ের সময় পুরুষদের এ বিষয়ে ধারনা রাখা আবশ্যক।
হায়েজনারীদের নয় বছর বয়স থেকে শুরু করে লজ্জাস্থান থেকে কমপক্ষে পনের দিন অন্তর অন্তর ও নূন্যতম তিনদিন ধরে যে রক্ত বের হয় তাকে বলে। একে মাসিক ও বলা হয়। সাদা ব্যাতীত অন্য যে কোন রঙের পানিই বের হোক না কেন তা হায়েজ হিসেবে বিবেচিত হবে। কোন মেয়ের যখন প্রথম হায়েজ হয় তখন সে বালিগা অর্থাৎ প্রাপ্তবয়ষ্ক হয় এবং দ্বীনের যাবতীয় আদেশ ও নিষেধসমূহ পালনের দ্বায়িত্ব তার উপর ন্যাস্ত হয়। মাসিক শুরু হওয়ার দিন থেকে বন্ধ হওয়ার দিন পর্যন্ত সময়কে ‘আদত’ বলা হয়। আদতের সময় কমপক্ষে তিন ও সর্বোচ্চ দশ দিন হয়। প্রত্যেক নারীর নিজের আদতের দিন সংখ্যা ও সময় জানা জরুরী। আট-নয় বছরের মেয়েদেরকে মাসিক শুরু হওয়ার পূর্বেই এ ব্যাপারে ধারনা দেয়া দরকার। ইহা মেয়ের মা,না থাকলে নানী,দাদী, বোন, খালা ও ফুপুদের উপর ফরজ।
নিফাস বাচ্চা প্রসবের পর মায়েদের থেকে যে রক্ত বের হয় তাকে বলে। এর নূন্যতম সময় নির্দিষ্ট নয়। যখনি রক্ত আসা বন্ধ হবে তখনি গোসল করে পবিত্র হয়ে নিতে হয়। সর্বোচ্চ সময় চল্লিশ দিন। এরপরও যদি রক্ত পরা বন্ধ না হয় তবে গোসল করে নামজ পড়া শুরু করতে হবে। চল্লিশ দিন পর যে রক্ত বের হয় তা ইস্তিহাজা অর্থাৎ অসুস্থতার রক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ইস্তিহাজা অসুস্থতার কারণেযে রক্ত বের হয়)হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তাবলী রয়েছে। তিন দিনের চেয়ে কিছু সময় কম হলে, প্রথম মাসিকের ক্ষেত্রে দশ দিনের বেশি হলে, যাদের নিয়মিত মাসিক দশ দিনের কম তাদের ক্ষেত্রে দশ দিনের পরে যে রক্ত আসে তা ইস্তিহাজার রক্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়াও নয় বছরের ছোট মেয়েদের থেকে গর্ভবতীদের থেকে ও পঞ্চান্ন বছরের অধিক বয়ষ্কা মহিলাদের থেকে যদি রক্ত বের হয় তাও ইস্তিহাজা হিসেবে গন্য হবে। উপরোক্ত অবস্থাগুলিতে যে রক্ত আসে তা অসুস্থতার আলামত। এমতাবস্থায়চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
মহিলাদের এই ইস্তিহাজার হুকুম নাক দিয়ে কিংবা ক্ষত দিয়ে অবিরাম রক্ত বের হওয়া ব্যাক্তির মত অর্থাৎ সে ঐ অবস্থায় নামাজ আদায় করতে পারে এবং রোযাও রাখতে পারে।
হায়েজ ও নিফাসের সময় মহিলারা নামাজ পড়তে পারেনা,রোযা রাখতে পারেনা। তিলাওয়াতই সেজদা অথবা শুকুর সেজদা আদায় করতে পারেনা। কুরআন শরিফ স্পর্শ করতে পারেনা। মসজিদে প্রবেশ করতে পারেনা। কা’বা শরিফ তাওয়াফ করতে পারেনা। যৌনমিলন করতে পারেনা। এই অবস্থা থেকে পবিত্র হওয়ার পর ঐ সময়ের ফরজ রোযা থাকলে কাজা করতে হবে কিন্তু ঐ অবস্থার ফরজ নামাজগুলির কাজা আদায় করতে হয়না। স্ত্রীদের জন্য নিজের স্বামীকে হায়েজের শুরু ও শেষের সময় সম্পর্কে অবগত করা আবশ্যক। এব্যাপারে মহানবী (সঃ) বলেছেন, “যে মহিলা নিজের হায়েজের শুরুর ও শেষের সময় নিজ স্বামী থেকে গোপন রাখে সে অভিশপ্ত”। হায়েজ ও নিফাস শেষ হওয়ার সাথে সাথে গোসল করে পবিত্র হয়ে নেয়া ফরজ। এটি মহান আল্লাহ তায়ালার আদেশ।
তা'য়ালাকের ক্ষেত্রে অনেকগুলো মতবাদ রয়েছে। কেউ তা'য়ালাক সম্পাদন করলো যেন সে ইমান হারালো। তাম ইলমেহাল কিতাবের ৫৮৫ নম্বর পৃষ্ঠা দেখুন
তায়াম্মুম
