ইমামতির শর্তসমূহ

 

ইমামতির শর্তসমূহ



ইমাম হওয়ার জন্য ছয়টি শর্ত রয়েছে। এগুলো থেকে কোন একটি শর্ত যদি ইমামের মাঝে অনুপস্থিত থাকে তবে তার পিছনে আদায়কৃত নামাজ কবুল হয় না। এগুলো হলো

. মুসলমান হওয়া। হযরত আবু বকর সিদ্দীক হযরত উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে যারা খলিফা হিসেবে স্বীকার করে না অথবা মিরাজ কবরের আযাবকে বিশ্বাস করে না তাদেরকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

. বালেগ তথা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া

. আকেল তথা বুঝ শক্তি সম্পন্ন হওয়া। মাতাল কিংবা বুদ্ধি প্রতিবন্দী ব্যক্তি ইমাম হতে পারে না

. পুরুষ হওয়া। নারী কখনো পুরুষের ইমাম হতে পারে না।

. কমপক্ষে সূরা ফাতিহা অন্য একটি আয়াত সঠিকভাবে তিলাওয়াত করতে সক্ষম হওয়া। এক আয়াতও মুখস্ত করতে অক্ষম কিংবা মুখস্ত করা সত্ত্বেও তাজবীদ সহকারে শুদ্ধভাবে তিলাওয়াতে অক্ষম কারো জন্য ইমামতি করা জায়েজ নয়।

না।

.উজরহীন হওয়া। উজরওয়ালা ব্যক্তি উজরহীন ব্যক্তির ইমাম হতে পারে ইমামের জন্য পবিত্র কুরআন তাজবীদ সহকারে তিলাওয়াত করা আবশ্যক। সুন্দর ক্বিরাত বলতে তাজবীদ অনুযায়ী তিলাওয়াত করাকে বুঝায়। যে সকল ইমাম নামাজের শর্তসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করে না তাদের পিছনে নামাজ আদায় করা উচিত নয়।সালিহ (সৎ কর্মশীল) কিংবা ফাজির (পাপী) ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করহাদীসটি সাধারণ মসজিদের ইমামের জন্য প্রযোজ্য নয়,বরং জুমা নামাজের ইমামতি করা সুলতান হুকুমদার কিংবা তার প্রতিনিধির জন্য প্রযোজ্য

সুন্নাত তথা দ্বীনি ইলমের উপর যার সর্বাধিক দখল রয়েছে তিনিই ইমামতির জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত ব্যক্তি। এক্ষেত্রে সমপর্যায়ের একাধিক ব্যাক্তি থাকলে, তাদের মধ্যে যিনি উত্তমভাবে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন তিনি ইমাম হবেন। এক্ষেত্রেও একাধিক ব্যক্তি সমপর্যায়ের হলে তাদের মধ্য থেকে অধিক তাকওয়াবান ব্যক্তি ইমাম হবেন। তাতেও সমপর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি থাকলে,বয়সে যিনি বড় তিনি ইমাম হবেন।

দাস,যাযাবর,পাপী,অন্ধ অবৈধ সন্তানের ইমামতি করা মাকরুহ। ইমামের, জামাতে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিরক্তির উদ্রেক হয় কিংবা অস্বস্থি অনুভব করে এমন দীর্ঘ ক্বিরাত তিলাওয়াত করা উচিত নয়।

মহিলাদের জন্য শুধুমাত্র নিজেদের মাঝে জামাত করে নামাজ আদায় করা

মাকরুহ। একজন মুসল্লী নিয়ে জামাতে নামাজ আদায়কারী ইমাম তাকে নিজের ডান পাশে দাঁড় করাবে। যদি কমপক্ষে দুইজন মুসল্লী নিয়ে জামাত করে তবে ইমাম তাদের সামনে দাঁড়াবে। পুরুষের জন্য নারী কিংবা শিশুর পিছনে নামাজ আদায় করা জায়েজ নয়

ইমামের পিছনে প্রথমে পুরুষগণ কাতার করে দাঁড়াবে তারপর শিশুরা এবং তাদের পিছনে নারীরা কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে।

