ক্বাযা নামাজ

 

ক্বাযা নামাজ



নামাজ একটি শারীরিক ইবাদত হওয়ার কারণে কেউই অন্য কারো বদলে আদায় করতে পারে না প্রত্যেককেই নিজের নামাজ আদায় করতে হয়,এটা সকলের জন্যই ফরজ ওয়াক্ত অনুযায়ী নামাজ পড়াকেআদাবলা হয় যে কোন সময় তা পুনরায় পড়াকেইয়াদা' বলা হয় যেমন, কোন নামাজ আদায় করা হয়েছে কিন্তু মাকরুহ হয়েছে এমতাবস্থায় নামাজ ওয়াক্তের মধ্যেই সম্ভব না হলে যে কোন সময় তারইয়াদাকরা ওয়াজিব ফরজ ওয়াজিব নামাজ এর জন্য নির্ধারিত ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পরে আদায় করাকেক্বাযাবলা হয়

একদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ বিতিরের ওয়াজিব নামাজ আদায়ের সময় যেমন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হয়, একইভাবে এর ক্বাযা নামাজ আদায়ের সময়ও তারতীব বজায় রাখতে হয় অর্থাৎ নামাজের ওয়াক্তের ক্রমধারা অনুসরণ করে আদায় করতে হবে যার পাঁচ ওয়াক্তের বেশী ক্বাযা হয় নাই তাকেসাহিবুত তারতীব' বলা হয় জুমার ফরজ ক্বাযা হলে যোহরের নামাজের ক্রম অনুযায়ী আদায় করতে হবে জুমার দিনে ফজরের নামাজ ক্বাযা হলে আর খুৎবার সময় তা স্মরণ হলে,তৎক্ষণাৎ এর ক্বাযা আদায় করে নিতে হবে এক ওয়াক্তের ক্বাযা না আদায় করা পর্যন্ত পরের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা জায়েজ নয় হাদিস শরীফে বলা হয়েছেকোন ওয়াক্তের নামাজ ঘুমিয়ে থাকার কারণে কিংবা ভুলে যাওয়ার কারণে ক্বাযা হওয়ার পর,পরের ওয়াক্তের নামাজ জামাতের সাথে আদায়ের সময় তা স্মরণে আসলে,ইমামের সাথে নামাজ শেষ করে প্রথমে আগের ওয়াক্তের ক্বাযা আদায় করবে তারপর ইমামের সাথে যে নামাজ আদায় করেছিল তা পুনরায় পড়বেফরজের ক্বাযা করা ফরজ,একইভাবে ওয়াজিবের ক্বাযা করা ওয়াজিব তবে সুন্নাতের ক্বাযা করার জন্য বলা হয়নি হানাফী মাজহাবের আলেমগণ ব্যাপারে একমত যে,সুন্নাত নামাজ কেবলমাত্র নিজ ওয়াক্তের মধ্যেই আদায় করার জন্য আদেশ দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমত সুন্নাত নামাজ আদায় না করলে তা আর ঋণ হিসেবে বিবেচিত হয় না একারণেই ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পরে সুন্নাতের ক্বাযা করতে হয় না তবে ফজরের সুন্নাত ওয়াজিবের কাছাকাছি হওয়ায় দিন যোহরের পূর্বে ফরজের সাথে ক্বাযা করতে হয় ফজরের সুন্নাত দিনের যোহর ওয়াক্তের পরে আর অন্য সুন্নাতগুলি নিজ ওয়াক্তের পরে কখনোই ক্বাযা করতে হয় না কেউ ক্বাযা হিসেবে আদায় করলে তাতে সুন্নাতের সওয়াব অর্জিত হবে না, নফল হিসেবে বিবেচিত হবে