তায়াম্মুমের অর্থ হলো মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা। অজু কিংবা গোসলের জন্য যদি পানি না পাওয়া যায় কিংবা পানি থাকা স্বত্বেও ব্যবহারে অপারগ হলে পবিত্র মাটি,বালি,ইট, পাথর ইত্যাদির মত বস্তু দ্বারা তায়াম্মুম করে পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। হানাফী মাজহাব অনুযায়ী নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বেও তায়াম্মুম করা জায়েজ কিন্তু অন্যান্য মাজহাব অনুযায়ী ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে তায়াম্মুম করা জায়েজ নয়। তায়াম্মুম, অজু ও গোসল করার ক্ষেত্রের কঠিন অবস্থাকে সহজ করে দিয়েছে। শরীয়ত অনুযায়ী,মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করা আর পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। মাটির দ্বারা বহু পঙ্কিলতা থেকে পবিত্রতা অর্জন সম্ভব। তবে তায়াম্মুমের দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আছে।
নিম্নলিখিত অবস্থাগুলোতে তায়াম্মুম করা জায়েজ
১. অজু কিংবা গোসলের জন্য পানি পাওয়া না গেলে। তবে এক্ষেত্রে ঐ স্থানের সৰ্বত্ৰ ভালো করে খুজে দেখতে হবে।
২. পানি থাকা স্বত্বেও ব্যবহারে অপারগ হলে। যেমন কোন অসুস্থ ব্যাক্তির ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার করার কারণেমৃত্যুর আশংকা কিংবা অসুস্থতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলে।
৩. পানি যেখানে আছে তা যদি শত্রুর কিংবা হিংস্র ও বিষাক্ত প্রাণীর দ্বারা অবরুদ্ধ থাকে।
৪. জেলে থাকার কারণেপানি ব্যবহারে সুযোগ না পেলে।
৫. পানি ব্যবহার করার জন্য মৃত্যুর হুমকির সম্মুখীন হতে হলে।
৬. মুসাফির ব্যাক্তির নিকট যদি পান করার পানি ছাড়া অতিরিক্ত পানি না
৭. কূপে পানি থাকা স্বত্বেও যদি তা উত্তোলন সম্ভব না হয়।
তায়াম্মুমের ফরজসমূহ:
তায়াম্মুমের তিনটি ফরজ রয়েছে। অজু কিংবা গোসল উভয়ের জন্যই তায়াম্মুমের বিধান একই শুধু নিয়্যাত ভিন্ন হয়। অজুর নিয়্যাতে করা তায়াম্মুমের দ্বারা গোসল আদায় হবে না। ঐ তায়াম্মুমের দ্বারাই ফরজ গোসল আদায়ের জন্য আলাদাভাবে নিয়্যাত করতে হবে।
তায়াম্মুমের ফরজসমূহ
১. নিয়্যাত করা।
২. দুই হাতের তালুকে পবিত্র মাটিতে ঘষে সমস্ত মুখমন্ডল মাসেহ্ করা।
৩.দুই হাত পুনরায় মাটিতে ঘষে প্রথমে দান হাত ও পরে বাম হাত মাসেহ্
কিছু কিছু আলিমের মতে তায়াম্মুমের ফরজ দুইটি। তারা দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফরজ দুটিকে একত্রে গননা করে।
তায়াম্মুমের সুন্নতসমূহ
১.বিমিল্লাহ বলে শুরু করা।
২. মাটিতে হাতের তালুর অংশ স্পর্শ করানো৷
৩. হাতের তালুকে মাটিতে সামনে পিছনে ঘষা ৷ ৷
৪.যদি হাতে মাটি লেগে থাকে তবে তা দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে আঘাত করে ঝেড়ে ফেলা।
৫.হাত মাটিতে রাখার সময় আঙ্গুলগুলোকে ফাঁকা করা।
৬. প্রথমে মুখমন্ডল তারপর ডান হাত এবং শেষে বাম হাত মাসেহ্ করা
৭.অজু মত তায়াম্মুমের সময়ও দ্রুত করতে হয়। এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গ মাসেহ করার মাঝে বিলম্ব করা ঠিক না৷
৮. মুখমন্ডল ও হাত মাসেহ করার সময় সামান্য স্থানও যেন বাদ না যায় সেদিকে খেয়াল রাখা
৯. পানির অভাবে তায়াম্মুম করার ক্ষেত্রে পানি খুজে পাওয়ার জন্য আগে যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত।
১০.হাত মাটিতে স্পর্শ করিয়ে ভালভাবে ঘষা দরকার।
১১.হাত মাসেহ করার সময় আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ও আংটি থাকলে তার নিচেও ঘষা দরকার।
১২. আঙ্গুল সমুহে মাসেহ করা, এটি করার সময় হাতের আংটি থাকলে তা খুলে রাখা।
তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়
১. অজুহীন অবস্থায় কেউ যদি কাউকে শিখানোর উদ্দেশ্যে তায়াম্মুম করে দেখায় তবে তা দিয়ে নামাজ আদায় করতে পারবে না।
২. তায়াম্মুমের দ্বারা পবিত্র হয়ে নামাজ আদায়ের জন্য তায়াম্মুম করার সময় যে নামাজের জন্য করছে সে নামাজের কথাও নিয়াতের সময় উল্লেখ করতে হয়।
৩. একই মাটি অথবা পাথর দিয়ে একধিক ব্যাক্তি তায়াম্মুম করতে পারে।
৪ শাফেয়ী ও হাম্বলী মাজহাব অনুযায়ী শুধুমাত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করা জায়েজ। অন্যান্য মাজহাব অনুযায়ী মাটি জাতীয় যে কোন পবিত্র বস্তু দ্বারা তায়াম্মুম আদায় করা সম্ভব। যে সব জিনিষ পুরে ছাই হয় কিংবা গরমে গলে যায় তা মাটি জাতীয় পদার্থ হিসেবে গন্য হয় না। অতএব গাছ কাঠ,ঘাস, লোহা, চাল-ডাল, তেল রঙের দেয়াল স্বর্ন কাঁচ ইত্যাদি দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েজ নয়। ইট, পাথর, মর্মর,চীনামাটি,সিমেন্ট ইত্যাদি দ্বারা তায়াম্মুম করা যায়। কাঁদার ক্ষেত্রে তাতে যদি পানির পরিমান কম থাকে তবে তা দিয়ে তায়াম্মুম করা সম্ভব।
৫.এক তায়াম্মুম দিয়ে একাধিক নামাজ আদায় করা জায়েজ।
৬.মুসাফির ব্যাক্তি যদি দুই কিলোমিটারের চেয়ে কম দূরত্বের মাঝে পানি প্রাপ্তির আলামত পায় অথবা কোন সৎ মুসলমান ব্যাক্তি যদি তাকে এ ব্যাপারে খবর দেয় তবে নিজে গিয়ে অথবা কাউকে পাঠিয়ে পানির সন্ধান করা তার জন্য ফরজ। তবে তার মাঝে যদি পানি পাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ঠ সম্ভবনার উদ্রেক না হয় তবে অনুসন্ধান করা ফরজ হবে না ।
৭. কেউ যদি পানির কথা না জিজ্ঞেষ করেই তায়াম্মুম করা নামাজে দাঁড়ানোর পরে কোন ব্যাক্তি যদি পানি প্রাপ্তির ব্যাপারে খবর দেয় তবে সে নামাজ ঐ অবস্থায় ত্যাগ করে পানি দিয়ে অজু করে পুনরায় নামাজ আদায় করবে।
৮. পানির অবস্থান যদি দুই কিলোমিটারের অধিক দূরত্বে হয় সেক্ষেত্রে তায়াম্মুমের দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে নামাজ আদায় করা যায়েজ।
৯.কেউ যদি জিনিষপত্রের মাঝে থাকা পানির কথা ভুলে গিয়ে পানি নাই মনে করে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে আর ঐ অবস্থায় লোকালয় থেকে দূরের কোন স্থানে থাকে তবে তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
১০. পানি শেষ হয়ে গেছে ভেবে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ার পর যদি কেউ পানির সন্ধান পায় তবে অজু করে পুনরায় নামাজ আদায় করতে হবে।
১১. মুসাফির ব্যাক্তির নিজের কাছে পানি না থাকা অবস্থায় অজুর জন্য সহযাত্রীদের থেকে পানি চাওয়া ওয়াজিব। তারা পানি না দিলে তায়াম্মুম করতে পারে। যদি সহযাত্রী বাজার মূল্যে পানি বিক্রি করতে রাজি হয় এবং মুসাফিরের কাছে পর্যাপ্ত পরিমান অর্থ থাকলে তার পানি কিনে অজু করা জরুরী। তবে যদি তার কাছে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা না থাকে অথবা সহযাত্রী অতিরিক্ত মূল্য দাবি করলে তার জন্য তায়াম্মুম করা যায়েজ।
১২. মরুভূমিতে কিংবা ভ্রমন পথে মুসাফিরের নিকটে পান করার জন্য পানি থাকা স্বত্বেওতায়াম্মুম করা যায়েজ
১৩. পানি যদি কম থাকে তখন প্রথমে যার গোসল ফরজ হয়েছে সে করবে, পরে অন্যরা করবে যেমন মাসিক বন্ধ হওয়া মহিলা ও মৃত ব্যক্তির গোসল পরে
করাতে হবে।
একাধিক ব্যক্তির গোসল ফরজ হলে পানির মালিক প্রথমে গোসল করবে। পানির মালিক একাধিক হলে সে ক্ষেত্রে সব পানি মিলিয়ে প্রথমে মৃত ব্যাক্তিকে গোসল করিয়ে পরে নিজেরা করবে।