ইমাম যদি মহিলাদের ইমামতির জন্য নিয়্যাত করে থাকে আর একই ওয়াক্তের নামাজের জন্য একই সারিতে পুরুষ মহিলা দাঁড়ায় তবে পুরুষের নামাজ ভঙ্গ হবে। তবে যদি ইমাম মহিলার জন্য নিয়্যাত না করে থাকে তবে পাশাপাশি নামাজ আদায়কারী পুরুষের নামাজের ক্ষতি হবে না,কিন্তু মহিলার এভাবে নামাজ আদায় করা জায়েজ হবে না। দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি, বসে আদায়কারী ব্যক্তির অনুসরণ করতে পারে। মুকীম ব্যক্তি মুসাফির ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করতে পারে। ফরজ আদায়কারী ব্যক্তি নফল আদায়কারী ব্যক্তির ইমামতিতে জামাত করতে পারে না তবে নফল আদায়কারী ফরজ আদায়কারী ব্যক্তির পিছনে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারে। জামাতে নামাজ আদায়ের পরে যদি জানতে পারে যে,ইমাম অজুহীন অবস্থায় নামাজ পড়িয়েছে তাহলে মুসল্লীগণ পুনরায় নামাজ আদায় করে নিবে।

লাইলাতুল মিরাজ,লাইলাতুল বরাত লাইলাতুল কদরের নফল নামাজসমূহ আযান ইকামাত ঘোষণার মাধ্যমে জামাতের সাথে আদায় করা মাকরুহ

জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লীগণ চাইলেও ফরজ নামাজ আদায়ের সময় ইমামের জন্য ক্বিরাত তাসবীহসমূহ সুন্নাতের চেয়ে অতিরিক্ত দীর্ঘায়িত করা মাকরুহে তাহরিমী।

কেউ যদি রুকুর মধ্যে ইমামের পিছনে জামাতে অংশগ্রহণ করতে না পারে তবে রাকাত আদায় হবে না,ইমাম সালাম ফিরানোর পর তা আদায় করে নিতে হবে' ইমামের রুকুতে থাকা অবস্থায় কেউ জামাতে অংশগ্রহণ করতে আসলে প্রথমে নিয়্যাত করে দাঁড়ানো অবস্থায় তাকবীরে তাহরীমা বলে নামাজ আরম্ভ করবে পরে অনতিবিলম্বে রুকুতে যেয়ে ইমামের অনুসরণ করতে থাকবে। রুকুতে পুরোপুরি ঝুঁকার আগেই যদি ইমাম দাঁড়িয়ে যায় তবে রাকাত আদায়কৃত হিসেবে গণ্য হবে না।

ইমামের আগেই রুকুতে ঝুঁকা,সিজদায় যাওয়া কিংবা রুকু সিজদা থেকে ইমামের আগে উঠা মাকরুহে তাহরিমী। ফরজ নামাজ আদায়ের পরে কাতার থেকে ছড়িয়ে যাওয়া মুস্তাহাব।

কোন মুমিন ব্যক্তি যদি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করে তবে সে সমস্ত পয়গম্বর আলাইহিস্ সালামের সাথে নামাজ আদায়ের মত সওয়াব অর্জন করে।

জামাতের সাথে আদায়কৃত নামাজের এত ফযিলত তখনই অর্জিত হবে যখন ইমামের নামাজ কবুল হবে।

কেউ যদি, কোন ধরনের উজর ব্যতীত জামাত ত্যাগ করে তাহলে সে জান্নাতের সুগন্ধ গ্রহণ করতে পারবে না। উজর ব্যতীত জামাত ত্যাগকারীকে চার কিতাবে অভিশপ্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজই জামাতের সাথে আদায়ের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা উচিত। কিয়ামতের দিন যদি মহান আল্লাহ তায়ালা,সাত স্তরের জমিন,সাত স্তরের আসমান আরশ, কুরসী অন্যান্য সকল সৃষ্টিকে পরিমাপকের এক পাল্লায় রাখেন আর সকল শর্ত মেনে যথাযথভাবে জামাতের সাথে আদায়কৃত এক ওয়াক্ত নামাজের সওয়াব অন্য পাল্লায় রাখেন তবে জামাতের সাথে আদায়কৃত ফরজ নামাজের সওয়াবের পাল্লা অধিক ভারী হবে।