হযরত ইবনে আবেদীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তারতারগীবুস্ সালাতনামক কিতাবের ১৬২তম পৃষ্ঠায় বলেছেন যে,“বিনা উজরে সুন্নাত নামাজ বসে বসে আদায় করা জায়েজ একদম আদায় না করলে গুনাহ হবে ফরজের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র উজর থাকলে বসে আদায় করা জায়েজ হবেফরজ নামাজসমূহ বিনা উজরে ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করা কবীরা গুনাহ ওয়াক্তমত এরূপ যত নামাজ আদায় করা হয়নি তার ক্বাযা করা আবশ্যক ফরজ ওয়াজিব নামাজ, দুই ধরণের উজরের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্বাযা করা যায় তার একটি হলো শত্রুর মুখোমুখি থাকা অবস্থায়,আর দ্বিতীয়টি হলো সফরে থাকা অবস্থায় এক্ষেত্রে তিন দিনের অধিক দূরত্ব অতিক্রমের নিয়্যাত না থাকলেও পথে চোর ডাকাত,হিংস্র পশু ঝড় বন্যা ইত্যাদির আশঙ্কা থাকলে নামাজ ক্বাযা করা যায় তবে শর্ত হলো উপরোক্ত অবস্থাগুলিতে বসে বা যেকোন দিকে ফিরে কিংবা পশুর পিঠে চলন্ত অবস্থায় ইঙ্গিতের দ্বারাও যদি নামাজ আদায়ে সক্ষম না হয় সেক্ষেত্রে ক্বাযা করতে পারবে এই দুই অবস্থায় এবং ঘুম ভুলের কারণে নামাজ ক্বাযা হলে গুনাহ হবে না

আশবাহ্কিতাবের (ব্যাখ্যায়)বলা হয়েছে যে কারো ডুবে বা অন্য কোন কারণে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে,তাকে সেই অবস্থা থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে যেয়ে ওয়াক্তের নামাজ ক্বাযা হিসেবে আদায় করলে সহীহ হবে তবে অবস্থা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার সাথে সাথেই ক্বাযা করা ফরজ

নামাজ পড়া হারাম দিনের এমন তিন ওয়াক্ত বাদে অন্য সময়ে আদায় করবে এই শর্তে বৌ সন্তানদের অতি জরুরী রিজিক অন্বেষণের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন ততটুকু সময় বিলম্ব করে নামাজ আদায় করা জায়েজ তবে এর চেয়ে বেশী বিলম্ব করলে গুনাহ হবে কেননা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খন্দকের যুদ্ধের তীব্রতার জন্য যে চার ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারেননি তা যুদ্ধের তীব্রতা কমার সাথে সাথে রাতেই সাহাবীদের নিয়ে জামাতে ক্বাযা আদায় করেছিলেন যদিও সময়ে সাহাবীগণের প্রত্যেকেই খুব ক্লান্ত ছিলেন এমনকি অধিকাংশই আহত ছিলেন

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “দুই ফরজ নামাজকে একত্রিত করা কবীরা গুনাহ অর্থাৎ এক ওয়াক্তের নামাজকে সময়মত আদায় না করে ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পরে আদায় করা কবীরা গুনাহ অপর আরেকটি হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যেকোন নামাজকে যদি কেউ এর ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পরে আদায় করে,আল্লাহ্ তায়ালা তাকে আশিহুকবাজাহান্নামের আযাব দিবেন একহুকবাহলো আখেরাতের আশি বছর আর আখিরাতের একদিন হলো দুনিয়ার হাজার বছরের সমান এক ওয়াক্ত নামাজ ক্বাযা করার শাস্তি যদি এরূপ ভয়াবহ হয় তবে যে নামাজ আদায়ই করল না তার কি শাস্তি হতে পারে তা চিন্তা করা উচিত