১৪. গোসল ফরজ হয়েছে এমন কোন ব্যাক্তি তায়াম্মুমের দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের পর যদি তার অজু নষ্ট হয় তবে সে অল্প পানি থাকলে শুধু অজু করে পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। কারণ এ অবস্থায় তার উপর পুনরায় গোসল ফরজ হয় না।
১৫.গোসল ফরজ হয়েছে এমন ব্যাক্তির শরীরের চামড়ার অধিকাংশ স্থানে যদি ঘা,ক্ষত,ফোঁড়া ইত্যাদি থাকে তবে সে তায়াম্মুমের দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করে। চামড়ার অধিকাংশ স্থান সুস্থ হলে এবং ক্ষতের স্থান না ভিজিয়ে গোসল করা সম্ভব হলে তাই করবে। ক্ষতের স্থান না ভিজিয়ে গোসল করা সম্ভব না হলে তায়াম্মুম করবে।
তায়াম্মুম কিভাবে করতে হয়,
১. প্রথমে তায়াম্মুমের দ্বারা নাপাক অবস্থা থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়্যাত
করতে হয়। তায়াম্মুমের দ্বারা নামাজ আদায় করতে পারার জন্য শুধুমাত্র তায়াম্মুমের নিয়্যাত করা যথেষ্ঠ নয়। তায়াম্মুমের দ্বারা যে ইবাদত পালন করতে চায় তারও নিয়্যাত করতে হয়। যেমন জানাজার নামাজ,তিলাওয়াতে সিজদা ইত্যাদির জন্য তায়াম্মুম করলে নিয়্যাতে তা উল্লেখ করতে হয়।
তায়াম্মুম ফরজ গোসলের বদলে নাকি অজুর বদলে করা হচ্ছে তা নিয়্যাতে উল্লেখ করতে হয়। ফরজ গোসলের পরিবর্তে যে তায়াম্মুম করা হয় তা দিয়ে নামাজ আদায় করা যায় না। এর জন্য আলাদাভাবে অজুর পরিবর্তের তায়াম্মুমও
করতে হয়।
২. এরপর দুই হাতের তালু ও আঙ্গুল কে পবিত্র মাটি, পাথর, ইট অথবা সিমেন্টের দেয়াল ইত্যাদির গায়ে স্পর্শ করিয়ে ঘসে তা দিয়ে সমস্ত মুখমন্ডল মাসেহ করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে সামান্যতম স্থানও যেন বাদ না যায়।কেননা তাহলে তায়াম্মুম হবে না।
মুখমন্ডল সম্পূর্নরূপে মাসেহ করার জন্য হাতের তালু ও আঙ্গুলগুলো মিলিত রেখে দুই হাতের মধ্যমা আঙ্গুল দুটিকে পরস্পরের সাথে মিলাতে হবে।তারপর কপালের উপরের চুলের গোঁড়া থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে নিচের দিকে দাঁড়ির নিচ পর্যন্ত মাসেহ করতে হবে। আঙ্গুলগুলো কপাল, চোখ, নাক ও নাকের পাশ, ঠোট দাঁড়ি ইত্যাদি স্থানকে আর হাতের তালু দিয়ে গাল ও অন্যান্য স্থানকে ভালভাবে মাসেহ করতে হয়।
৩. দুই হাতের তালুর দিক পুনরায় মাটিতে ঘসে এবং লেগে থাকা মাটি ও ধূলা ঝেড়ে ফেলে প্রথমে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ব্যাতীত অন্য চার আঙ্গুলকে মিলিত করে এর ভিতরের দিক দিয়ে ডান হাতের বাইরের দিক আঙ্গুলের মাথা থেকে শুরু করে কনুই পর্যন্ত মাসেহ করতে হয়। পরে ভিতরের দিকে কনুই থেকে আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত বাম তালু দিয়ে মাসেহ করতে হয়। আর বাম বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল মাসেহ করতে হবে। হাতে আংটি থাকলে তা তায়াম্মুমের জন্য খুলতে হবে। অতঃপর ঠিক একই নিয়মে ডান হাত দিয়ে বাম হাত মাসেহ করতে হয়। তায়াম্মুমের জন্য হাতের তালুকে মাটি বা মাটি জাতীয় বস্তুতে ঘসতে হয় পরে মাটি বা ধূলা ঝেড়ে ফেলতে হয়। কেননা মাটি বা ধূলা দিয়ে মাসেহ করা জরুরী নয়।
তায়াম্মুম ভঙ্গের কারণ:
অজু ও গোসল ভঙ্গের যেসব কারণ আছে সেসব কারণেতায়াম্মুম ভঙ্গ হয় । এ ছাড়াও যে পরিস্থিতির কারণেঅজু ও গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা যায়েজ হয়েছে সে পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেলে কিংবা পানি পাওয়া গেলেও তায়াম্মুম ভেঙ্গে যায়।