ইমামের সাথে জামাতে নামাজ শুদ্ধ হওয়ার দশটি শর্ত

.নামাজ শুরুর সময় তাকবীর দেয়ার পূর্বে ইমামের অনুসরণ করে জামাতে নামাজ আদায়ের নিয়্যাত করতে হয়।ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমাম' বলে তা মনে মনে স্থির করতে হয়। নিয়্যাতে ইমামের অনুসরণের কথা উল্লেখ করা আবশ্যক। .জামাতে মহিলাদের উপস্থিতি থাকলে তাদের জন্য ইমামের নিয়্যাত করা আবশ্যক। পুরুষ জামাতের জন্য ইমামতির নিয়্যাত না করলেও চলবে। তবে ইমাম জামাতের ইমামতির নিয়্যাত করলে নিজে জামাতে নামাজের সওয়াব অর্জন করবে।

.জামাতের কাতার ইমামের গোড়ালির পিছনে থাকতে হবে।

.ইমামের সাথে জামাতের,একই ওয়াক্তের ফরজ নামাজ আদায় করা আবশ্যক।

.ইমাম পুরুষ জামাতের মাঝে মহিলাদের কাতার থাকতে পারবে না।

. ইমাম জামাতের মাঝে নৌকা যেতে পারে এমন খাল কিংবা গাড়ি যেতে পারে এমন রাস্তা থাকতে পারবে না।

. ইমাম জামাতের মাঝে এমন দেয়াল বা প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারবে না, যার কারণে অপর পাশের জামাতের পক্ষে ইমাম কিংবা জামাতের কাউকেই দেখা সম্ভব না অথবা ইমামের আওয়াজও শুনা যায় না৷

.ইমাম কোন পশুর উপরে আর জামাত নিচে অথবা জামাত পশুর উপরে, ইমাম মাটিতে হতে পারবে না।

.ইমাম জামাত যদি একাধিক নৌকা বা জাহাজে অবস্থান করে তবে নৌকা কিংবা জাহাজের পরস্পর লেগে থাকতে হবে।

১০ইমাম অন্য মাজহাবের হলে জামাতের নামাজ শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে দুইটি রিওয়ায়েত রয়েছে। প্রথম বর্ণনা অনুযায়ী, জামাতে অংশগ্রহণকারীদের মাজহাব অনুযায়ী নামাজ ভঙ্গ হয় এমন কোন কারণ ইমামের মাঝে অনুপস্থিত থাকতে হবে। দ্বিতীয় মত হলো,ইমামের নিজ মাজহাব অনুযায়ী নামাজ শুদ্ধ হলে, অন্য মাজহাবের অনুসারী জামাতের জন্যও নামাজ শুদ্ধ হবে। এই মত অনুযায়ী, ইমামের দাঁতে প্রলেপ অথবা ফিলিং থাকলেও হানাফী মাজহাবের অনুসারীদের জন্য তার ইমামতিতে নামাজ আদায় করা সহীহ হবে।

দুই জনের জামাত হলে,মুসল্লী ইমামের ডান দিকে দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে বাম দিকে দাঁড়ানো মাকরুহ। সরাসরি পিছনে দাঁড়ানোও মাকরুহ। মুসল্লীর পায়ের গোড়ালি ইমামের গোড়ালির চেয়ে সামনে না থাকলে নামাজ শুদ্ধ হয়। দুই বা তার চেয়ে বেশি মুসল্লী জামাতে অংশগ্রহণ করলে ইমামের পিছনের সারিতে দাঁড়াবে।

ইমামের সাথে জামাতে নামাজ আদায় করার সময়ও একাকী আদায় করার মত করেই নামাজ পড়তে হয়। তবে নামাজের দাঁড়ানো অবস্থায়,ইমাম উচ্চস্বরে হোক কিংবা নিচুস্বরে হোক যেভাবেই ক্বিরাত তিলাওয়াত করুক না কেন,জামাতে অংশগ্রহণকারী মুসল্লীগণ কিছুই পাঠ করবে না। শুধুমাত্র প্রথম রাকাতের শুরুতেসুবহানাকাপড়বে। (শাফিঈ মাজহাব অনুযায়ী, ইমামের সাথে সাথে জামাতকেও নিচুস্বরে সূরা ফাতিহা পড়তে হয়।) ইমাম উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করার পরে,জামাত নিচুস্বরেআমীন' বলবে। উচ্চস্বরে আমীন বলা উচিৎ নয়। রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় ইমাম যখনসামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলবে তখন জামাত শুধুমাত্ররব্বানা লাকাল হামদ' বলবে। এরপরআল্লাহু আকবারবলে ইমামের সাথে সাথে জামাতও সিজদায় যাবে। রুকুতে, সিজদায় বসা অবস্থায় একাকী নামাজ আদায়ের মত করেই জামাতও তাসবীহ দোয়াসমূহ পাঠ করবে।