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ যে নামাজ আদায় করল সে দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করল,আর যে নামাজ আদায় করল না সে দ্বীনকে ধ্বংস করল আরেকটি হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যেকিয়ামতের দিন,ঈমানের পরে সর্বপ্রথম নামাজ সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তায়ালা বলবেন যে, “হে আমার বান্দা,যদি নামাজের হিসাব ঠিকমত দিতে পার তবে মুক্তি তোমার হবে কেননা অন্যান্য হিসাবগুলি আমি সহজ করে দিব সূরা আনকাবুতের পঁয়তাল্লিশতম আয়াতে বলা হয়েছে যে, “ত্রুটিহীনভাবে আদায়কৃত নামাজ,মানুষকে অনিষ্ঠ অশ্লীল কাজকর্ম করা থেকে বিরত রাখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “মানুষ তার রবের সবচেয়ে বেশী নিকতবর্তী তখনই হতে পারে যখন সে নামাজ আদায় করে

একজন মুসলমানের কোন ওয়াক্তের ফরজ নামাজ ত্যাগ করা দুইভাবে হতে পারে

. শরয়ী কোন উজরের কারণে ক্বাযা করতে পারে

নামাজকে ফরজ হিসেবে জানা সত্ত্বেও গুরুত্ব দেয়া সত্ত্বেও অলসতার কারণে ত্যাগ করতে পারে

কোন ফরজ নামাজকে বিনা উজরে তার ওয়াক্ত অতিবাহিত হওয়ার পরে আদায় করা অর্থাৎ ক্বাযা করা হারাম কবীরা গুনাহ নামাজের ক্বাযা আদায়ের দ্বারা গুনাহ থেকে মাফ পাওয়া যায় না তবে ক্বাযা আদায় করলে, শুধুমাত্র নামাজ আদায় না করার গুনাহ থেকে মাফ পেতে পারে কেউ যদি নামাজের ক্বাযা আদায় না করে শুধুমাত্র তওবা করে তবে মাফ পাবে না ক্বাযা আদায়ের পরে তওবা করলে ক্ষমা পাওয়ার আশা করা যায় তওবা করার সময় ক্বাযা নামাজগুলি আদায় করা আবশ্যক ক্বাযা আদায়ের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও, আদায় না করলে তা আলাদাভাবে আরেকটি কবীরা গুনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে এই কবীরা গুনাহ প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় সময় (প্রতি ছয় মিনিট অতিবাহিত হওয়ার সাথসাথে, ধাপে ধাপে বৃদ্ধি হতে থাকে কেননা ক্বাযা নামাজ,খালি সময় পাওয়ার সাথে সাথে আদায় করা ফরজ ক্বাযা আদায়ের ব্যাপারে অবহেলা করলে জাহান্নামের আজাব ভোগ করতে হবে

উমদাতুল ইসলামজামিউল ফাতাওয়াকিতাবে বলা হয়েছে যে, ‘শত্রুর মুখোমুখি থাকা অবস্থায়ও যদি কোন ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করার সুযোগ থাকে আর তা ত্যাগ করা হয়,তবে সাতশ কবীরা গুনাহ করার মত পাপ হবে ক্বাযা আদায়ের ক্ষেত্রে বিলম্ব করাও নামাজ ওয়াক্ত মত আদায় না করার অনুরূপ কবীরা গুনাহ কোন নামাজের প্রথম ক্বাযা আদায়ের নিয়্যাত করে একটির ক্বাযা আদায়ের সাথে সাথে এই সমস্ত গুনাহ থেকে মুক্তি পাবে

সুন্নাত নামাজের বদলে ক্বাযা আদায়

হযরত আব্দুল কাদির জিলানীকুদ্দিসা সিররুহু তাঁর ফুতুহুল গায়িবনামক কিতাবেবলেছেন যে,মুমিনের সর্বপ্রথম ফরজসমূহ আদায় করা আবশ্যক ফরজ আদায় সম্পন্ন হলে সুন্নাতসমূহ আদায় করবে তারপর নফলসমূহ পালনে সচেষ্ট হবে ফরজের ঋণ বাকী থাকা অবস্থায় সুন্নাত আদায়ের জন্য মশগুল হলে বোকামি হবে কোন ইবাদতের ফরজ আদায় না করে সুন্নাত আদায় করলে তা কবুল হয় না হযরত আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনফরজ বাকী রয়ে গেছে এমন ব্যক্তি এর ক্বাযা আদায় না করে নফল পালন করলে তা অর্থহীন পরিশ্রম করা হবে ব্যক্তি ফরজের ক্বাযা আদায় না করা পর্যন্ত,আল্লাহ্ তায়ালা তার নফল নামাজ কবুল করবেন না” '#