অজু গোসল ও তায়াম্মুমের উপকারিতা
ইবাদতের নিয়্যাতে অজু ও গোসল করা হলেও আমাদের শারীরিক সুস্থতার জন্য এ ধরনের পরিচ্ছন্নতার প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। এর মাঝে শারীরিক উপকারের পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধির ক্ষেত্রেও ব্যাপক ফায়দা বিদ্যমান রয়েছে। প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য উপকারের মধ্য থেকে কয়েকটি নিম্নে বর্নিত হলো,
১.আমাদের দৈনন্দিন জীবনে চলতে ফিরতে কত ধরনের বস্তুর সাথে হাতের স্পর্শ লাগে। যা থেকে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অজুর সময়ে হাত মুখ ও পা ধোয়ার মাধ্যমে এ ধরনের রোগজীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে পারি। কেননা এমন অনেক জীবাণু আছে যারা চামড়া দিয়েও শরীরের মাঝে প্রবেশ করতে পারে।
২. শ্বাসতন্ত্রের দ্বাররক্ষকের দ্বায়িত্ব পালনকারী নাকের ছিদ্রকে অজুর সময় ধোঁয়ার মাধ্যমে আমাদের শরীরকে ধূলাবালি ও রোগজীবাণুর প্রবেশের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি।
৩. মুখমণ্ডল ধৌত করলে ত্বক সজীব থাকে মাথার ভার ও ক্লান্তি হ্ৰাস পায় ৷ ৷ শিরা ধমনী ও স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত হয়। আর একারণেই নিয়মিত অজু আদায়কারী ব্যাক্তি যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তখনও তার চেহারা থেকে ঔজ্জ্বল্য লোপ পায় না।
৪. গোসল ফরজ হওয়ার অন্যতম কারণ তথা যৌনমিলনের সময় বিপুল পরিমাণ শক্তি খরচ হয়। এ সময় হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয়। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে ক্লান্তি দুর্বলতা,অবসাদ অনুভূত হয়। এমতাবস্থায় সাধারণত মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে আসে। গোসল করার মাধ্যমে শরীর তখন পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পায়। নির্দিষ্ট সময় পরপর নিয়মিতভাবে গোসল করা শারীরিক সুস্থতার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়।
৫.আমাদের দেহে ইলেকট্রনের একটি স্বাভাবিক ভারসাম্য রয়েছে। দেহের সুস্থতা এই ইলেকট্রনের ভারসাম্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই ভারসাম্য মানসিক টানাপোড়ন, পরিবেশ পরিস্থিতি, পোশাক-পরিচ্ছদ,জীবন যাপনের ধরণ, কাজের পরিবেশ ইত্যাদিতে সমস্যা হলে নষ্ট হয়। একইসাথে যে সব অবস্থায় গোসল ফরজ হয় সেসব অবস্থায়ও ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই ইলেকট্রন প্রবাহের চাপ রাগান্বিত অবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে চারগুণ বৃদ্ধি পায়। আর যৌনমিলনের সময় তা বারগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে মানুষের চামড়ার বিশেষ ছবি তোলা হয়েছে। এই ছবিগুলির দ্বারা প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, যৌন মিলনের পরে মানুষের শরীরের সম্পূর্ন ত্বকে অতিরিক্ত পরিমাণে ইলেকট্রন জড়ো হয়ে আবরণের সৃষ্টি করে। এই আবরণ ত্বকের দ্বারা অক্সিজেন আদান প্রদাণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। একইসাথে তা ত্বককে মলিন করে ও দ্রুত কুঁচকে যাওয়ার কারণ হয়। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য,তিল পরিমাণ স্থানও যেন বাদ না পড়ে এমনভাবে সম্পূর্ন শরীর ধৌত করা আবশ্যক। এভাবে গোসল করলে, পানির কণাগুলি ঋণাত্মক বৈদ্যুতিক প্রবাহকে প্রতিরোধ করে এবং দেহকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোসল, চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ীও অবশ্য পালনীয় একটি পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়।