বিতরের নামাজ,রমজান মাসে জামাতের সাথে আদায় করা হয়। এর বাইরে অন্যান্য সময়ে একাকী আদায় করতে হয়।

মাকএর নামাজ

ইমামের অনুসরণ করে জামাতের সাথে নামাজ আদায়কারী মুসল্লীদেরকে চারটিভাগে ভাগ করা যায়। তারা হলেন মুদরিক,মুকতাদি,মাসবুক লাহিক। মুদরিকইফতিতাহ তাকবীর' অর্থাৎ নামাজ শুরুর জন্য যে তাকবীর দেয়া হয় সেই মুহূর্ত থেকেই সম্পূর্ণ নামাজ ইমামের সাথে আদায়কারী মুসল্লীকে বলা হয়।

মুকতাদি ইমামের ইফতিতাহ তাকবীরের সময় উপস্থিত হতে না পেরে পরবর্তীতে নামাজে যোগদান করলে তাকে মুকতাদি বলা হয়।

মাসবুক ইমামের সাথে জামাতে প্রথম রাকাতে অংশগ্রহণ করতে না পারলে তাকে মাসবুক বলা হয়

লাহিক ইফতিতাহ তাকবীর থেকেই ইমামের সাথে একত্রে নামাজ শুরু করার পরে কোন কারণে নিজের অজু ভঙ্গ হয়ে যাওয়ায় জামাত থেকে বের হয়ে অজু করে পুনরায় একই নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করে ইমামের অনুসরণকারীকে বলা হয়। এই ধরণের ব্যক্তি আগের মত জামাতে নামাজের নিয়মেই আদায় করবে অর্থাৎ ক্বিরাত পড়বে নারুকু সিজদার তাসবীহসমূহ পড়বে এভাবে ইমামের সালাম ফিরানো পর্যন্ত অনুসরণ করবে এরপর যেই রাকাতগুলি বাদ গেছে তা নিজে আদায় করে নিবে। লাহিক ব্যক্তি,জামাত থেকে বের হয়ে পুনরায় জামাতে অংশগ্রহণের মাঝের সময়টুকুতে দুনিয়াবী কোন কথা বলবে না,যেন সে জামাতেই আছে এমন থাকবে। সবচেয়ে নিকটবর্তী কোন স্থান থেকে অজু করবে। কেননা অজুর জন্য খুব দূরে গেলে নামাজের ভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পক্ষে কিছু আলেম মত দিয়েছেন।

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে যেই কয় রাকাত নামাজ আদায় করতে পারেনি তা ইমাম সালাম ফিরানোর পরেআল্লাহু আকবর' বলে দাঁড়িয়ে নিজে আদায় করে নিবে।

ক্বিরাত আদায়ের ক্ষেত্রে প্রথম রাকাত, এরপর দ্বিতীয় তৃতীয় রাকাত আদায় করছে এমনভাবে তিলাওয়াত করবে। আর বৈঠকের ক্ষেত্রে প্রথমে চতুর্থ,এরপর তৃতীয় দ্বিতীয় রাকাতের মত করে আদায় করবে। অর্থাৎ শেষ থেকে শুরুর মত করে আদায় করবে। উদাহরণস্বরূপ, এশার নামাজের শেষ রাকাতে জামাতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি ইমামের সালাম ফিরানোর পরে দাঁড়িয়ে প্রথম দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলিয়ে আদায় করবে। কিন্তু বৈঠকের ক্ষেত্রে প্রথম রাকাতের পরেই আদায় করবে,দ্বিতীয় রাকাতের পরে বসবে না।