হযরত আব্দুল কাদির জিলানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক উদ্ধৃত এই হাদিস শরীফের ব্যাখ্যায় হানাফী মাজহাবের বিখ্যাত আলেম হযরত আব্দুল হক দেহলোভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন যে,উক্ত খবরের দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যার ফরজের ঋণ রয়েছে তার সুন্নাত নফলসমূহ কবুল হয় না আমরা জানি যে, সুন্নাত ফরজকে পূর্নতা দান করে এর অর্থ হলো ফরজ আদায়ের সময় এর কামালাত বা পরিপূর্ণতা অর্জনের সবব হবে এমন কোন কিছুর ঘাটতি হলে, সুন্নাতসমূহ ফরজের কামাল পূর্ণ হওয়ার সবব হয় যার ফরজই আদায় হয়নি তার জন্য এর সাথে সম্পর্কিত সুন্নাতসমূহ আদায় করা কোন কাজে আসবে না

বাইতুল মুকাদ্দাস যেখানে অবস্থিত সেই কুদুস নগরীর কাজী হযরত মুহাম্মদ সাদিক রহমতুল্লাহি আলাইহি, ছুটে যাওয়া (ফায়িতা) নামাজের ক্বাযা আদায়ের ব্যাপারে বুঝানোর সময় বলেছেন,বিখ্যাত আলেম হযরত ইবনে নুযাইম রহমাতুল্লাহি আলাইহি'কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে,কারো যদি নামাজ ক্বাযা হয়ে থাকে আর সে ফজর,যোহর, আছর, মাগরিব এশার সুন্নাতসমূহকে ক্বাযা নামাজ আদায়ের নিয়্যাত করে পড়লে ব্যক্তি সুন্নাত ত্যগকারী হিসেবে বিবেচিত হবে কি এর জবাবে তিনি বলেছিলেন, সে সুন্নাত ত্যাগকারী হিসেবে বিবেচিত হবে না কেননা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সুন্নাতসমূহ আদায়ের মাকসাদ্ (উদ্দেশ্য)হলো, ওয়াক্তের মধ্যে ফরজ বাদেও অন্য কোন নামাজ আদায় করা শয়তানের ইচ্ছা হলো,কেউ যেন কোন নামাজ আদায় না করে এজন্য ফরজ বাদেও ওয়াক্তের মধ্যে আরেক নামাজ আদায়ের দ্বারা মূলত শয়তানের ইচ্ছাকে পদদলিত করা হয়, তাকে অপদস্ত করা হয় সুন্নাতের বদলে ক্বাযা নামাজ আদায় করলে,সুন্নাতের মাকসাও পূর্ণ হয় একারণে যার ক্বাযা নামাজ রয়েছে তার উচিত প্রত্যেক ওয়াক্তে ওয়াক্তের ফরজ নামাজ আদায়ের পরে অন্য নামাজ আদায়ের দ্বারা সুন্নাতের মাকসাদ্ পূর্ণ করার জন্য আগের ক্বাযা নামাজ আদায় করা অনেকেই ক্বাযা নামাজ আদায় না করে সুন্নাত পড়ে তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে অথচ যারা সুন্নাতের বদলে ক্বাযা আদায় করল তারা জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেল

ক্বাযা নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

যতদ্রুত সম্ভব ক্বাযা নামাজ আদায় করে এবং আলাদাভাবে এর জন্য তওবা করে জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত আর এরজন্য সুন্নাতসমূহও ক্বাযার নিয়্যাতে আদায় করা উচিত অলসতার কারণে যারা নামাজ আদায় করছে না বা যাদের বহু বছরের নামাজ ক্বাযা হয়েছে তারা যেই ওয়াক্তে নামাজ পড়তে আরম্ভ করবে সেই ওয়াক্তের সুন্নাত পড়ার সময় ওয়াক্তের প্রথম যে নামাজ ক্বাযা হয়েছে তা আদায়ের নিয়্যাত করে পড়বে তাদের জন্য সুন্নাতগুলিকে ক্বাযা নামাজের নিয়্যাতে আদায় করা চার মাজহাব অনুযায়ীই আবশ্যক

হানাফী মাজহাব অনুযায়ী,বিনা উজরে নামাজ ক্বাযা করা কবীরা গুনাহ একইসাথে নামাজ আদায়ের জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন ততটুকু খালি সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার দ্বিগুণ কবীরা গুনাহ হয় এভাবে যতক্ষণ ক্বাযা আদায় না করা হবে ততগুণে গুনাহ বৃদ্ধি পেতে থাকবে কেননা ক্বাযা নামাজ প্রথম সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে আদায় করাও ফরজ

অতএব হিসাব মিলানো কঠিন এই ভয়াবহ কবীরা গুনাহ থেকে এবং যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যোহরের নামাজের প্রথম চার রাকাত সুন্নাত আদায়ের সময়,যোহরের প্রথম যে ফরজ নামাজ ক্বাযা হয়েছিল তা আদায়ের নিয়্যাত করে পড়বে যোহরের শেষ দুই রাকাত সুন্নাত আদায়ের সময়, ফজরের প্রথম যে ফরজ নামাজ ক্বাযা হয়েছিল তা আদায়ের নিয়্যাত করে পড়বে আছরের চার রাকাত সুন্নাত আদায়ের সময়,আছরের প্রথম যে ফরজ নামাজ ক্বাযা হয়েছিল তা আদায়ের নিয়্যাত করে পড়বে মাগরিবের নামাজের দুই রাকাত সুন্নাতের বদলে,মাগরিবের প্রথম যে ফরজ নামাজ ক্বাযা হয়েছিল তার নিয়্যাতে তিন রাকাত ক্বাযা নামাজ আদায় করবে এশার ওয়াক্তের প্রথম চার রাকাত সুন্নাত আদায়ের সময়,এশার প্রথম যে ফরজ নামাজ ক্বাযা হয়েছিল তার নিয়্যাত করে আদায় করবে আর শেষ সুন্নাতের সময় প্রথম বিতর নামাজের ক্বাযা করার নিয়্যাতে তিন রাকাত আদায় করবে এভাবে প্রত্যেক দিন একেক দিনে ক্বাযা আদায় হবে তারাবীহর নামাজ পড়ার সময়ও ক্বাযার নিয়্যাত করে ক্বাযা আদায় করতে হয় যে কয় বছরের নামাজ ক্বাযা হয়েছে এভাবে ততবছর আদায় করে যেতে হবে ক্বাযা আদায় শেষ হলে,স্বাভাবিক নিয়মে সুন্নাত আদায় করা আরম্ভ করবে সুন্নাত বাদেও যখনই অবসর সময় পাওয়া যায় তখনই পূর্বের ক্বাযা আদায় করে ঋণ শেষ করা দরকার কেননা যত ক্বাযা নামাজ বাকী আছে তা আদায় না করা পর্যন্ত প্রতিদিন এর গুনাহ গুণে গুণে বৃদ্ধি পেতে থাকে

 

 

 

Bengali Darpan

We are the Teacher Group. We help students to build their career and future life . We teach subjects with insper for building a future career .We are a team Group Teacher .our team is strong to guide Bengali Hon. With all Pass & Compulsory paper & Library Science with Dissertation paper BLIS & MLIS .WBSSC, UGC NET & SET, KVS ,WBPSC

Post a Comment

Previous Post Next Post

Copyright (c) 2024 Ramadan Delights India All Rights Reserved