৬ দেহের সংবহন তন্ত্রের উপরও অজু ও গোসলের ইতিবাচক প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে। শিরা-উপশিরা ও ধমনীকে অনমনীয় ও সংকুচিত হওয়া থেকে বিরত রাখে। অজুতে এক ধরণের স্থানীয় উদ্দীপন রয়েছে। লসিকাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ন কেন্দ্রের মধ্য থেকে নাকের ছিদ্র ও গলার টনসিলের দুই পাশকে অজুর সময় ধৌত করার মাধ্যমে একধরণের উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। এছাড়া ঘাড় ও তার পার্শ্ববর্তী স্থানকে ধৌত করলেও লসিকাতন্ত্রে উদ্দীপনের সৃষ্টি হয়। অজু ও গোসলের মাধ্যমে লসিকাতন্ত্রের সংবহন সহজতর হয়, এর দ্বারা লসিকায় শ্বেতকনিকার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা শরীরকে ক্ষতিকারক রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৭. পানি ব্যবহারে অপারগ হওয়ার কারণে মাটি দিয়ে যে তায়াম্মুম করা হয় তার দ্বারাও শরীরে উৎপাদিত অতিরিক্ত ইলেকট্রন বহু অংশে হ্রাস পায়৷
নাজাসাত থেকে পবিত্ৰতা
শরীর,পোশাক ও নামাজের স্থান সকল ধরনের নাপাকী থেকে পবিত্র হতে হবে। মাথার কাপড় ওড়না,টুপি, পাগড়ী,মুজা এবং মা শীতের দেশের মানুষদের পরিহিত চামড়ার মুজা)ইত্যাদি পোশাক হিসেবে গণ্য হওয়ায় এগুলো ও পবিত্র হতে হবে। নামাজের সময় শরীরের সাথে নড়ে এমন কিছু পরিহিত থাকলে তাও পোশাক হিসেবে বিবেচিত হয়। যেমন মাফলার। জায়নামাজের যে স্থানে সেজদা দেয়া হয় এবং যেখানে দাঁড়ানো হয় সেসব স্থান পবিত্র হলে এবং অন্য কোন অংশে নাজাসাত থাকলেও নামাজ কবুল হয়। কেননা জায়নামাজ পোশাকের মত নয়। নামাজ আদায়ের সময় পোশাকের পকেটে বোতলে বদ্ধ অবস্থায় কিংবা প্ল্যাস্টিক,কাগজ ইত্যাদি দ্বারা আবৃত কোন কিছুর মাঝে নাপাকী থাকলে নামাজ কবুল হয় না। নামাজের সময় যে স্থানে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা হয় এবং যেখানে সেজদা দেয়া হয় সেসব স্থান অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। অপবিত্র কোন বস্তুর উপরে চাঁদর,গ্লাস,কাঠ,প্ল্যাস্টিক ইত্যাদি জাতীয় কিছু বিছিয়ে নামাজ আদায় করা জায়েজ। সেজদার সময় পোশাকের ঝুলন্ত অংশে শুকনো নাপাকীর স্পর্শ লাগলেও নামাজের ক্ষতি হয় না।
শরীরে পোশাকে ও নামাজের স্থানে এক দিরহাম পরিমানের সমান বা তার চেয়ে কম নাজাসাতে গালিজা থাকলে নামাজ কবুল হয়। তবে এক্ষেত্রে নাপাকীর পরিমান এক দিরহামের সমান হলে ঐ অবস্থায় নামাজ আদায় করা মাকরুহে তাহরিমী হয় এবং এ থেকে পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব হয়। নাপাকীর পরিমান এক দিরহামের চেয়ে বেশি হলে ঐ অবস্থায় নামাজ কবুল হয় না এবং এ থেকে পবিত্রতা অর্জন করা ফরজ। দিরহামের চেয়ে কম পরিমানে নাপাকী থাকলে তা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নত। মদের ক্ষেত্রে বিন্দু পরিমাণে লাগলেও ধুয়ে নেয়া ফরজ। ইমামাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ র.)ও অপর তিন মাজহাবের মতে,বিন্দু পরিমাণে হলেও সবধরনের নাজাসাতে গালিজার ক্ষেত্রেই ধৌত করে পবিত্র হওয়া ফরজ। নামাজে দাঁড়ানোর সময় কি পরিমাণে নাজাসাত রয়েছে তার উপর ভিত্তি করে হুকুম প্রয়োগ করা হয় নাজাসাত লাগার সময়ের পরিমাণকে বিবেচনা করা হয় না।