পাঁচটি জিনিস ইমাম না করলে জামাত করতে পারে না

.ইমাম দোয়াই কুনুত না পড়লে জামাতও পড়তে পারে না

. ইমাম ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবীর না দিলে জামাতও দিতে পারে

.ইমাম,চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে না বসলে জামাতও বসবে না।

. ইমাম সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা আদায় না করলে জামাতও আদায় করবে না।

.ইমাম সাহু সিজদা না করলে জামাতও তা করবে না।

চারটি জিনিস ইমাম করলেও জামাত করবে না:

.ইমাম দুইয়ের বেশি সিজদা করলেও জামাত তা করবে না।

.ইমাম ঈদের নামাজের অতিরিক্ত তাকবীর এক রাকাতে তিনবারের চেয়ে বেশি করলেও জামাত তা করবে না৷

.ইমাম জানাজার নামাজে চারবারের চেয়ে বেশি তাকবীর দিলেও জামাত তা করবে না।

.ইমাম পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়ালেও জামাত দাঁড়াবে না। ইমামের জন্য অপেক্ষা করবে পরে একসাথে সালাম ফিরাবে।

দশটি জিনিস ইমাম না করলেও জামাত করবে:

.ইফতিতাহ তাকবীরের সময় হাত তুলবে।

. সুবহানাকা পাঠ করবে।

রুকুতে যাওয়ার সময় তাকবীর বলবে।

রুকুর তাসবীহ পাঠ করবে।

.সিজদায় যাওয়ার সময় সিজদা থেকে উঠার সময় তাকবীর বলবে।

. সিজদার তাসবীহ পাঠ করবে।

.‘সামিয়াল্লাহুনা বললেওরব্বানা লাকাল হামদ' বলবে।

.‘আত্তাহিয়্যাতুএর শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে।

. নামাজের শেষে সালাম ফিরাবে।

১০ পবিত্র কুরবানীর ঈদের সময়, তেইশ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের শেষে সালাম ফিরানোর সাথে সাথে তাকবীর বলবে। এই তাকবীরকেতাশরিক তাকবীর' বলা হয়৷

ইফতিতাহ তাকবীরের ফজিলতসমূহ

কোন ব্যক্তি যদি ইফতিতাহ তাকবীরে ইমামের সাথে একত্রে অংশগ্রহণ করতে পারে,তাহলে শীতের পূর্বে গাছের শুঁকনো পত্রসমূহ বাতাস প্রবাহের সাথে সাথে যেভাবে ঝরে পরে ঠিক তেমনিভাবে বক্তির গুনাহসমূহও ঝরে যায়।

একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ আদায়ের সময়, কোন একজন সাহাবী ফজরের নামাজে ইফতিতাহ তাকবীরের সময় উপস্থিত হতে পারেননি। এজন্য তিনি একজন দাস আযাদ করে দিলেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে বললেন,ইয়া রাসূলুল্লাহ আমি আজকে ইফতিতাহ তাকবীরে উপস্থিত হতে পারিনি এজন্য একজন দাস আযাদ করে দিয়েছি। এখন আমি কি এর দ্বারা ইফতিতাহ তাকবীরের সওয়াব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আবুবকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞাসা করলেন তুমি এই ইফতিতাহ তাকবীরের ব্যাপারে কি বল হযরত আবুবকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে বললেন,ইয়া রাসূলুলাহ আমি যদি চল্লিশটি উটের মালিক হতাম আর এই উটগুলি মূল্যবান রত্ন সমৃদ্ধ হত তারপর আমি সবসহ এই উটগুলি ফকিরদের মাঝে দান করে দিতাম তবুও ইমামের সাথে একত্রে ইফতিতাহ তাকবীরে অংশগ্রহণ করলে যে সওয়াব অর্জিত হয় আমার মনে হয় এর দ্বারা তা অর্জন করতে পারব না। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে উমর তুমি এই ইফতিতাহ তাকবীরের ব্যাপারে কি বল হযরত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু জবাবে বলল, আমার যদি মক্কা থেকে মদীনা পর্যন্ত উটের সারি থাকে আর এগুলো রত্ন বোঝাই হয় এরপর আমি উটসহ সবকিছু ফকিরদের মাঝে দান করে দেই তাতে যে পরিমাণ সওয়াব অর্জন করব,তার দ্বারাও আমার মনে হয় ইমামের সাথে একত্রে ইফতিতাহ তাকবীরে অংশগ্রহণ করার সওয়াব অর্জন করা সম্ভব হবে না।

তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে উসমান৷ এই ইফতিতাহ তাকবীরের ব্যাপারে তোমার মত কি জবাবে হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন,ইয়া রাসূলুল্লাহ আমি রাতে যদি দুই রাকাত নামাজ আদায় করি এবং এর প্রত্যেক রাকাতে মহাপবিত্র কুরআন শরীফকে খতম করি তারপরও মনে হয়,ইমামের সাথে একত্রে ইফতিতাহ তাকবীরে অংশগ্রহণের সওয়াব অর্জন করতে পারব না

অতঃপর,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন, হে আলী এই ব্যাপারে তোমার অভিমত কি জবাবে হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওজহাহু বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত কাফির দ্বারা পূর্ণ হলে আর আল্লাহ্ তায়ালা আমাকে শক্তি দিলে এর দ্বারা সমস্ত কাফিরের বিরুদ্ধে জিহাদ করলে যে সওয়াব হবে,আমার মনে হয় তবুও তা ইমামের সাথে একত্রে ইফতিতাহ তাকবীরে অংশগ্রহণ করতে পারার দ্বারা অর্জিত সওয়াবের সমান হবে না।

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এই আমার উম্মত আমার সাহাবী সাত আসমান আর সাত জমিন যদি কাগজ হয়, সমস্ত সাগর-মহাসাগর যদি কালি হয়,সমস্ত বৃক্ষরাজি যদি কলম হয়, সমস্ত ফেরেশতা যদি লেখক হয় এবং কিয়ামত পর্যন্ত যদি লিখতে থাকে তবুও ইমামের সাথে একত্রে ইফতিতাহ তাকবীরে অংশগ্রহণের সওয়াব লিখে শেষ করতে পারবে না।

ঘটনা প্রাসাদে বানানো মসজিদ

ইমাম আজম আবু হানিফা ()এর ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হারুনুর রশিদএর সময়ে কাজী (প্রধান বিচারক) এর দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। একদিন হারুনুর রশিদের নিকটে থাকা অবস্থায়, একব্যক্তি অপর আরেক ব্যক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করল। এসময় হারুনুর রশিদের উজির বলল, আমি এর সাক্ষী। হযরত আবু ইউসুফ () উজিরকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করেননি। খলিফা এর কারণ জিজ্ঞাসা করলেন কেন আমার উজিরকে সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করছ না ইমাম বললেন,একদিন আপনি তাকে কোন কাজের আদেশ দিচ্ছিলেন   সময় সে বলেছিল, “আমি আপনার আজ্ঞাবহ দাস বা বান্দা এমতাবস্থায় সে যদি সত্য বলে থাকে তাহলে দাস হিসেবে তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় আর যদি মিথ্যা বলে থাকে সেক্ষেত্রেও মিথ্যাবাদী হিসেবে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব নয় খলিফা তখন বলল,আমি যদি সাক্ষী দিতে চাই কবুল করবে কি ইমাম বললেন না খলিফা জিজ্ঞাসা করলেন, কেন ইমাম বললেন, আপনি জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেন না খলিফা বললেন, আমিতো মুসলমানদের জন্য কাজে ব্যস্ত থাকি ইমাম বললেন, যে স্থানে খালেকের আনুগত্য করা আবশ্যক সেখানে খালক্‌ (জনতা)এর অনুগত হওয়া সম্ভব নয় খালিফা বললেন,ঠিক বলেছেন তৎক্ষণাৎ রাজপ্রাসাদে মসজিদ নির্মানের আদেশ দিয়েছেন পরবর্তীতে ইমাম মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিয়েছেন সর্বদা জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেছেন

 

Bengali Darpan

We are the Teacher Group. We help students to build their career and future life . We teach subjects with insper for building a future career .We are a team Group Teacher .our team is strong to guide Bengali Hon. With all Pass & Compulsory paper & Library Science with Dissertation paper BLIS & MLIS .WBSSC, UGC NET & SET, KVS ,WBPSC

Post a Comment

Previous Post Next Post

Copyright (c) 2024 Ramadan Delights India All Rights Reserved