নাজাসাতে গালিজার ক্ষেত্রে এক দিরহাম বলতে এক মিসকাল পরিমাণকে বুঝায়, যা চার গ্রাম চুরাশি সেন্টিগ্রামের সমান। আর তরল নাজাসাতের ক্ষেত্রে, খোলা হাতের তালুতে যে পরিমাণ পানি ধরে তা সমতল পৃষ্ঠে যে পরিমাণ স্থান দখল করে তার সমান হয়। এক মিসকালের চেয়ে কম পরিমাণ নাজাসাতে গালিজা যদি পোশাকে লাগে এবং হাতের তালুর চেয়েও বেশী পরিমাণ স্থানে ছড়িয়ে যায় তবুও তা নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য হয় না। নাজাসাত দুই প্রকার
১. নাজাসাতে গালিজা মানুষের শরীর থেকে যা কিছু বের হলে অজু- গোসল ভঙ্গ হয় তার সবকিছু প্যাঁচা ব্যাতীত যে সমস্ত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম তাদের গোশত, অপ্রক্রিয়াজাত চামড়া,মল-মূত্র, মানুষ সহ সকল প্রাণীর রক্ত মদ, মৃত জন্তুর ও শূকরের গোশত খাঁচায় পালিত প্রাণীর মল মূত্র এবং ভার বহনকারী পশুর ছাগল ও ভেড়ার মল-মূত্র নাজাসাতে গালিজার অন্তর্ভূক্ত। অর্থাৎ এগুলো ভারী নাপাকি।
২. নাজাসাতে খফীফা নাজাসাতে খফীফা থেকে শরীরের কোন অঙ্গে কিংবা পোশাকের কোন অংশে লাগলে,আর তা যদি ঐ অঙ্গের কিংবা পোশাকের এক চতুর্থাংশের চেয়ে কম হয় তবে তা নামাজের কোন ক্ষতি হয় না। যে সমস্ত চতুষ্পদ প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল সে সব প্রাণীর প্রস্রাব এবং যে সমস্ত পাখির গোশত খাওয়া হারাম সে সব পাখির মল-মূত্র নাজাসাতে খফীফা হিসেবে গণ্য হয় । কবুতর চড়ুই এবং এদের মত যে সমস্ত পাখির গোশত খাওয়া হালাল সে সব পাখির মল মূত্র নাজাসাত হিসেবে গণ্য নয়। মদ থেকে পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে রাকী,অ্যালকোহলো ইত্যাদি উৎপন্ন করা হয় তা নাজাসাতে গালিজা হিসেবে বিবেচিত হয়,মদের মতই ওগুলি পান করাও হারাম। নামাজ আদায় করার সময় শরীরের চামড়া ও পোশাক থেকে লেগে থাকা রক্ত,মদ ও অ্যালকোহলো পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করা দরকার। কেননা এগুলো শুকিয়ে গেলেও অপবিত্র হিসেবে গণ্য হয়। এগুলো যদি বোতল কিংবা কোন পাত্রে আবদ্ধ অবস্থায়ও থাকে, তবুও নামাজ আদায়ের সময় তা পকেটে রাখা উচিত নয়।
সব ধরণের পরিষ্কার পানি ও অজু-গোসলে ব্যবহৃত হয়েছে এমন পানি দিয়ে এবং শিরকা ও গোলাপ জলের মত অঘনীভূত তরল দ্বারা পরিষ্কার করা যায়। অজু ও গোসলের জন্য যে পানি ব্যবহৃত হয়েছে তাকে ‘মা’উ-মুস্তা’মাল' বলা হয়। এ ধরণের পানি পবিত্র কিন্তু এর দ্বারা অজু-গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তবে এর দ্বারা নাজাসাত পরিষ্কার করা সম্ভব। কেননা এ ধরণের পানি নিজে পবিত্র কিন্তু মানুষের অপবিত্র অবস্থাকে পবিত্র করতে পারে না৷ ৷
ইস্তিনজা,
মানুষের সামনের ও পিছনের রাস্তা দিয়ে নাজাসাত বের হওয়ার পরে এই জায়গাগুলি পরিষ্কার করাকে ইস্তিনজা বলা হয়। ইস্তিনজা তথা পবিত্র হওয়া হলো সুন্নতই মুয়াক্কাদা। অর্থাৎ, টয়লেটে মল-মূত্র ত্যাগ করার পরে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেরই মাটির দলা, পাথরের টুকরা কিংবা পানি দিয়ে সামনের ও পিছনের উভয় রাস্তাকেই নাপাকী থেকে সম্পূর্নরূপে পরিষ্কার করা সুন্নত। কিন্তু যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে,অন্যের সামনে গোপনাঙ্গ উম্মুক্ত না করে পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা অসম্ভব, সে ক্ষেত্রে পানি দ্বারা ইস্তিনজা করা থেকে বিরত থাকবে। ঐ অবস্থাতেই নামাজ আদায় করবে। তবুও গোপনাঙ্গ উম্মুক্ত করবে না। যদি উম্মুক্ত করে তবে ফাসিক হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি হারাম সম্পাদনকারী হবে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে নিরিবিলি কোন স্থানে পানি দ্বারা ইস্তিনজা করে নামাজ পুনরায় আদায় করে নিবে। কেননা কোন আদেশ তথা ফরজ পালন করতে গিয়ে যদি হারাম সম্পাদনে বাধ্য হতে হয় সেক্ষেত্রে ঐ হারাম থেকে বেঁচে থাকার জন্য ঐ ফরজকে বিলম্বিত করতে হয় কিংবা ত্যাগ করতে হয়।
হাড্ডি, খাদ্য, গোবর, ইট, ফুলদানী, কাঁচের টুকরো, কয়লা, পশুপাখির খাদ্য, অন্যের জিনিস, আর্থিক মূল্য আছে এমন জিনিসপত্র যেমন রেশমী কাপড় মসজিদের থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে এমন কিছু জমজমের পানি, পাতা, কাগজ ইত্যাদি দিয়ে ইস্তিনজা করা মাকরূহে তাহরিমী। খালি কাগজকেও সম্মান দেখানো দরকার। মূল্যহীন জিনিসপত্র, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অপ্রয়োজনীয় লেখালেখি আছে এমন কাগজপত্র ও পত্রিকা দ্বারা ইস্তিনজা করা জায়েজ। তবে ইসলামী হরফে লেখা হয়েছে এমন কোন কাগজ দ্বারা ইস্তিনজা করা যায় না৷ কিবলার দিকে মুখ করে কিংবা পিঠ ফিরিয়ে টয়লেট করা মাকরূহ। এছাড়া দাঁড়িয়ে কিংবা কোন ধরণের উজর না থাকা সত্ত্বেও উলঙ্গ অবস্থায় টয়লেট করাও মাকরূহ। প্রস্রাব জমা হতে পারে এমন স্থানে গোসল করা জায়েজ নয়। তবে যদি প্রস্রাব প্রবাহিত হয়ে চলে যায় এবং জমে থাকার কোন সম্ভাবনা না থাকে সেক্ষেত্রে এমন স্থানে গোসল করা জায়েজ হবে। ইস্তিনজার জন্য ব্যবহৃত পানি অপবিত্ৰ হয়ে যায়। তাই ইস্তিনজা করার সময় পোশাকে যেন পানির ছিটা না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। এজন্য ইস্তিনজা করার সময় গুপ্তাঙ্গের পোশাক খুলতে হয়। তবে তা অবশ্যয়ই লোকচক্ষুর আড়ালে নির্জন কোন স্থানে করতে হবে। টেপ থেকে পানি নিয়ে পোশাকের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে প্রস্রাবের রাস্তাকে হাতের পানি দিয়ে ডলে ধৌত করলে ইস্তিনজা হয় না। কেননা প্রস্রাবের ফোঁটা যখন হাতের পানিতে লাগবে তখন তা অপবিত্র হয়ে যাবে এবং পোশাকে লাগলে তাও নাপাক হয়ে যাবে। এই নাপাক পানি যদি পোশাকে হাতের তালুর পরিমাণের চেয়ে বেশী স্থানে ছরিয়ে যায় তাহলে ঐ পোশাক পরিধান করে নামাজ আদায় করলে তা কবুল হবে না।
ইস্তিবরা
পুরুষদের জন্য প্রস্রাবের পরে হেটে, কাশি দিয়ে অথবা বাম দিকে শুয়ে ইস্তিবরা করা, অর্থাৎ মূত্রনালিতে বিন্দু পরিমাণেও প্রস্রাব অবশিষ্ট না রাখা ওয়াজিব। প্রস্রাবের ফোঁটার না থাকার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে অজু করা উচিত নয়। কেননা অজু করার পরে এক ফোঁটাও যদি বের হয় তাহলেও অজু নষ্ট হয় এবং পোশাক ময়লা হয়। পোশাকে যদি হাতের তালুর চেয়ে কম পরিমাণে ছড়ায় তাহলে নতুন করে অজু করে ঐ পোশাকে নামাজ আদায় করলে মাকরূহ হয়। আর হাতের তালুর চেয়ে বেশী পরিমাণ যায়গায় ছড়ালে ঐ পোশাক দিয়ে নামাজ আদায় করলে তা কবুল হয় না। ইস্তিবরার ব্যাপারে যারা সমস্যায় ভোগে তারা ডালের সম আকৃতির তুলা মূত্রনালির মুখে লাগিয়ে রাখতে পারে। এক্ষেত্রে তুলা প্রস্রাবে ফোঁটাকে শুষে নিবে বিধায় পোশাকে ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন তুলার কোন অংশ যেন বাইরে না থাকে।
